ক্রাইম নিউজ পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশাসন ব্রেকিং নিউজ

লংগদু নুরুল ইসলাম হত্যা কান্ডে পর পরিবারের বক্তব্য

‘কেডা আমারে ভাত দিবো, পোলাপাইন লইয়া কই যামু’

নুরুল আলম: ‘আমার স্বামী যুবলীগ করে সেই জন্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও নাগরিক পরিষদের নেতারা মিলে আমার স্বামীকে খুন করেছে। কিছুদিন আগে আমার স্বামীকে বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতারা ফোন করে প্রস্তাব দিয়েছিলো যুবলীগ ছেড়ে দিয়ে বাঙালি ছাত্র পরিষদকে সাহায্য করে নাগরিক পরিষদে যোগ দিয়ে পার্বত্য বাঙালিদের অধিকার আদায়ের কাজ করার জন্য অনুরোধ করেছিল। কিন্তু আমার স্বামী তাদের অনুরোধ রাখেনি তাদের কথায় রাজি হয়নি। রাজি না হওয়ার কারনে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নিহত মো: নুরুল ইসলাম নয়নের স্ত্রী মোসাম্মৎ জাহেরা খাতুন।

মোসাম্মৎ জাহেরা খাতুন বলেন, আমাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, ছেলেটি স্কুলে পড়ছে, ছোট মেয়েটি এখনও শিশু পরিবারে একমাত্র উপার্জন করতেন আমার স্বামী, তাকে হারিয়ে এখন আমরা দিশেহারা। আমার স্বামীর কাছে বুধবার (৩১ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটা বাজে ফোন এসেছিল। তখন আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম এতো রাত্রে কে ফোন করেছে স্বামী আমাকে বলেছিল কাল সকালে খাগড়াছড়িতে যেতে হবে একটা ভাড়া আছে। তখন তাকে আবার জিজ্ঞাসা করি কারা খাগড়াছড়িতে যাবে প্রশ্নউত্তরে বললো বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও নাগরিক পরিষদের এক মিটিং আসে যেখানে যাবে। বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও নাগরিক পরিষদের নেতারা মিটিং আছে নাম দিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। মো: নুরুল ইসলাম নয়নের বড় মেয়ে নাসরিন বেগম বলেন, ‘আমার পিতারে কিরল্যাগ্যা মাইয়্যা ফেলছে, আজকে আমার বাবারে মাইর্যা ফেলছে কালকে অন্যর বাপরে মাইর্যা ফেলাইবো আমি বাপের হত্যার বিচার চাই।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন বৃহস্পতিবার সকালে লংগদু উপজেলা থেকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক ও স্থানীয় সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন দুইজন বাঙালি যাত্রী নিয়ে খাগড়াছড়িতে রওনা হন। দুপুরের পর দীঘিনালার চার মাইল এলাকায় তার মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় ফেসবুকে তার মৃতদেহের ছবি দেখে শনাক্ত করে পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার (২ জুন) সকালে নয়নের লাশ লংগদুতে তার গ্রামের বাড়ি বাইট্টাপাড়া আনা হয়। সেখান থেকে লংগদুবাসীর ব্যানারে কয়েক হাজার বাঙালির একটি বিশাল শোকমিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের যাচ্ছিল উত্তেজিত বাঙালিরা মো: নুরুল ইসলাম নয়নের হত্যাকার্ন্ড ঘটনাটি ধামা চাপা দিয়ে পাহাড়ি আদিবাসীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে ৩শত বেশি বাড়িঘর আগুন দিয়েছিল। আমরাও চাই নয়ন হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হোক শাস্তি হোক। সাম্প্রদায়িক হামলার জড়িতরাও গ্রেপ্তার হোক শাস্তি হোক।

পাহাড়ের এসব নিরীহ বাঙালি সাধারণ নর-নারীর ভুগছে, শুধু পুরুষেই নয় এমন কি লংগদু উপজেলার নিরীহ বাঙালি নারীরা পর্যন্ত গ্রেপ্তারের আতঙ্কে এভাবেই দিনপাতিত করছে খোলা আকাশের নিচে। মশা মাছির বিসাক্ত আক্রমণে অসংখ্য ছোট কোমলমতি শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে নানা প্রকার ভয়ংকর রোগে! রোজার মধ্যে সেহেরীতে অনেকেই শুধু মাত্র পানি খেয়ে রোজা পালন করছে, ইফতার করছে কোনভাবে কলা মুড়ি দিয়ে!

কি এমন অন্যায় পাহাড়ের এসব নিরীহ বাঙালি সাধারণ নর-নারীর ? কারো কাছে এমন কোন প্রমান আছে কি যে, এসব নিরীহ মুসলমান উপজাতিদের বাড়ি ঘরে আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে? এসব সবই যে পরিকল্পিত তা পাহাড়ের পূর্বের ইতিহাস থেকে প্রমান পাওয়া যায়। নিশ্চয়ই এসব উপজাতিরা পূর্বেই জানতে পেড়েছিল যে, কে বা কারা তাদের ঘরে আগুন দিয়ে পোড়াবে না হয় কেন এসব উপজাতিরা আগের দিন থেকেই সবার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্রে চলে গেল কেনই বা এতগুলা ঘর পুড়ে যাবার পরেও একজন উপজাতিও অগ্নিদহ হল না? এটা যে পরিকল্পিত এবং সাজানো ঘটনা তাই প্রমান করে নয় কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *