খাগড়াছড়িতে শতাধীক অবৈধ বালু মহাল : নীরব প্রশাসন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধ: খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ৫ শতাধীক বালু মাহালে বালু উত্তোলন সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসন নীরব থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকা বাসি। দিনের পর দিন অবৈধ ভাবে সরকারী ইজারা ছাড়াই বাইল্যাছড়িসহ গুইমারা উপজেলাধীন বিভিন্ন স্থান থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে চললেও দেখার কেউ নেই। স্থানীয় প্রশাসন যেন এখন নীরব দর্শক। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের নিকট অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ও জেলার সবকটি বালু মহাল ইজারা দানের দাবী জানিয়েছে সচেতন মহল। বালু মহাল ইজারা দিলে বছরে আয় হবে, সরকার রাজস্ব পাবে এবং ব্যবসায়ীরা বৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করতে পারবে।

সম্প্রতি জতীয় ও দৈনিক পত্রিকাসহ একাধিক পত্রিকায় সংবাদটি প্রচারের পরেও কোন প্রশাসনের টনক নড়েনি। ইজারাহীন এ সব বালু মহালের নিয়ন্ত্রনে থাকারা সরকার দলীয় লোকজন হওয়ায় প্রশাসন নীরব। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালু মহালের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি বালু মহাল নিয়ন্ত্রনের জন্য স্থানীয় ইউএনও ও পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয় চলছে বলে দাবী করেন।

গুইমারা বাইল্যাছড়ি এলাকায় অবস্থিত এসব বালু মহালের কোন নিয়ম না মেনে মেশিনের সাহার্য্যে প্রতিনিয়তই উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। উপজেলা জুড়ে এসব বালু বিক্রয় হলেও সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। পাশাপাশি নির্মিত সেতুর স্থায়িত্ব ঝুকি নিয়েও রয়েছে জনমতে নানা প্রশ্ন। এ অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গিয়ে প্রথম আলোর আলোকচীত্রি সাংবাদিক লাঞ্চিত হয়েছে ক্ষমতাশীন দলের খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র এর হাতে।

বালু ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ দেরকে পারসেন্টিস দিয়ে চুক্তি ভিত্তিক বালু উত্তোলনের ব্যবসা চালাচ্ছি। অন্যান্ন বালু ব্যবসায়ীরাও আমার পথ অনুস্বরণ করে বেশ কয়টি বালু উত্তোলনের কাজ অভ্যহত রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত রয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের। কিছু অংশ নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বাইল্যাছড়ি বসবাসরত কিছু প্রভাবশালী উপজাতীয় হেডম্যান কার্বারী ও স্থানীয় মেম্বার।

তবে কোন বালু মহালেরই ইজারা নেই জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম মশিউর রহমান জানান, বালু মহালের কোন ইজারাদার নেই। কয়েকটিতে আমরা তদন্ত করে জরিমানা করেছি, বাকী সবকটিতে আমরা প্রয়জনীয় আইনি ব্যবস্থা অতিসীগ্রই নিব বলে আশ্বাস দিলেও এখনও কোন ব্যবস্থা বা ইজারা দেননি।

অপরদিকে মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী বাজার সংলগ্ন খাল, গচ্ছাবিল খাল, মহামুনি খাল ও যোগ্যাছোলা বাজার সংলগ্ন খাল থেকে মেশিনের সাহায্যে প্রশাসনের সামনেই চলছে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন। মানিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বসবাসরত কিছু প্রভাবশালী একটি মহল। বালু উত্তোলনকারী ব্যবসায়ীরা রাতে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে সরকারি রাজস্ব ফাঁকী দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে পাচারের দৃশ্য দেখে মনে হয়, সরকারি প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়াতে।

এব্যাপারে মানিকছড়ি নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট বালু উত্তোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি বিষয়টি আমার এখনও অজানা। আমি তদন্ত করে বালু উত্তোলনের ইজারা আছে কিনা বা কতটি বালু মহাল আছে তা নিশ্চিত হয়ে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব বলে তিনি জানান। কিন্তু এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার কোন বীহিত-ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *