বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল ৪ লাইটারেজ ও পাচ নাবিক নিখোঁজ

চট্টগ্রাম স্টাফ রিপোর্টার :    অল্পের জন্য রক্ষা পেলো বঙ্গোপসাগর থেকে কর্ণফুলী নদীতে অর্থাৎ চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের পথ। শাহ্ সিমেন্টের ক্লিংকারবাহী লাইটার জাহাজটি নদীমুখে ডুবে গেলে বন্ধ হয়ে যেত দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরের চ্যানেল। জাহাজ মাস্টার ডুবতে যাওয়া নৌযানটি চালিয়ে কাফকো অংশে নিয়ে যাওয়ায় তা এক ও তিন নম্বর বয়ার মাঝামাঝি স্থানের চরে গিয়ে আটকে যায়। জোয়ারের সময় এমভি ল্যাবস-১ নামের ডুবে যাওয়া জাহাজটির শুধু মাস’ল দেখা গেলেও ভাটার সময় প্রায় অর্ধেকই দেখা যায়। এই জাহাজ ছাড়াও পৃথক ঘটনায় গতকাল বন্দর চ্যানেলে এমভি মজনু নামে আরো একটি এবং সন্দ্বীপ চ্যানেলে এমভি গ্লোরি অব শ্রীনগর-৪ ও এমভি দারিনদারসাব নামে আরো দুটি জাহাজ ডুবে যায়। সংঘর্ষ, যান্ত্রিক ত্রুটি আর ঘন কুয়াশার কারণে ভোর সাড়ে ৪টা  থেকে সকাল ১০টার মধ্যে এই চারটি জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটলো। এদিকে জাহাজে থাকা সিমেন্ট ক্লিংকার, ভুট্টা, চিনি ও টিএসপি সার বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেলেও পাচ নাবিক এখনো নিখোঁজ। বাকিদের কাউকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড, কেউ সাঁতার কেটে উপকূলে এসেছেন। মোহনায় জাহাজটি কীভাবে ডুবেছে -জানতে চাইলে এমভি ল্যাবস-১ এর মাস্টার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বড় জাহাজ থেকে মাল লোড করার পর বয়া থেকে নোঙর খুলে ঘোরানোর সময় আমার ইলেকট্রিক সুকন ফেল করে। তখন জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যেতে থাকে। এসময় উদ্ধারের জন্য বন্দর ও কোস্টগার্ডকে ম্যাসেজ পাঠাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘জাহাজ উদ্ধারের জন্য কোস্টগার্ডের টিম আসার আগে জাহাজটি চালিয়ে একটু তীরের দিকে (কাফকো অংশে) নিয়ে যাই। ওখানে জাহাজটি চরে আটকে যায়। এসময় কোস্টগার্ডের সদস্যরা আমার জাহাজের ১৩ নাবিককে উদ্ধার করে। শাহ্ সিমেন্টের ১ হাজার ৫শ টন ক্লিংকার নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল আমাদের।’ এ বিষয়ে কথা হয় কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারী জাহাজের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ওমর ফারুকের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমরা ম্যাসেজ পাওয়ার পরপরই ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গিয়ে এমভি ল্যাবস-১ এর ১৩ নাবিককে উদ্ধার করি। তবে যদি লাইটার জাহাজটি চ্যানেলের মাঝখানে ডুবে যেত, তাহলে বন্দরে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যেত।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের ডক মাস্টার জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্দর চ্যানেলের মুখের দুইদিকে দুটি লাইটার জাহাজ ডুবেছে, তবে বন্দর চ্যানেল বিপদমুক্ত রয়েছে।’ জাহাজডুবির বিষয়ে জানতে চাইলে লাইটার জাহাজ বুকিং দেওয়া সংগঠন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের কর্মকর্তা আতাউল করিম রঞ্জু বলেন, ‘পণ্যবাহী ৪টি জাহাজ দুর্ঘটনায় ডুবে যায়। এর মধ্যে বেশিরভাগ নাবিক সাঁতার কেঁটে উপকূলে আসতে সমর্থ হলেও দুজন এখনো নিখোঁজ। এরা ‘এমভি শ্রীনগর-৪’ জাহাজের কর্মী।’ দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে লাইটার জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের বলেন, এমভি ল্যাবস-১ ও এমভি মজনু বন্দর চ্যানেলের মোহনার দুই প্রান্তে এবং এমভি দারিনদারসাব ও এমভি গ্লোরি অব শ্রীনগর-৪ সন্দ্বীপে ডুবে যায়। ঘন কুয়াশার কারণে এসব জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *