Home » আন্তর্জাতিক » এবার রোহিঙ্গাদের নৌকা ডুবিয়ে দিচ্ছে মিয়ানমার

এবার রোহিঙ্গাদের নৌকা ডুবিয়ে দিচ্ছে মিয়ানমার

elqcquq2ডেস্ক রিপোর্ট :    মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর ত্রিমুখী নৃশংসতায় দিশেহারা রোহিঙ্গা মুসলমানরা প্রাণ বাঁচানোর সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে সাগর ও খরস্রোতা নাফ নদীতে ঝাঁপ দিচ্ছে। দেশটি থেকে পালাতে তারা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও জেলেদের ছোট নৌকা উত্তাল সাগরে ভাসিয়ে দিচ্ছে। এদের অধিকাংশই গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে পানিতে ভাসছে। এপারে বিজিপি আর ওপারে বিজিবি, ফলে কোনো দিকেই যেতে পারছে না অসহায় মানুষগুলো। তার ওপর মিয়ানমার নৌবাহিনীর টহল দলের (কোস্টগার্ড) ভয়। সাগর ও নদীতে এই বাহিনী কর্তৃক অনেক নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল ভোররাতে হ্নীলা জাদিমুড়া সংলগ্ন নাফনদী পার হওয়ার চেষ্টা করে কয়েকটি পরিবার।

এ সময় রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু বোঝাই একটি নৌকা খরস্রোতা নাফ নদীতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুসহ আটজন নিখোঁজ হয়েছে। একই দিন বিকেলে নাজিরপাড়া নাফ নদীর উপকূলে ভাসমান এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। টেকনাফ মডেল থানার এসআই মাসুদ মুন্সী জানিয়েছেন, লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে উদ্ধারকৃত লাশটি রোহিঙ্গার। নৌকাডুবির ঘটনার স্বজনরা জানায়, মিয়ানমারের রাইম্যাবিল এলাকায় থেকে ১৫-১৬ জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু বোঝাই একটি নৌকা বাংলাদেশের জাদিমুড়া ঘাটে আসার সময় হঠাৎ করে মাঝপথে উল্টে ডুবে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা বয়স্ক নারী-পুরুষরা ডুবন্ত নৌকা ধরে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করে। এতে কয়েকজন রক্ষা পেলেও শিশুসহ আটজন নিখোঁজ হয়। নিখোঁজরা হলেন আনোয়ার ইব্রাহীম, আফসানা বিবি, মো. ইমরান, সাজেদ হোসাইনসহ আরো দুই মেয়ে। এ ছাড়া অজ্ঞাত এক মহিলা ও এক যুবকও নিখোঁজ হয়।

স্বজন হারানো রোহিঙ্গা হুমায়ুন কবির ও রোকেয়া বলেন, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে প্রাণ রায় বাংলাদেশে চলে আসার সময় নদীতে নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তারা জানান, অনেক নৌকা সে দেশের কোস্টগার্ড তলা পুটো করে ডুবিয়ে দিচ্ছে বলেও তারা জানতে পেরেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযানে এ পর্যন্ত ১২ শতাধিক বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। এসব স্থাপনা রোহিঙ্গাদের মালিকানার। অপরদিকে এ অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। পৈশাচিক কায়দায় হত্যা অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি চলছে রোহিঙ্গা নারীদের নির্বিচারে ধর্ষণ। ফলে বসতবাড়ি হারা এসব রোহিঙ্গার বড় একটি অংশ সীমান্তের ওপারে জড়ো হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন জানায়, প্রায় এক মাস যাবৎ মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের গ্রামগুলোতে হামলা চালিয়ে অধিকাংশ পুরুষকে আটক করে নিয়ে গেছে। তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিবারের অনেককে হত্যা করে ও নারীদের ধর্ষণ করেছে। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার পর তারা মিয়ানমারের নাফ নদী উপকূলে প্যারাবন ও জঙ্গলে অনাহারে-অর্ধাহারে বেশ কয়েক দিন কাটানোর পর শেষে জীবন বাঁচাতে তারা নদী পথে সরে পড়ার চেষ্টা করছে।

About admin1

Leave a Reply