পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা গ্রুপের ১১তম সম্মেলন খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত

pic-1নিজেস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:  খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা দলের তিন দিন ব্যাপী ১১ তম জাতীয় সম্মেলন শুরু  হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১ টায় খাগড়াছড়ি খাগড়াপুর কমিউনিটি সেন্টারে এ সম্মেলন শুরু হয়। সকালে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সম্মেলন উদ্ভোধন করেন দলটির সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুধাসিন্ধু খীসা।

পরে তিন দিন ব্যাপী এ সম্মেলনের আলোচনা সভায় সভাপতি মন্ডলীর সভাপতি সুধাসিন্ধু খীসার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা শুরু  হয়। এ সম্মেলন চলবে আগামী ১৯ তারিখ পর্যন্ত। সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন নানিয়ার চর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. শক্তিমান চাকমা,মহালছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা,মহিলা ভাইস- চেয়ারম্যান কাকলি খীসা,চাইথোয়া অং মারমা।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় সুধাসিন্ধু খীসা চুক্তি বাস্তবায়নসহ সকল অধিকার আদায়ের জন্যে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, বৃহত্তর জাতিগত ঐক্য ছাড়া জুম্ম জাতির বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। কারন সরকার দীর্ঘ ১৯ বছরে ও চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি। যদি চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক থাকতো এত দিনে চুক্তির সকল ধারা বাস্তবায়ন করতেন। চুক্তি বাস্তবায়ন না করে উল্টো সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেন।

তিনি আরো বলেন দেশের ৬৪ জেলা সাথে তিন পার্বত্য জেলা ভিন্ন কারন ৬১ টি জেলা চলে ১৯৫০ সালের প্রজাসত্ব আইনে আর তিন পার্বত্য জেলা হচ্ছে ১৯০০ সালের হিল ট্রাক্স মেনুয়েল অনুযায়ী। হিল ট্রাক্স মেনুয়েল অনুযায়ী পার্বত্য  জেলা ভূমি অধিকার পাহাড়ীদের। কারন এ আইনে খাস জমি বলতে  কোন জমি নেই। বর্তমানে সরকার খাস জমির উচিলায় পাহাড়ে সেটেলারদের পূর্নবাসন করতেছে।

তিনি আরো বলেন ১৯৬০সালে কাপ্তাই বাধে আদিবাসীদের ৫৪ হাজার একর জমি পানিতে ডুবে গিয়ে পাহাড়ের আদিবাসীরা অসহায় হয়ে পড়ে। আর বর্তমানে বাকী জমি গুলো সেটেলাররা  কেড়ে নিতে শুরু করেছে।

তিনি পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ী-বাঙ্গালী এক পরিসংখ্যানে বলেন ১০৪৭ সালে ২.৫%,১৯৬০ সালে ৯%,১৯৭৪ সালে ২৫%,১৯৮১ সালে ৪১% ১৯৯০ সালে ৪৮% আর ১৯৯০ সালের পর আর কোন পারসেন্ট নেই।

তিনি বলেন বিভিন্ন কারনে ভাগ হলে ও বৃহত্তর ঐক্য ছাড়া জুম্মজাতির বেচেঁ থাকার কোন সুযোগ নেই। তিনি জুম্ম জাতির মুক্তির জন্য সকলকে ঐক্য বদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। সম্মেলনে দলের বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সাংবাদিক ও দলের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *