নাফ নদীতে ভাসছে রোহিঙ্গাদের লাশ

naf-tire-vascehটেকনাফ প্রতিনিধি– রাখাইন রাজ্যের কিছু মানুষ অবস্থান করছিল নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল তারা। এ সময় গুলি চালায় মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ বিজিপি। মিয়ানমারের মংডুর প্রাংপ্রো এলাকার বাসিন্দা মিনারা বেগম মোবাইল ফোনে এই তথ্য জানিয়েছেন। তার বাড়ি নদীতীরের কাছাকাছি। তিনি জানান, তিনিসহ অনেকে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে অনেক মৃতদেহ দেখেছেন। তারা প্রায় ৪৩টি মৃতদেহ দেখেছেন বলে জানান। নিহতদের মধ্যে নারীও আছে। এছাড়া টেকনাফ বড়ইতলী গ্রামের আজিজ উদ্দিন জেলেদের বরাত দিয়ে জানান, সকালে নাফ নদীর মাঝামাঝি বেশ কয়েকটা মৃতদেহ দেখেছেন। ওই রাতে বিজিপি অভিযান চালিয়ে ৬৬ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নৌকাসহ ধরা পড়ে। আটকদের মংডু শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান মিনারা। এদিকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় ৬টি নৌকা বোঝাই ৬০ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে দিয়েছে বিজিবি। গত বৃহস্পতিবার রাত হতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত নাফ নদীর চারটি পয়েন্টে থেকে এদের ফেরত পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জার আল জাহিদ। তিনি জানান, ১ ডিসেম্বর ভোরে বিভিন্ন পয়েন্টে থেকে ১১টি নৌকায় শতাধিক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি। রোহিঙ্গা পরিবারকে সহায়তা : মো. কায়েস (৮) মিয়ানমারের মংডু পোয়াখালী গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে। নভেম্বরের মাঝামাঝি বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয় বাবা জামাল ও মা ইয়াসমিনকে। প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে সে বাংলাদেশে চলে আসে। ১০-১২ দিন আগে রাতে টেকনাফের লেদা ক্যাম্পে এসে এক আত্মীয়ের কাছে আশ্রয় নেয়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সে পায় আইওএমের একটি ব্যাগ। ওটা পেয়ে খুব খুশি। কায়েস জানায়, মালয়েশিয়ায় তার তিন ভাই রয়েছে। লেদা অনিবন্ধিত ক্যাম্পে নতুন আসা ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে গতকাল তৈজষপত্র (নন ফুড আইটেম) বিতরণ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। পরিবার প্রতি নীল রঙের একটি ব্যাগ দেওয়া হয়। এ ব্যাগে আছে ২টি কম্বল, ১টি মশারি, ১টি থামি, ১টি লুঙ্গি, ১টি কলস, গ্লাস ২টি, ২ ডেকসি, ২টি বাসন, ১টি গামছা, শার্টের কাপড়, দেয়াশলাই ও মোমবাতি। আইওএমের জাতীয় প্রোগ্রাম অফিসার সৈকত বিশ্বাস জানান, এটি নিয়মিত কার্যক্রম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *