খাগড়াছড়িতে লাইসেন্সবিহীন করাত কলে চলছে রমরমা অবৈধ বাণিজ্য

IMG_20170116_123333নুরুল আলম:: খাগড়াছড়িতে বনাঞ্চল উজার হচ্ছে লাইসেন্সবিহীন করাত কলে অবৈধভাবে গাছ চেরানো ফলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বন ভূমি, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবেশ ক্ষতি হচ্ছে প্রতিনিয়তই। এমন এলাকায় অন্তত করাত কল বসানোর নিষেধ থাকলেও মানছেনা মালিকেরা। ১২০০-১৫০০ কি.মি. বসতি এলাকা ও বিভিন্ন এলাকার প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে করাত কল বসানো নিয়ম থাকেলে তা মানা হচ্ছে না খাগড়াছড়ি জেলার ৯ টি উপজেলায়।

উল্লেখিত এলাকায় সামাজিক ও সংরক্ষিত বনায়ন এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর বাজারে নবাব মার্কেটে পার্শ্বে নতুনপাড়ায় অবস্থিত। এদিকে গুইমারা বাজার পাড়া ঘনবসতি এলাকার বাবুল মেম্বারেসহ তিনটি করাত কল চলমান রয়েছে। জালিয়াপাড়া সদরে দুইটি, বড়পিলাকে দুইটি, হাতিমোড়া একটি, মানিকছড়ি, গচ্ছাবিল, তিনটহরী, রামগড় সদর বাজারে বিভিন্ন গলিতে করাত কল বসানো হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর পানছড়ি, দীঘিনালা, মহালছড়ি, লক্ষীছড়ি সহ বিভিন্ন শতাদিক লাইসেন্সবিহীন করাত কল অবৈধভাবে গাছ চেরানো হলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। এলাকার বিভিন্ন বনায়ন থেকে চোরাইপথে আনা বিভিন্ন জাতির মুল্যবান গাছ অবাধে নিধন করে চেরাই ও বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় খাগড়াছড়ি জেলার শতাদিক করাত কল গড়ে তোলা হয়েছে। এসব করাত করাত কল মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি বিভিন্ন জটিলতার কারণে অনেকের লাইসেন্স থাকলেও মেয়াদ উর্ত্তীণ হয়েছে। প্রতিটি করাত করাত কল বিপুলসংখ্যক কাঠ মজুদ রয়েছে। এছাড়াও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায় প্রতিটি করাত কল ৪-৫ হাজার ঘনফুট বিভিন্ন জাতের কাঠ মজুদ থাকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী বৈধ লাইসেন্স করাত করাত কল গুলো সরকারি নিয়মে সকাল ৬টা পর্যন্ত থেকে সন্ধ্যায় ৬টা পর্যন্ত করাত করাত কল চালানোর নিয়ম থাকলেও অবৈধ করাত করাত কল মালিকরা তা মানছেন না। রাত-দিন চলছে কাঠ চেরাই রাতে অন্ধকারে চেরাকৃত মূলবান গাছগুলো ট্রাক বোজায় করে পাচার হয় এবং বিভিন্ন স্থান থেকে কাঠ সংগ্রহ করে অবৈধভাবে চোরাকারবারিরা বনায়ন এলাকা থেকে চুরি করা গাছ নিরাপদ স্থান হিসেবে এসব করাত কল ব্যবহার করছে। বনায়ন রক্ষায় বন বিট রেঞ্জ প্ররিক্ষণফাড়ি থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যক্রম তাদের নেই বললে চলে। এদিকে প্রতিটি করাত কল আশেপাশে জমজমাট জুয়ার আসর বসছে প্রতিদিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *