মানিকছড়িতে বার্ষিক ক্রীড়া, পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে-কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (এম.পি)

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: মানিকছড়ি উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৩ যুগ পর ব্যাপক আয়োজনে বার্ষিক ক্রীড়া, পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে।
১২ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১১টায় স্কুল মাঠে নবাগত প্রধান শিক্ষক মো. মোফাজ্জাল হোসেন এর সভাপতিত্বে এবং সহকারি শিক্ষক অজিত কুমার নাথের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত বার্ষিক ক্রীড়া, পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ম্্রাগ্য মারমা, ইউএনও বিনিতা রানী, জেলা পরিষদ সদস্য এম.এ. জব্বার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম.এ. রাজ্জাক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেলা আক্তার, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম ফারুক, মো. শহীদুল ইসলাম মোহন, মো. রফিকুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈন উদ্দীন, দপ্তর সম্পাদক এম.ই. আজাদ চৌধুরী বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.সফিউল আলম চৌধুরী, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মো. শাহ আলম, যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. সামায়ন ফরাজী সামু, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহেদুল আলম মাসুদ, ছাত্রলীগ সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল প্রমূখ।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে তৎকালীন মংরাজার নামকরণে প্রতিষ্ঠিত‘রাণী নিহার দেবী উচ্চ বিদ্যালয়’টি ১৯৮৮ সালে সরকারিকরণ হয়। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়ে এখানে প্রধান শিক্ষক পদটি শুন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে ছিল বেহালাবস্থা! ফলে অভিভাবকরা ছিল হতাশাগ্রস্থ। সম্প্রতি এখানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে যোগদান করেন মো. মোফাজ্জাল হোসেন। বিদ্যালয়ে পরিবেশও পড়ালেখার মান পর্যালোচনায় তিনি প্রতিষ্ঠানকে নতুন সাজে সাজাতে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকের মাঝে সেতু বন্ধনের উদ্যোগ নেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১২ জানুয়ারী দিন ব্যাপি অনুষ্টিত হয় বার্ষিক ক্রীড়া, পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশ।
12(1)সমাবেশের শুরুতে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোফাজ্জল হোসেন তাঁর লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরেন দীর্ঘ পরিকল্পনা। এতে তিনি ছাত্র,শিক্ষক ও অভিভাবকের মাঝে সেতু বন্ধন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মো. মাঈন উদ্দীন, মো. শফিকুল ইসলাম ফারুক, মো. জয়নাল আবেদীন, এম.এ. রাজ্জাক, এম.এ. জব্বার, বিনিতা রানী, ম্্রাগ্য মারমা ও প্রধান অতিথি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা(এম.পি)। প্রধান অতিথি তাঁর দীর্ঘ দু’ঘন্টার রাজনৈতিক ভাষনে আওয়ামীলীগ সরকারের ২০২১ সালের ভিশন সর্ম্পকে বলেন, বিশ্ব আজ এগিয়ে যাচ্ছে, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশকে উন্নয়নের মূল সড়কে এনে দাঁড় করিয়েছে। তৃণমূলে গত ৮ বছরে এ সরকার যেসব উন্নয়ন করেছে তা বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে। বিশ্ববাসী এখন বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে আওয়ামীলীগের শাসনের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। তিনি বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ছাত্র,শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষৎ। ফলে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের চেয়ে, শিশুকে মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে পুঁজি বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। আর তাতে সফলতা পেতে হলে ছাত্র,শিক্ষক ও অভিভাবকের মাঝে সেতু বন্ধন গড়ে তুলতে হবে। তবেই প্রতিটি শিক্ষার্থী আদর্শবান নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। পরে প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত অতিথিরা বার্ষিক ক্রীড়ায় বিজয়ী ও বিজিত শিক্ষার্থীদের হাতে এবং অতিথিদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *