পরিবার ও সমাজে নারী নির্যাতন এবং প্রথাগত আইন সংস্কারের লক্ষে ষান্মাষিক সভা

pic-1

নিজেস্ব প্রতিবেদক:: খাগড়াছড়িতে আদিবাসীদের প্রথাগত আইন সংস্কারের লক্ষে জেলা পর্যায়ে ষান্মাসিক  সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা খাগড়াপুর মহিলা কল্যান সমিতি(কেএমকেএস) উদ্যোগে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সহায়তায় কেএমকেএস এর হল রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কাজল বরন ত্রিপুরার সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা।

আলোচনা সভায় ধারনা পত্র পাঠ করেন সমন্বকারী মনিষা তালুকদার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সদর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও জেলার কারবারি এসোসিয়েশনের সভাপতি রনিক ত্রিপুরা,২৫৭ নং  নুনছড়ি মৌজার হেডম্যান ক্ষেত্রমোহন রোয়াজা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মহিলা কারবারী মানসি রোয়াজা,মহিলা কারবারী পহেলি চাকমা,পুরুষ কারবারী হেমজ্ঞন চাকমা,কলেজ শিক্ষাথী সানু মারমা। সভায় জেলার বিভিন্ন গ্রামে হেডম্যান,কারবারি,মহিলা কারবারী,শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা অংশ গ্রহন করেন।

ধারনা পত্রে বলা হয় আদিবাসী নারীরা পিতৃতান্ত্রিক সমাজের সদস্য,পিতৃ তান্ত্রিক রাষ্ট্র ও জাতীয়তার সদস্য এবং আদিবাসী জনগোষ্টির অর্ন্তভুক্ত প্রান্তিক জনগোষ্টির সদস্য হিসেবে এই তিন ভাবে বৈষম্যের শিকার হন। তাছাড়া ও আদিবাসী নারীরা পরিবার ও সমাজে খুব কম মূল্যায়িত হন।

১৯০০ সালের পাার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনের ১৮ নং ধারাং প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধির ৪০ নং বিধি, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে ৬৬ ধারায় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইনের ২২(ঙ) ধারায় সার্কেল চীফ,মৌজা হেডম্যান ও কারবারীগণ আদিবাসীদের প্রথা ও রীতিনীতির ভিত্তিতে নিজেদের উদ্ভূত সামজিক বিরোধ নিস্পত্তির বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হলেও আদিবাসী নারীরা অনেক সময় বৈষম্যের শিকার হন। আর আদিবাসী নারীরা নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হওয়ার মূল কারন হচ্ছে আদিবাসী সমাজে বিবাহ নিবন্ধনের কোন লিখিত দলিল না থাকা,সমাজে নারীদের কাজের মূল্যায়ন না করা, নারীর নেতৃত্ব না থাকা, সম্পত্তি অধিকার না দেওয়া।

আর তিন পার্বত্য জেলায় আদিবাসী সমাজে পারিবারিক আদালত না থাকায় কোন পুরুষ একাধিক বিয়ে করে থাকলে কোন কারনে আগের স্ত্রীকে ছেড়ে চলে গেলে তার ভরন পোষন করা থেকে বিরত থাকে। অনেক সময় গ্রাম্য শালিসে তার আগের স্ত্রীর ও সন্তানের ভরন পোষনের জন্য রায় দিলেও পুরুষটি রায় না মেনে অন্যত্র চলে গেলে সেই রায় আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। পিতৃ সম্পত্তি অধিকার ও উত্তরাধিকার ও হন পুত্র সন্তানরা কোন ক্রমে পুত্র সন্তান না থাকলে কন্যা সন্তানরা পিতৃ সম্পত্তির অংশীদার হন। যা বৈষম্যে শিকার।

আলোচনা সভায় বক্তারা পরিবার ও সমাজে এখনো পাহাড়ী নারীরা বিভিন্ন ভাবে নির্যাযিত হচ্ছে, নির্যাযিত নারীরা ন্যায় বিচার থেকে এবং তারা পিতৃ সম্পতি থেকে ও বঞ্চিত। কিভাবের সমাজ ও পরিবার থেকে নারী নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে।  কিভাবে তারা ন্যায় বিচার ও পিতৃ সম্পতি পাবে সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *