চট্টগ্রাম দূর্ঘটনা প্রশাসন ব্রেকিং নিউজ

কল্পনা চাকমা ইস্যু খাগড়াছড়িতে বিজিবি-পুলিশ বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ, আটক ২৫

আল মামুন: খাগড়াছড়িতে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের উদ্যোগে বুধবার সকালে সদরের স্বনির্ভর বাজার এলাকায় কল্পনা চাকমার অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় বাঁধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ৬ পুলিশ- ৩ বিজিবি ও বিক্ষোভকারী ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশন ১১ সদস্যসহ ২০জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও হিল উইমেন্স ফেডারেশন তাদের সংগঠনের কর্মী-সমর্থক প্রায় ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান। হামলায় আহত ৯ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর  সদস্যের মধ্যে আহতরা হচ্ছে-একজন হাবিলদারসহ তিনজন বিজিবি সদস্য ও একজন ডিএসবি সদস্যসহ ৬ পুলিশ সদস্য রয়েছে। আহত বিজিবি সদস্যরা হলেন, হাবিলদার হাবিবুর রহমান(৫০), সৈনিক কামরুজ্জামান(২৬), সৈনিক রুবেল(২৪)।

জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টা দিকে শহরের স্বনির্ভর এলাকা থেকে ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে।  এসময় পূর্ব অনুমতি না থাকার অভিযোগে পুলিশ মিছিলে বাধা দান করলে প্রশাসন ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে বিজিবি সহায়তা কামনা করলে বিজিবির সদস্যরা এসে যোগ দেয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা বিজিবির সদস্যদের উপরও হামলা অব্যাহত রাখে। এতে ৩ বিজিবি ও ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২১ জনকে আটক করলেও পরে দুইজনকে ছেড়ে দেয়।

৩২ বিজিবি অধিনায়ক হাসানুজ্জামান চৌধুরী জানান, পূর্ব কোনো কর্মসূচি বিহীন হঠাৎ বেলা দশটার দিকে স্বনির্ভর বাজারে সমাবেশ করতে চেষ্টা করে ইউপিডিএফ ও হিলউইমেন্স ফেডারেশন। এ সময় পুলিশ বাঁধা দেয়। পুলিশ সহযোগীতা চাইলে ঘটনাস্থলে পৌঁছা মাত্র সমবেশ ইউপিডিএফ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। তাদের এলোপাথারী ইটপাটকেল ও গুলতির আঘাতে তিনজন বিজিবি সহ পুলিশের বেশ কয়েকজন আহত হয়।
খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালা উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় ১৫ জনের মত আটক করা হলেও যাছাই-বাছাই করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৮জন আটক রয়েছে।

এছাড়াও এ ঘটনার পর পর খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গাড়ী ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। মানিকছড়ির পিচলাতলায় কাঠালবাহী পিকআপে অগ্নি সংযোগসহ ৭টি গাড়ী ভাংচুর এর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও রামগড়ে গাছ কেটে সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। পিচলাতলায় দুবৃত্ত কর্তৃক গাড়ীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে গুইমারা উপজেলা চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রæ মারমা। এ ঘটনার জন্য তিনি দু:খ প্রকাশ করে এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানান।

এদিকে গণ ধরপাকড়ের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণধরাকপড়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম। হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক নীতিশোভা চাকমা প্রেরিত এক বার্তায় অভিযোগ করেন, আয়োজিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বিনা উস্কানীতে পুলিশ ও বিজিবি’র বর্বরতম ও পাশবিক হামলা এবং গণধরাকপড়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিন সংগঠনের পক্ষ থেকে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিরূপা চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অংগ্য মারমা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিনয়ন চাকমা সংবাদ মাধ্যমে এই বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পূর্বঘোষনা অনুযায়ী হিল উইমেন্স ফেডারেশন কল্পনা চাকমা’র চিহ্নিত অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভর বাজারে আজ সকালে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছিল। বিক্ষোভ মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবি বিনা উস্কানীতে মিছিলে বাধা দেয়, ব্যানার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়।

তারা মিছিলে আগত শত শত নারীর উপর হামলে পড়ে এবং বর্বরতম ও পাশবিক উপায়ে ভব্যতার কোনো মাত্রা বজায় না রেখে নারীদের মারধর করতে থাকে। নারীরা এই দিকবিদিক পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে তাদের পুলিশ ও বিজিবির’র পুরুষ সদস্যরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। শুধু তাই নয় হামলাকারী বিজিবি-পুলিশ সদস্যরা স্বনির্ভর বাজারের পার্শ্ববর্তী খবংপয্যা গ্রামে ঢুকে বিভিন্ন জনের বাড়ি ও স্বনির্ভর বাজারে দোকানপাটে তল্লাশি চালিয়ে গণ ধরপাকড় চালায়। এ পর্যন্ত সংগঠনের কর্মী-সমর্থক প্রায় ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে লংগুদু, দীঘিনালা হামলা ও স্বনির্ভরে নারী জনতার উপর পুরুষ পুলিশ ও বিজিবির বর্বরতম পাশবিক অভব্য হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও এর পেছনে কী সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তা উদঘাটন করার জন্য বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনসহ পার্বত্য জুম্ম নাগরিক সমাজকে নিয়ে একটি গণতদন্ত টিম গঠন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *