Home » ক্রাইম নিউজ » খাগড়াছড়ির থলিপাড়াতে পিতা-পুত্রের হত্যার ঘটনায় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি‘র বিবৃতি

খাগড়াছড়ির থলিপাড়াতে পিতা-পুত্রের হত্যার ঘটনায় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি‘র বিবৃতি

ampনিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি জেলার সদর থানাধীন নুনছড়ি থলিপাড়া এলাকার নিবাসী চিরঞ্জয় ত্রিপুরা(৫০) ও কালিবন্ধু ত্রিপুরা(৫০) পরস্পর সম্পর্কে ভগ্নিপতি/শ্যালক এবং একই উঠানে বাড়ি। অনুমান ০৪ বছর পূর্বে এলাকায় একটি ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। এছাড়া গত ০২ বছর পূর্বে আবার কালিবন্ধু ত্রিপুরা ও চিরঞ্জয় ত্রিপুরা নিজেদের আধিপত্য নিয়ে উভয়ে উভয়ের ঘরবাড়ী ভাংচুর সহ এক ভয়ানক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে কালিবন্ধুসহ পিতাপুত্র ৩ জন হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়। পরে থানায় উভয়ে উভয়ের মধ্যে মামলা হয়। যা এলাকার বর্তমানে জীবিত অনেক জনপ্রতিনিধি সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনেকবার সামাজিকভাবে মীমাংসার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। গত ইউপি নির্বাচনে কালিবন্ধুর বিপক্ষে চিরঞ্জয় ত্রিপুরা নির্বাচনী প্রচারনা করলেও নির্বাচনে কালিবন্ধু ত্রিপুরা ইউপি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়। গত ২৯/০১/২০১৬ খ্রিঃ তারিখ কালিবন্ধু ত্রিপুরা ও তার ছেলে যতœ বিকাশ ত্রিপুরা অস্ত্রসহ আটক হয়। এ বিষয়টি চিরঞ্জয় ত্রিপুরার মদদে সংঘটিত হয় মর্মে কালিবন্ধু ত্রিপুরা সন্দেহ করে এবং দুই পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য আরো প্রকট আকার ধারন করে। ০৭/০৫/২০১৭ খ্রিঃ তারিখ খাগড়াছড়ি সদর থানাধীন মাছের বাজারের ফার্মেসির গলিতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন চিরঞ্জয় ত্রিপুরাকে মারধর করলে চিরঞ্জয় ত্রিপুরা বিজ্ঞ আদালতে কালিবন্ধু ত্রিপুরাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। মামলা দায়ের করার ও পূর্বের ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে ক্ষিপ্ত হয়ে ১১/০৫/২০১৭ খ্রিঃ সন্ধ্যা রাতে চিরঞ্জয় ত্রিপুরা ও তার পরিবারসহ খাওয়া-দাওয়া করার সময় কালিবন্ধু ত্রিপুরা, তার পুত্র রচন ত্রিপুরা ও প্রদীপ ত্রিপুরাসহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন চিরঞ্জয় ত্রিপুরার বসত বাড়িতে প্রবেশ করে বসত ঘর ও দোকানপাট ভাংচুর করে এবং চিরঞ্জয় ত্রিপুরা, তার স্ত্রী ববি লক্ষী ত্রিপুরা, ছেলে কর্ণজ্যোতি ত্রিপুরা, পুত্রবধু বিজলী ত্রিপুরা ও নিহার কান্তি ত্রিপুরাদেরকে লাঠিসোটা দিয়ে মারপিট করলে চিরঞ্জয় ত্রিপুরা ঘটনাস্থলে মারা যায়। কর্ণজ্যোতি ত্রিপুরা,ববি লক্ষী ত্রিপুরা ও বিজলী ত্রিপুরাকে চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কর্ণজ্যোতি ত্রিপুরাকে মৃত ঘোষনা করেন। ববি লক্ষী ত্রিপুরা ও বিজলী ত্রিপুরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার কারনে উক্ত ঘটনা ঘটেছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে রঙ মাখিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত এবং বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি এবং নিরীহ লোকজন যাতে প্রশাসনের হয়রানীর শিকার না হয় সেজন্য প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করা হলো। জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচী যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য সকল স্তরের নেতা-কর্মীকে ধৈর্য্য এবং সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য খাগড়াছড়ি জেলার আপামর জনসাধারণের নিকট আহবান জানানো হলো। সাংবাদিক ভাইয়েরা প্রকৃত সত্য তাদের লেখালেখির মাধ্যমে দেশবাসীর নিকট তুলে ধরবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করি যে, আওয়ামী পরিবারের মধ্যে কোন বিভেদ থাকতে পারেনা। বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত করার লক্ষ্যে সকলকে একযোগে এবং একসাথে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

সভাপতি

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ

খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

About admin1

Leave a Reply