খাগড়াছড়িতে ফটো সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা

nirob-chowdhary-pic-khagrachari-1প্রেস বিজ্ঞপ্তি : বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)-এর খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি সোনয়ন চাকমা ও সম্পাদক অমল ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি দ্বিতীয়া চাকমা ও সম্পাদক চৈতালী চাকমা এবং গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি লালন চাকমা ও সম্পাদক পলাশ চাকমা সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম কর্তৃক খাগড়াছড়ি জেলার প্রথম আলো পত্রিকার ফটো সাংবাদিক নীরব চৌধুরীকে মারধরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি নুরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদাক ফোরকানুল হক সাকিব, প্রচার সম্পাদক শাহীন আলম, অর্থ সম্পাদক আবুল হোসেন রিপন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ইমরান হোসেন এবং রফিকুল ইসলামসহ সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ খাগড়াছড়ি জেলার প্রথম আলো পত্রিকার ফটো সাংবাদিক নীরব চৌধুরীকে পৌরসভার মেয়র কর্তৃক মারধরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় নীরব চৌধুরী পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য চেঙ্গী নদীর রাজ্যমুনীপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু তোলার ছবি তুলতে যান। এ সময় অজ্ঞাত এক যুবক ছবি তুললে সমস্যা হবে বলে তাঁকে হুমকি দেন। এরপর যুবকটি দিদার নামের আরেক একজনকে মুঠো ফোনে ঘটনাস্থলে চলে আসতে বলেন। দিদার এসে জোরপূর্বক সেখান থেকে নীরবকে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে পৌরভবনে নিয়ে যায়। এরপর মেয়র রফিকুল আলম চাঁদা বাজির অভিযোগ তুলে তাঁকে বেদম মারধর করেন। পরে নীরব চৌধুরীর কাছ থেকে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা নিয়ে দুপুরের দিকে তাঁকে ছেড়ে দেন মেয়র। বর্তমান নীরব চৌধুরী খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে রফিকুল আলমের মতো প্রভাবশালী দুর্বৃত্তরা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনেও বাধা সৃষ্টি করছে। এর মাধ্যমে তারা অবৈধ কর্মকান্ড জায়েজ করতে চাইছে। এসব দুর্বৃত্তদের হাতে সাংবাদিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ অহরহ এ ধরনের ঘটনার শিকার হলেও প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণে তারা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে।

[highlight]খাগড়াছড়ির প্রথম আলোর আলোকচিত্রী নীরব চৌধুরীকে মারধরের ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দার ঝড়[/highlight]

খাগড়াছড়িতে ইজারা বিহীন অবৈধ বালু উত্তেলনের ছবি তুলতে গিয়ে লাঞ্চিত ও পরে পৌরসভার সচিবের কক্ষে খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম কর্তৃক মারধরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক ও সাংবাদিকসহ পেশাজীবি সাংবাদিকরা।

এ ঘটনায় খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামালীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, সাংবাদিকদের উপর এ ধরনের হামলা অকল্পনিয়। সাংবাদিক উপর একজন জনপ্রতিনিধির এ আচরণ সকলের অপ্রত্যাশিত। পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, এ ঘটনা নিন্দনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেয়র হয়ে এ ঘটনা ধরনের কর্মকান্ড প্রত্যাশিত নয়।

খাগড়াছড়ির জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে পেশাগত সাংবাদিকের গায়ে হাত তুলতে পারেন না। রফিকুল আলম একের পর এক সংবাদপত্রের উপর হস্থক্ষেপসহ স্বাধীনতা ক্ষর্ব করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এছাড়াও একের পর এক ধারাবাহিক ভাবে সাংবাদিক এইচ এম প্রফুল্ল, সুকুমার বড়–য়া, নুরুল আজমকে প্রকাশ্যে হামলা মারধর, অপু দত্তসহ সাংবাদিক সমাজকে হুমকি ও কাল রবিবার দৈনিক প্রথম আলোর আলোকচিত্রী নীরব চৌধুরী মারধরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন, গুইমারা উপজেলা প্রেস ক্লাব, খাগড়াছড়ি ইউপিডিএফের সংগঠনক মিঠুন চাকমা, সহ পেশাজীবি সংবাদকর্মীরা তীব্র নিন্দা ও জানিয়ে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবী করেন।

প্রসঙ্গত: রবিবার সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ির রাজ্যমণি পাড়ায় অবৈধ বালু মহালের ছবি তোলায় প্রথমে দিদার (প্রকাশ কসাই দিদার) কর্তৃক লাঞ্চিত ও পরে খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম নিজে তাকে সচিবের কক্ষে মারধর করে। পরে আহত অবস্থায় আলোকচিত্রী নীরব চৌধুরীকে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তিকরা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *