খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলা নির্বাচনে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে উন্নয়নের পক্ষে ভোটাররা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: গুইমারা উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই পাল্টে যেতে শুরু করেছে ভোটের মাঠের চিত্র। শেষ মুহুর্তে এসে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে একাট্টা হতে শুরু করেছে গুইমারার সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই গুইমারার দুর্গম পাহাড়ী জনপদে একটি বিশেষ আঞ্চলিক সংগঠনের অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আর চাঁদাবাজির কারণেই সাধারণ ভোটাররা একজোট হতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সম্প্রতি গুইমারার হাফছড়ি ও সিন্ধুকছড়ির দুর্গম জনপদ ঘুরে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ ভোটারদের জিম্মি করে রেখেছিল। দুর্গম পাহাড়ী পল্লীতে আওয়ামীলীগ, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় বাধা প্রদানের অভিযোগ ছিল। জনগণকে বিশেষ দলটির সমর্থিত প্রার্থী উশেপ্রু মারমার (আনারস প্রতীক) পক্ষে ভোট দিতে অব্যাহতভাবে চেষ্টা করা হয়। সে চেষ্টার অংশ হিসেবে কোণঠাসা করে রাখা হয় স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদেরও। জেলা ও উপজেলার কমিটির নেতৃবৃন্দ সিন্ধুকছড়ির বিভিন্ন দুর্গম জনপদে দলের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন।

সেখানেও আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পাড়া কার্বারী সহ সাধারণ জনগণকে দুই প্রতিপক্ষের প্রার্থীর পক্ষে আহুত সভায় যোগদানে বাধা প্রদান করা হয় বলে জানান প্রচারণায় অংশ নেয়া এক শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আর সন্ত্রাসী সংগঠন জনগণকে জিম্মি করে নিজেদের পকেট ভারী করার চেষ্টা করছে। পাহাড়ের শিক্ষা, চিকিৎসা আর উন্নয়ন সেক্টরে তাদের কি অবদান? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, হাফছড়ি ও সিন্ধুকছড়ির জনগণ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে উন্নয়নের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

ঐ শীর্ষ নেতা ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সমালোচনা করে বলেন, যারা জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কোন ধরনের ভুমিকা রাখে না জনগণ তাদের কথা কেন শুনবে। তিনি বলেন, আমরা যখন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের পক্ষে তখন সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ তাদের এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার অধিকার কোথা থেকে আসে।

এদিকে সিন্ধুকছড়ি ও হাফছড়ির একাধিক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৬ মার্চের নির্বাচনে তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রায় দেবে। কোন বিশেষ মহলের চাপে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে তারা ভুল করবে না। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী উশেপ্রু মারমার বিগত দিনের কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরে তারা বলেন, তার মেয়াদকালে হাফছড়ি ইউনিয়নে কোন ধরনের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সাধারণ মানুষকে হয়রানি করাসহ বিভিন্ন ধরনের সরকারী বরাদ্দ আত্মসাতের কথা ভোটারদের মুখে মুখে।

গুইমারা উপজেলায় সূষ্ঠ নির্বাচন হলে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত বলে বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন। উপজাতীয় ভোটারদের বড় একটি অংশ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হুমকি ধমকি ও প্রভাব দেখিয়ে ভোট ডাকাতির সম্ভাবনা রয়েছে এলাকাবাসীর ধারণা।

গুইমারা উপজেলা নির্বাচনে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী গুইমারা উপজেলার আ,লীগের প্রার্থী মেমং মারমার পক্ষে নৌকা প্রতীকে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারনা করছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সচেতন মহল ও ভোটারদের অভিমত বিএনপির মনোনিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ ইউচুপ ধানের শীষের পক্ষে কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা, জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান গুইমারা উপজেলার নির্বাচনী এলাকায় প্রচারনায় অংশ নিলে পাল্টে যাবে নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *