সুরুজ মিয়ার উপর হামলা ও মামলা প্রত্যাহরের দাবীতে উত্তপ্ত খাগড়াছড়ি

আল-মামুন,খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়িতে জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুরুজ মিয়ার উপর হামলা ও মেয়র রফিকুল আলম ও তার সহদর জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম,ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম ফিরোজ ও জেলা শ্রমিকলীগের আহবায়ক নুর নবীসহ ১২নেতাকর্মীরা নাম উল্লেখ করে মামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি জেলা শহর। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী পালন পালনের মধ্য দিয়ে এক পক্ষ অন্যপক্ষকে দোষারোপ করেই চলেছে।

এ দায়েরকৃত মামলাকে মিথ্যা মামলা দাবী করে দ্রুত তা প্রত্যাহারের দাবীতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি জেলা শহর। এ ঘটনায় শহরের শাপলা চত্ত্বরে রবিবার মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে মেয়র রফিকুল আলম,আওয়ামীলীগে নেতা দিদারুল আলম দিদার সমর্থিতরা। এ সময় জন সমুদ্রে পরিনত হয় খাগড়াছড়ি শাপলা চত্ত্বর থেকে কোর্ট বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত। মানববন্ধন শেষে বিশাল এক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারক লিপি দেয় রফিকুল আলম,দিদারুল আলম সমর্থিত নেতাকর্মীরা।

খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম ফিরোজ এ সঞ্চালনায় মানববন্ধনে এ সময় বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি জেলা শ্রমিকলীগ আহবায়ক নুরনবী,পানছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের,দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মাহবুব, রামগড় উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক শাহ আলম,মৎসলীগ যুগ্ম আহবায়ক বেলাল হোসেন,রামগড় পৌর আওয়ামীলীগের নেতা আনোয়ার হোসেন,যুবলীগ নেতা পলাশ,জামাল হোসেন প্রমূখ। এতে সভাপতিত্ব করেন, । খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কামাল পাঠোয়ারী।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে খাগড়াছড়িতে পার্বত্য জেলা পরিষদ,উন্নয়ন বোর্ডসহ সকল বরাদ্দ লুটপাটে নেমেছে চক্রটি। বর্তমানে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে নানা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে তারা। শুরু তাই নয় বিভিন্ন স্থানে মসজিদ,মন্দির নিয়েও সংঘবদ্ধ চক্রটি অপরাজনীতিতে মেতে উঠেছে। তারই অংশ হিসেবে রজিনৈতিক পতিপক্ষ বানিয়ে ঘায়েলের লক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের নেতা এবং দুই বারের সফল মেয়র রফিকুল আলম,তার ছোট ভাই আওয়ামীলীগ নেতা দিদারুল আলম দিদারসহ সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম আলম সমর্থিতদের কোনঠাসা করতে মাঠে নেমেছে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অনুসারীরা।

দ্রুত এ ষড়যন্ত্র থেকে সড়ে না আসলে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও প্রতিহত করার হুশিয়ারী জানান নেতাকর্মীরা। এ সময় বক্তারা দীর্ঘ দিন ধরে খাগড়াছড়িতে রাজনীতির নামে একের পর এক হামলা,মারধর,নেতাকর্মীদের বাড়ীছাড়া করাসহ সহিংসতার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র ত্রিপুরা ও তার অনুসারীদের দায়ী করেন।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রেরণ করে জাহেদুল আলমের সমর্থিত নেতাকর্মীরা। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের কদমতলীস্থ অস্থায়ী থেকে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অনুসারীরা হামলার ঘটনার জন্য খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম ও তার সহদর দিদারুল আলমসহ ১২নেতাকর্মীরা নাম উল্লেখ দায়ী করে মামলা দায়ের এ ঘটনার জন্য দোষিদের শাস্তিদাবী করে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রেরণ করে। এ সময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী,জেলা আওয়ামীলীলীগের যুব বিষয়ক সম্পাদক ও পাজেপ সদস্য মংশেইপ্রু চৌধুরী অপুসহ সিনিয়র নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।

এ ঘটনার জন্য বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অনুসারিরা সংবাদ সম্মেলন থেকে রবিবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দেওয়ার সিধাদ্ধের কথা ঘোষনা করে। পরে শক্রবার এক বিক্ষোভ মিছিল থেকে জাহেদুল আলম সমর্থিত নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ ঘটনার জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের দায়ী করে মামলা প্রত্যাহারের দাবী করে রবিবার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি কর্মসূচী ঘোষনা করে।

উল্লেখ যে, গত ১ লা আগষ্ট শোক র‌্যালী থেকে ফেরার পথে এমপি সমর্থিত গ্রুপের জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুরুজ মিয়াকে এলোপাথারি কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে দুবৃত্তরা। এ ঘটায় খাগড়াছড়ি সদর থানার ৩ আগষ্ট ২০১৭ইং বিকেলে জানু সিকদার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং ১। মামলায় দাবিকৃত চাঁদার এক লাখ টাকা না দেওয়ায় আহত ব্যাক্তিকে হত্যার চেষ্টাসহ হামলার অভিযোগ আনা হয় বলে জানা যায়।

প্রসঙ্গত: গত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে। সে থেকে দুই গ্রুপের বিভক্ত হয়ে গত দুই বছর ধরে হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *