খালেদার কার্যালয়ে তল্লাশির ঘটনায় দেশে-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া

image-80505-1495346148নিজস্ব প্রতিবেক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে তল্লাশির প্রতিবাদে দেশে-বিদেশে তিব্র প্রতিক্রিয়া, বিএনপির বিবাদমান গ্রুপগুলো বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে ‘তল্লাশির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে সরকারতে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হয়েছে।

অন্য মিডিয়া প্রকাশিত সংবাদ: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটা আওয়ামী লীগের অশুভ এক চক্রান্ত। বিএনপি যখন ভিশন-২০৩০ ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে, ঠিক তার পরই সরকারের গা জ্বালা শুরু হয়েছে। এ ধরনের আচরণ দুরভিসন্ধিমূলক-এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।’

310041_1যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটির চেয়ারপারসন আকতার হোসেন বাদল অপর এক বিবৃতিতে বলেন, জোরপূর্বক রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে গণতন্ত্রহীন করতে চায়। লাগামহীন অপকর্ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ যাতে কথা বলতে না পারে, সে চক্রান্তের অংশ হিসেবেই ম্যাডাম (বেগম জিয়া) এর অফিসে তল্লাশি চালানো হলো। এটি অমার্জনীয় অপরাধ।

বিএনপির নেতা আলহাজ্ব বাবরউদ্দিন এবং নিউইয়র্কে বসবাসরত যুবদলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক এম এ বাতিন এক যুক্ত বিবৃতিতে তল্লাশির ঘটনাকে সরকারের স্বৈরাচারি মনোভাবের নগ্ন বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছে। এহেন আচরণ রুখে দিতে সকল দ্বিধা-দ্বন্দের উর্দ্ধে উঠতে হবে বিএনপির  খালেদার কার্যালয়ে তল্লাশির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র প্রতিক্রিয়া নেতা-কর্মীদের’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

তল্লাশির প্রতিবাদে নিউইয়র্ক সময় দুপুর এবং সন্ধ্যায় পৃথক ৩টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপির পরস্পর বিরোধী গ্রুপগুলো। সন্ধ্যায় টক অব দ্য টাউনে সংবাদ সম্মেলন করবে আকতার হোসেন বাদলের নেতৃত্বাধীন বিএনপি।

প্রায় একই সময়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করবে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, জাসাসের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া মিজানুর রহমান ভাইয়ার নেতৃত্বাধীন অপর অংশের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে ডাইভার্সিটি প্লাজায়।

bnp-logo1আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিতে চলছে জোর প্রস্তুতি। নতুন ধারার রাজনীতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইতিমধ্যে ঘোষিত হয়েছে ‘ভিশন-২০৩০’। এর আলোকেই গঠিত হচ্ছে নির্বাচনী ইশতেহার। আগামী নির্বাচনে ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনতে ব্যস্ত দলটি। তৃণমূলকে উজ্জীবিত ও সক্রিয় করতে কেন্দ্রীয় ৫১টি টিম জেলা সফরও শুরু করেছে।

নির্বাচনের পালে হাওয়া বইতে শুরু করেছে বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই। ক্ষমতাসীনদের পাশাপাশি বিএনপিও নিজেদের গুছিয়ে নিতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আচমকাই বিএনপির নির্বাচনী পালে মন খারাপের হাওয়া এসে ধাক্কা দিলো তাদের।

শনিবার (২০ মে) সকাল ৭টায় অনেকটা আকস্মিকভাবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। এক ঘণ্টা পর সকাল ৮টার দিকে কার্যালয়ের মূল ভবনে ঢোকেন পুলিশ সদস্যরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা তল্লাশি শেষ করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খালি হাতে ফিরে আসে পুলিশ। তল্লাশি শুরুর আগে খালেদা জিয়ার এই কার্যালয় ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ।

প্রায় আড়াই ঘণ্টা ওই এলাকায় সাধারণ কোনো যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীদের সশস্ত্র প্রহরা ছিল। সকাল ৯টার দিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কার্যালয়ের সামনে আসেন। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে তিনি কার্যালয়ের ভেতর যান। এর মিনিট বিশেক পর দলের আরেক যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ঘটনাস্থলে আসেন।

এ সময় বিএনপির শীর্ষ কোনো নেতাকে গুলশান কার্যালয়ে আসতে দেখা যায়নি। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর রায়, জয়নাল আবদীন ফারুকসহ অনেক নেতাকর্মী সেখানে আসেন।

এদিকে তল্লাশির তীব্র নিন্দা জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত করতে চাচ্ছে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশি করে এটাই বুঝিয়েছে সরকার, যে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লেসমাত্র নেই। বাংলাদেশ সম্পূর্ণ গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর সাহায্যে এই সরকার দেশ চালাচ্ছে। গতকাল শনিবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের নিজ বাসভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তল্লাশির পর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ‘তালিকা’ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। পুলিশের গুলশান থানার পরিদর্শক আজিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সেই ‘তালিকায়’ তল্লাশিতে প্রাপ্ত মালামালের পরিমাণ ‘শূন্য’ বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সেখানে তল্লাশির স্থান হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের ঠিকানা লেখা ছিল না। পুলিশের তল্লাশি শেষে কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকেন গণমাধ্যমকর্মীরা। মূল কলাপসিবল গেটটি খোলা ছিল।

কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, এই গেটের তালা ভেঙে পুলিশ ভেতরে ঢোকে। একতলা ও দোতলার বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালানো হয় বলে তারা জানান। একতলার নয় নম্বর কক্ষটির দরজার লক খুলে তল্লাশি তৎপরতা বেশি ছিল। তবে লক ভাঙা পাওয়া গেলেও কাগজপত্র এলোমেলো ছিল না। বেশ কয়েকজন কর্মচারী বলেন, পুলিশ সঙ্গে মিস্ত্রি ছিল। এই মিস্ত্রিদের দিয়েই তালা ভাঙা হয়। আর ফাইলসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন পুলিশ সদস্যরা।

তারা জানিয়েছেন, তল্লাশি চালানোর আগে পুলিশ কার্যালয়ের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বন্ধ কর দেয়। এ সময় কার্যালয় থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র ফটোকপি করে পুলিশ নিয়ে গেছে বলেও জানান তারা।

তবে দোতলায় তল্লাশি চালালেও খালেদা জিয়ার কক্ষে ঢোকেনি পুলিশ। এদিকে গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার ডকুমেন্টস রয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারপত্রের খোঁজে এ তল্লাশি চালানো হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়েই তল্লাশি চালিয়েছি। তবে সেখান থেকে কোনো কিছু আমরা আনিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে দিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে সার্চ ওয়ারেন্ট করিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তল্লাশির এই ঘটনা দলের চেয়ারপারসনকে হয়রানি ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার লক্ষেই করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী আহমেদ। দলের নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে সেই জিডির কপি দেখান বিএনপির নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। জিডিতে সময় হিসাবে গতকাল ১৯ মে সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিট লেখা ছিল। তবে গুলশান ঠিকানা উল্লেখ করা হলেও কোথায় বিএনপির কার্যালয় লেখা ছিল না। জিডিতে লেখা রয়েছে, গুলশান-২ নম্বরের ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়ি ও এর আশপাশের এলাকায় রাষ্ট্রবিরোধী ও আইনশৃঙ্খলাপরিপন্থী, রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বিনষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের স্টিকার ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডে ব্যবহৃত সামগ্রী মজুতের খবর গোপন সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তল্লাশি করে ক্ষমতাসীনরা ষড়যন্ত্রের নতুন ফন্দি আঁটছে। সরকারকে বলব, বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে কোনো ফায়দা নিতে পারবে না কেউ। নতুন ধারার রাজনীতির সংস্কৃতি সৃষ্টি করতেই আমরা ভিশন-২০৩০ দিয়েছি।

এতে সাধারণ মানুষও উজ্জীবিত হয়েছে। বিএনপির ভিশন-২০৩০ সাধারণ মানুষ সমৃদ্ধির সোপান হিসেবে নিয়েছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপিকে আগামী নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *