আন্তর্জাতিক চট্টগ্রাম প্রশাসন ব্রেকিং নিউজ

বাঙালিদের গণগ্রেপ্তার বন্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল \ পুলিশের হামলার অভিযোগ

আল মামুন: লংগদুর মোটর সাইকেল চালক ‘নুরুল ইসলাম নয়ন’ কে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক হত্যার বিচার দাবী ও সেই উপজাতি সন্ত্রাসী সংগঠনের পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানোর মিথ্যা মামলায় নিরপরাদ বাঙ্গালীদের গণগ্রেপ্তার বন্ধের দাবীতে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ পালন করে।

বুধবার সকাল ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদ হতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলে দফায় দফায় পুলিশের বাধার কারনে উপজেলা মাঠেই সংক্ষিপ্ত  মানববন্ধের মধ্যদিয়ে শেষ হয়। পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের জেলা যুগ্ন সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রিয় যুগ্ন সম্পাদক ও সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সাহাজুল ইসলাম সজল, খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি ভা: মাঈন উদ্দীন, খাগড়াছড়ি জেলা সাধারন সম্পাদক এস এম মাসুম রানা প্রমূখ।

নেতৃবৃন্দরা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে একের এক বাঙালি কে উপজাতি রা কয়েকদিন পর পর হত্যা করছে কিন্তু কোন সুবিচার আমরা পাচ্ছিনা। বিচারের দাবীতে যখনী আমরা আন্দোলন জোরদার করি তখনই উপজাতি সন্ত্রাসীরা লংগদুর মত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাধ্যমে বাঙালি হত্যার বিচার ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে নয়নের পরিবারকে ক্ষতিপূরন পূর্বক প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করে পাহাড়কে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করার জোর দাবী জানান। আগামী ১১/০৬/২০১৭ ইং তারিখের মধ্যে নয়ন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বাঙালিদেরকে গনগ্রেপ্তার বন্ধ করা না হলে ১২ তারিখেও হরতাল পালন করা হবে।

মহালছড়ির ছাদিকুলের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই সন্ত্রাসীরা নয়ন কে হত্যা হত্যা করে বুঝিয়ে দিলেন পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালিদের হত্যা করলে কোন বিচার হয়না। তিনি আরো বলেন দু:খের বিষয় হলো মাটিরাঙ্গার আজিজুল শান্ত , পানছড়ির হোসেন আলী , ভূয়াছড়ির শহীদুল , দীঘিনালার মুহাম্মদ আলী সহ  গত ১০ বছরে ১২ জন বাঙালি মটর সাইকেল চালককে হত্যা করা হয়েছে  গুম করা হয়েছে ৫ জন মোটর সাইকেল চালককে ।

প্রশাসন উদ্ধার করতে পারেনী অপহৃত কাউকেই , বিচার হয়নী একটি হত্যাকান্ডেরও । নয়ন হত্যাকান্ডকেও  দামাচাঁপা দিতেই উপজাতি সন্ত্রাসী সংগঠন এর সন্ত্রাসীরা  পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ঘরের মূল্যবান সকল জিনিস পত্র ও লোকজনকে  সড়িয়ে নিয়ে  উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে নিজেদের ঘরে আগুন দেয়। আর এখন তাদের ঘর তারা পোড়ায় আর দায় চাপানো হচ্ছে পার্বত্য বাঙালিদের উপর। লংগদুর ইস্যুও নিরপেক্ষ সমাধানের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত না করা পর্যন্ত নিরাপরাধ বাঙালিদের মামলা দিয়ে গনগ্রেপ্তার বন্ধ করার আহবান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,জেলা সহ সাধারন সম্পাদক রবিউল ইসলাম, সহ সংগঠনিক পারভেজ আহাম্মেদ, দপ্তর সম্পাদক মৃদুল বড়য়া,প্রচার সম্পাদক শাহীন আলম , দিঘীনালা উপজেলা শাখার সহ সভাপতি মনসুর আলম, সম্পাদক আলামিন হোসেন ও সাংগঠনিক শামীম হোসেন। মাটিরাঙ্গা উপজেলা আহবায়ক মো: এস এম শাহ আলম,পানছড়ি উপজেলা আহবায়ক সাইফুল ইসলাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন উপজেলা  নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেয়। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় গাড়ী ভাংচুর করার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা পুলিশ সুপার এর কার্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে বিকেলে জেলা শহরের শাপলা চত্ত¡রে বিক্ষোভ করলে পুলিশ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন। এতে প্রায় ১৫ জন আহত হয় বলে জানা যায়। এ সকল ঘটনায় খাগড়াছড়িতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *