খাগড়াছড়িতে প্রকাশ্যে সাংবাদিক’কে হত্যার হুমকি

TT-3নিজেস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতাশীন দলের প্রভাবে এক সাংবাদিক হত্যার হুমকি দিয়েছে আবুল হোসেন ও আমির হোসেন দু’যুবক। প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে মানিকছড়ি উপজেলাধীন তিনট্যহরীতে অবৈধ ভাবে জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ শেষে এবার কাটতে শুরু করেছে আবু তালেবসহ তিন ভাইয়ের জায়গার লাগানোগাছ।

এ বিষয়ে দখলদারদের করা মামলার হাজিরা দিতে গেলে তারা সাংবাদিক নুরুল আলমকে আবুল হোসেন ও আমির হোসেনসহ ৫/৬ জন প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়। তারা অবৈধ ভাবে জায়গা দখল করতে মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহার করে চলেছে। নুরুল আলম তার ৩ ভাইসহ ৪ জনের জায়গায় জোর করে সাইন বোর্ড লাগিয়ে জায়গা জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মুুক্তিযোদ্ধার সন্তানের নাম ব্যবহার করায় এখন যেন অসহায় স্থানীয় পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। ফলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও ভূমি দস্যুদের ইন্ধনে হয়রানীর শিকার হচ্ছে এ পরিবারটি। এ ভূমি নিয়ে হাই কোর্টের আদেশ থাকলেও তা উপেক্ষা করছে ভূমি দস্যুরা। তার পরও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কোন ধরনের আইনি সহায়তার স্থলে এ বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই বলে জানান।

এদিকে এ জায়গা দখলের চেষ্টায় আবুল নামের এক যুবকে জায়গা দখলে সহায়তা করছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড মানিকছড়ি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দানকারী মো: আমির হোসেন নামের এক ব্যক্তি। এ সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেয় তাদের ভাড়াটিয়া ক্যাডার বাহিনী।

পূর্বে মৃত্য ছিদ্দিক আহম্মদের ৩ ভাইয়ের ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জায়গার নিচে জমির অংশে মুক্তিযোদ্ধার সাইন বোর্ড লাগিয়ে হাই কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে জায়গা দখলের চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হস্থক্ষেপে অবৈধ দখল রোধ হলেও বর্তমানে টিলা ভূমি দখল করে এবং বর্তমানে ঐ জায়গার জায়গার মালিক আবু তালেবগংদের লাগানো গাছ কাটতে শুরু করেছে।

ইতি মধ্যে নানা অনিয়ম দুর্নীতি,জবর দখল ও ভূয়া কাগজপত্রে দেখিয়ে জায়গা দখল চেষ্টাসহ মানিকছড়ি উপজেলায় চলছে জোর যার মুল্লাক তার মত অবস্থা। আইন শৃংখলার অবনতি ঘটেছে মানিকছড়ি উপজেলায়।  তার পরও ক্ষমতাশীন দলের ছত্র-ছায়ায় থাকা এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। ফলে দিন দিন বাড়ছে ভূমি বিরোধসহ নানা সমস্যা।

সম্প্রতি রাঙ্গামাটির কাপ্তাইবাদের ক্ষতিগ্রস্ত প্রজা মৃত্যু ছিদ্দিক আহম্মদের ছেলেদের জায়গা ভূয়া কাগজপত্র প্রদর্শন করে তিনট্যহরী গুচ্ছগ্রাম ও মাদ্রাসা সংলগ্ন জায়গায় একটি মহল সু-পরিকল্পিতভাবে ঘর নিমার্ণে মাঠে নেমেছে। এক পর্যায়ে তারা মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহার করে সাইন বোর্ড লাগিয়ে দিয়ে দখলের চেষ্টা করে এবং খাগড়াছড়ি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে জায়গার মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। পরে আজ সোমবার বিচারিক আদালত শুনানিতে দখলের চেষ্টাকারীদের প্রদর্শিত কাগজপত্র ভূয়া প্রমাণিত ভিত্তিহীন অভিযোগের ফলে মামলাটি খারিজ করে দেয়।

এদিকে দখলের চেষ্টাকারীদের প্রদর্শিত কাগজে জায়গার বিক্রয়কারী হিসেবে উল্লেখিত আব্দুর রহিম এ ধরণের কোন কাগজপত্র দেননি বলে জানিয়ে বলেন, আবুল ও আমির হোসেন যোগ সাজশে ফাতেমা বেগমের কোর্টে প্রদর্শিত কাগজপত্র ভূয়া,বানোয়াট বলে তিনি জায়গার মালিকদের কাছে স্বীকার করেন।

প্রসঙ্গত: গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় পরিকল্পিত ভাবে মৃত ছিদ্দিক আহম্মদের ছেলেদের পৈত্তিক সম্পক্তি সাইন বোর্ড লাগিয়ে ৪০/৫০ জন লোক নিয়ে ঐ জায়গা দখলের চেষ্টা করে। জায়গার মালিক হাই কোর্টের রিটকারী আবু তালেবসহ তার ভাইদের মারধরের জন্য দখলের চেষ্টাকারীরা খোজাখুজি করে। বিষয়টি খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়। গত ৩০ অক্টোবর ২০১৬ হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে বিরোধীয় সম্পত্তির স্থিতি বজায় রাখতে লিখিত আদেশ জারী করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *