অভিনব উপায়ে খাগড়াছড়িতে বেইলী ব্রীজের সরঞ্জাম পাচারের অভিযোগ

[highlight] সুষ্ঠ তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য[/highlight]

স্টাফ রিপোর্টার:  খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা, রামগড়, মানিকছড়ি থেকে একের পর এক সকলের চোখে ধুলো দিয়ে বেইলী ব্রীজ ও পুরনো গাড়ির সরঞ্জাম অভিনব পদ্ধতিতে ব্রীজের যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অনেক সময় পরিত্যাক্ত দেখিয়ে এ সকল সরঞ্জাম মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পাচার করেছে একটি চক্র। উপজেলা স্থানীয় সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা,কর্মচারীদের যোগ সাজেশে পুরনো গাড়ি পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে কিন্তু লক্ষ লক্ষ টাকার যন্ত্রাংশ নেই।
খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রাম মহা সড়ক ও ফেনী থেকে খাগড়াছড়ি প্রায় ২৭টি নতুন ব্রীজ নির্মান হয় কিন্তু পূর্বের বেইলী ব্রীজের সরঞ্জাম মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পাচার করেছে চক্রটি। সুষ্ঠ তদন্ত করলে ব্রীজের যন্ত্রাংশ পাচারের রহস্য বেরিয়ে আসবে। বিশেষ করে মানিকছড়ি,গুইমারা, রামগড় উপজেলায় স্থানীয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ অফিসের সামনে/আশপাশে পরিত্যাক্ত বেইলী ব্রীজের কোন যন্ত্রাংশ চোখে পড়ছে না।
বিষয়টি নিয়ে গুইমারা উপজেলা স্থানীয় সড়ক ও জনপদ বিভাগের ওয়ার্ক স্টান মো: কাউছার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি জেলার উপজেলায় স্থানীয় সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা না থাকায় তিনি কিছু বলতে পারচ্ছেনা। তিনি আরো বলেন, খাগড়াছড়ি জেলায় শুধু মাত্র একজন এস.ডি স্থানীয় সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা সবুজ চাকমা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরক্ষণে, স্থানীয় সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা সবুজ চাকমা এস.ডির সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি  বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব পালন করছি বিষটি আমি অবগত না, আমি সরকারী কাগজ পত্র দেখে আমি আপনাদের জানাবো।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইতিপূর্বে টার্মিনাল সংলগ্ন নির্মিত কালভার্ট ব্রীজটি নির্মাণের সময় তৈরী করা ডাইভার্ট বেইলী ব্রীজটি খুলে ফেলা হচ্ছে। এ সময় কর্মরত শ্রমিকরা জানান, এ ব্রীজের সকল সরঞ্জাম বান্দরবান যাবে। পরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে দীর্ঘ সময় তারা কোন ধরনের জবাব দিতে না পারলেও এক পর্যায়ে ফটোকপির কয়েকটি কাগজে বন্ধের দিন ৫ এপ্রিল ২০১৪ খাগড়াছড়ি (সড়ক উপ-বিভাগ-১) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মমতাজুর রহমানের হস্ত রশিদ-৩৮ এ স্বাক্ষর দেখিয়ে অর্ডার তৈরী করে আনেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা ব্রীজের পাটাতনসহ যন্ত্রাংশ নেওয়ার সরকারী অর্ডার দেখতে চাইলে দেখাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা, রামগড়, মানিকছড়ি উপজেলায় বিভিন্ন সময় বেইলী ব্রীজ ও পুরনো গাড়ির বিভিন্ন অংশ পরিত্যাক্ত অবস্থায় ছিল, সে সব সরঞ্জামগুলো তবে কি এভাবেই পাচার করা হয়েছে? এর আগেও অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার সরকারী যন্ত্রাংশ পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সড়ক ও জনপদ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারীদের যোগ সাজেশে এ ধরেনের অনিয়ম হয়ে আসলেও তার কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করে পাচারকারী চক্রটি আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *