খাগড়াছড়ির ২৯ ইট ভাটাকে হাই কোর্টের আইনজীবির লিগ্যাল নোটিশ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির ২৯ ইট ভাটা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক, বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের ৩৬ জনকে লিগ্যাল দিয়ে অবৈধ ভাবে ইটভাটা চালানোর বিষয়ে জবাব দিতে নোটিশ দিয়েছে হাই কোর্টের আইনজীবি।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন-২০১৩ (২০১৩ সালের ৫৯ নং আইন) এর ১২ ধারায় এ নোটিশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি মোহাম্মদ নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রাপ্ত নোটিশ সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

জানা যায়, নোটিশ জারীর এক সপ্তাহের মধ্যে ২৯  ইট ভাটার মালিক, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৬ জনকে এ নোটিশ দেওয়া হয়। এতে নোটিশ জারীর ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। মানিকছড়ি উপজেলার সচেতন নাগরিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ নোটিশ জারী করে হাই কোর্টের আইনজীবি মোহাম্মদ নুরুল আমিন।

প্রসঙ্গত: খাগড়াছড়ির ৯টি ইট ভাটায় অবৈধ ভাবে ২৯টি ভাটায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইটভাটা নির্মাণ করে পাহাড়ী কচিকাচা গাছ পুড়িয়ে উজাড় করছে বনজ সম্পদ। ইট ভাটা নির্মাণ ও ইট পোড়ানোর সুনিদিষ্ট আইন থাকলেও তা মানছেন না কেউ। তার পরও নীবর প্রশাসন।

খাগড়াছড়িতে ইট ভাটায় আইন লঙ্ঘনের হিড়িক:পুড়ছে কোটি টাকার কাঠ
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়িতে দুর্নীতির মাধ্যমে চলছে অবৈধ ইটভাটা : হুমকীতে পরিবেশ। লাইসেন্স বিহীন ২৯টি ইটভাটায় নির্বিচারে পোড়ানো শুরু হয়েছে পরিবেশ ধ্বংস করে পাহাড়ী বনাঞ্চলের কচিকাচা গাছ। ইট তৈরীতে কয়লার স্থলে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ের মাটি। তারপরও অনুমতি বিহীন এসব ইটভাটা বন ও পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ চললেও দেখার কেউ নেই।

তবে ইটভাটার মালিক ও জেলা ইটভাটা সভাপতি/সম্পাদক’কে ৩শ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের মাধ্যমে অঙ্গিকার নামার মাধ্যমে ভাটা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি জানা যায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায়। গত ২৩ নভেম্বর বিকেলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত সভার বিবরণিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝূঁকিতে থাকা সত্ত্বেও এসব ইটভাটার মালিকরা প্রভাব খাটিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বিশেষ মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে ফসলি জমি, জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং নদীর তীরে গড়ে তুলেছে এসব ইটভাটা। খাগড়াছড়ি জেলা সদরসহ ৯টি উপজেলায় জ্বালানীকাঠ নির্ভর ২৯টি অনুমোদন বিহীন ইটভাটার জ্বালানীর যোগান দিতে উজাড় করা হচ্ছে পাহাড়ের সবুজ বেষ্টনী ও পাহাড়ী বনাঞ্চল।

অভিযোগ আছে, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই অবৈধ ইটভাটাগুলো বছরের পর বছর ধরে বীরদর্পে অপকর্ম করেই যাচ্ছে। প্রত্যেক মৌসুমের মুচলেকা আদায়ের মাধ্যমে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা নিজেদের দায় এবং আখের গুছালেও অবৈধ ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করা যায়নি। আর কখনো বন্ধ থাকেওনি। এবছরও ঠিক তাই ঘটতে যাচ্ছে খাগড়াছড়িতে।

স্থানীয় সূত্র থেকে তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়িতে ২৯টি ইটভাটার মধ্যে ২৯টিই ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোন ছাড়পত্র নেয়। এসব ভাটা জনবসতিপূর্ণ কৃষি জমি নিকটবর্তী স্থানে অবস্থান এবং বেশির ভাগেই ব্যবহার হচ্ছে (টিনের) ড্রাম ছিমনী। তারপরও অনুমোদন বিহীন এসব ইটভাটার উৎপাদন কখনো বন্ধ থাকেনি। এবারও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে শুরু করেছে উৎপাদন।

উপজেলা বেশকয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, কয়লা ব্যবহারের স্থলে পাহাড়ে কচি কাচা গাছ আর ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনির স্থলে ২০/৩০ ফুট উচ্চতার ড্রাম চিমনী ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এ সব ভাটার গড়ে উঠেছে ধানের ফসলি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। এসব ভাটায় শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদেরও। যা আইনে সম্পূন্ন নিষিদ্ধ। এছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলায় প্রতিবার ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে লাখ লাখ মণ পাহাড়ী বনের গাছ। যার মূল্য কোটি কোটি টাকা।তাবে রহস্যজনক কারণে বন বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসন নীরবতা অভিযোগ থাকলেও এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোমিনুর রশীদ বলেন, জ্বালানী হিসেবে পাহাড়ি গাছ পোড়ানো বিষয়ে আমরা অভিযান পরিচালিত করছি। ইতিমধ্যে মাটিরাঙ্গা ও রামগড়ে জ্বালানী গাছ বোঝায় গাড়ি আটক করা হয়েছে। এ অভিযান পুরো জেলায় অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

সংরক্ষিত বন, ফসলি জমি ও বসত বাড়ী ঘেঁষে অবৈধ ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কিছু ইটভাটা।তিন পার্বত্য জেলায় বনবিভাগের আওতাধীন গাছ কেটে উজাড় করছে। পরিবেশের ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, ইটভাটা নির্মাণকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার বাঁধা দিয়েও কোন কাজ হয়নি। কর্মকর্তারা জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী বনের ফরেষ্ট রেঞ্জের অধীনে সরকারী বাগানের দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোন ইটভাটা নির্মাণ করা যাবেনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়: বান্দরবান জেলার আলীকদম এলাকায় ইটেরভাটা সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যুবক জানান, ইটভাটা যারা নির্মাণ করছে, তাঁরা পয়সাওয়ালা ও প্রভাবশালী।টাকা দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে রেখেছে। সেটি হলে অবশ্যই বনসহ পরিবেশের ব্যপক ক্ষতি হবে।

অত্র জেলায় ৪০টিরও অধীক ইটেরভাটা রয়েছে যা বন বিভাগের সংরক্ষিত বাগানের কচি-কাচা গাছ কেটে বিভিন্ন ভাবে ক্ষতী সাধন করছে। তবে গ্রামবাসীরা বা সচেতন কোন ব্যক্তি বনবিভাগে কোনো প্রকার মৌখিক বা লিখিত ভাবে কিছু জানায়নি বলে জানিয়েছে বন বিভাগের এক কর্মকর্তা। ইটভাটা নির্মানে পরিবেশ ছাড়পত্র বা লাইসেন্স আছে কিনা জানাতে অনীহা প্রকাশ করেন মালিক পক্ষ।

অপরদিকে: পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবানেও প্রায় ১শতেরও অধীক ইটভাটা রয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কার্যালয়ে গিয়ে ইটের ভাটা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় কর্মকর্তা জানান, পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কেউ কোন ইটভাটা নির্মাণ করতে পারবে না। পরিবেশ আইন অমান্য করে কাউকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হবেনা। আইন লংঘন করে কেউ ইটভাটা করলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

অবৈধ ইট ভাটার বিষয়ে সাবেক খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজ্জামান নির্ধারিত বিধি অমান্য করে কোন ইট ভাটার মালিক ভাটা চালালে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বললেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। নবাগত জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জনগন আসাবাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *