আন্তর্জাতিক আলোচিত বাংলাদেশ ক্রাইম নিউজ দূর্ঘটনা প্রশাসন ব্রেকিং নিউজ

রোহিঙ্গাদের কান্নায় বিশ্ব বিবেক জাগবে কি?

ডেস্ক:: এমন নিষ্ঠুরতায় আমরা ভীষণ কষ্ট পাচ্ছি। অন্ধ হতে মন চায়। এমন জুলুম নির্যাতনে স্বাভাবিকভাবেই মন খুব খারাপ হয়। কেবলই মনে প্রশ্ন জাগছে, মানুষের জীবন কি এতই ঠুনকো? জীবনের কি কোনোই মূল্য নেই? নিশ্চয়তা নেই? ঠিক-ঠিকানা নেই? আমাদের দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের ওপারে মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের যেভাবে নির্মম গণহত্যা, গণধর্ষণ, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়ে বসতবাড়ি থেকে বিতাড়নসহ বিভিন্ন ধরনের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার করা হচ্ছে এমন নজির বিশ্বে খুব কমই আছে। বিগত কয়েক দশক ধরে মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ ইন করছে। রুটিন মাফিক নির্যাতন করে রোহিঙ্গাদের বাধ্য করছে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে। বর্তমানে ১৪ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রিত অবস্থায় বসবাস করছে। যদিও রিফিউজি হিসেবে বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা আরও কম। রোহিঙ্গাদের প্রতি যা করছে মায়ানমার সরকার, তা সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধেই অপরাধ। এক হাজার বছরের বেশি সময় ধরে আরাকানে বিকশিত হতে থাকা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সুবিধা না দেয়া, গ্যাটো সৃষ্টি করে সেখানে অমানবিক পরিবেশে থাকতে বাধ্য করা, জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োগ করা, বিচারবর্হিভূতভাবে গ্রেফতার করা, মালিকানাসত্ত্ব, সার্বজনীন শিক্ষা, চিকিৎসা, উপযোগ সেবা ও মৌলিক মানবাধিকার হতে বঞ্চিত করার মাধ্যমে নিমর্মতার শেষ সীমানাটুকু অতিক্রম করেছে মায়ানমার সরকার। মায়ানমার সরকার তার দেশের নাগরীকদের এভাবে নির্যাতন এবং অন্যদেশে চলে যেতে বাধ্য করতে পারে না।

আসলে মায়ানমারের মতলবটাই অনেকে বোঝে না। তারা রহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশে পাঠাতেই সীমা লঙ্ঘন করে জুলুম, নিষ্ঠুরতা চালাচ্ছে। তারা চায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে চলে আসুক। বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় তাই রহিঙ্গারা আমাদের দেশের না হলেও বিভিন্ন সময়ই সরকার মানবিক কারণে এদের আশ্রয় দিয়েছে, এবারও দিচ্ছে। অন্যদেশ হলে যুদ্ধে সামিল হতো মায়ানমারের সাথে। মায়ানমার চরম সীমালঙ্ঘন করছে। তাদের দেশের নাগরিকদের আমাদের দেশে পাঠাতে যে নিষ্ঠুর নীতি তারা অবলম্বন করছে তা অন্যায় এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম পরিপন্থি। এমন হলেও বিশ্বে মিনমিনে প্রতিবাদ হচ্ছে। মোড়ল দেশগুলোর ভূমিকায় কি খুব খুশি হতে পারছি আমরা? তারা চাইলে তো বিশ্বে সবই হয়। তাদের চাওয়াটা নিখাঁদ কি-না তা প্রশ্নবিদ্ধ!

আমরা উদ্বেগের সঙ্গে মায়ানমারের সঙ্গে কোনো কোনো রাষ্ট্রের মাখামাখি লক্ষ্য করছি। মুসলিম নিধনে তাদের মৌন সম্মতি দেখে আমরা বিস্মিত ও হতবম্ব! বিশ্বের কথিত উন্নত সভ্যতার দেশ হিসাবে পরিচিত রাষ্ট্রগুলোকেও রহস্যজনভাবে নিশ্চুপ দেখা যাচ্ছে। মুসলমান নিধন আর এমন জুলুম অত্যাচারের যারা প্রশ্রয় দিচ্ছে, সে সঙ্গে বাংলাদেশের মতো দেশে যারা অন্যদেশের নাগরিকদের চাপিয়ে বোঝা বাড়াতে নীরব ভূমিকা পালন করছে; ধিক্, ধিক্ জানাই তাদের। কৌশলে দু্থদেশের মুসলমানদেরই তারা ক্ষতিগ্রস্ত করে চলেছে। রোহিঙ্গার ভারে কঠিন অবস্থা হয়েছে বাংলাদেশের। বেকারত্বে ভরা এ দেশে ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমন সময় আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে শ্রেষ্ঠ ধর্মের মানুষ আমরা। ‘জীবে দয়া কর’ তা ওদের ধর্ম পুস্তকে থাকলেও তারা তা মানছে কি? তাই বলে আমরা ওদের মতো উগ্রতা দেখাবো না, উস্কানিও দিবো না। অনেকে এফবিতে বিভিন্ন কথা লিখে উস্কানি দিচ্ছেন। বাঙালি বাঙালিই। সে যে ধর্মেরই হোক তাদের প্রতি আমরা কিন্তু সদয় থাকবো। সবশেষে মনে রাখবেন, কুকুরের কাজ কুকুরে করেছে…।

মায়ানমারে এমন বীভৎস হত্যাযজ্ঞ চালানোর ঘটনা বিশ্ববাসীকে হতবাক করে না? মানবতাবাদী গৌতম বুদ্ধের অনুসারী ‘জীব হত্যা মহাপাপ’ কিংবা ‘অহিংসা পরম ধর্ম’ বলে যতই ধর্মবোধে লালিত হোক, রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। মায়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট নতুন নয়। সমপ্রতি দেশটিতে আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। চলছে সামরিক অভিযান। আর দমন নিপীড়নের শিকার হয়ে শত শত রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে চাইছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গা নির্যাতন এবং সীমানা অতিক্রম করে এ দেশে ঢোকার ভয়াবহ তথ্য। মায়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতন ও তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার বিষয়টি জনবহুল বাংলাদেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বলেই প্রতীয়মান হয়। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সরকারি বাহিনীর নির্যাতন বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত এই জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে মায়ানমারে নির্যাতনের শিকার হলেও আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সহানুভূতি কমই পেয়েছে তারা। অনস্বীকার্য যে, মায়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা কয়েক যুগ ধরেই বাংলাদেশে আসছে। বর্তমানে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। যা বাংলাদেশের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের দেশে ফেরাতে জাতিসংঘের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছেন। বরাবরই এমন সাহায্য চেয়ে বাংলদেশ বর্থ হচ্ছে। মায়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের মুখে পালিয়ে এসে কয়েক লাখ মানুষ গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। বাংলাদেশ তাদের ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে এলেও মায়ানমার তাতে সাড়া দেয়নি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়াদের নাগরিক হিসেবেও মেনে নিতে নারাজ মায়ানমার। গত ২৪ অগাস্ট রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির হামলার পর সীমান্তে নতুন করে মায়ানমার নাগরিক এই রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী এই দফায় প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার মানুষ মায়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। মায়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে থেকে আরও বহু মানুষ শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা। এটা কী তাহলে মগের মুল্লুক? মায়ানমার কেনো ওদের দেশের নাগরিকদের আমাদের দেশে আসতে বাধ্য করছে। রাখাইনরা কি বাংলাদেশের নাগরিক। জাতিসংঘ কী করছে? এমন একটি দুর্বল দেশ জাতিসংঘকে তোয়াক্কা করে না তা কী আমাদের বিশ্বাস করতে হবে? এটা সব দেশের চালাকি ছাড়া আর কিছুই না। মায়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে যুগযুগ ধরে বসবাস করে আসছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা। রোহিঙ্গাদেরকে মাতৃভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য করছে দেশটির সরকার। তাদেরকে হত্যা-ধর্ষণ, বাড়ি-ঘর লুটপাট, অগি্নসংযোগ করা হচ্ছে। তাদের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চলছে তা আইয়ামে জাহেলীয়া যুগের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। দেখছে বিশ্ব মোড়লরা। কী করছেন তারা? তারা কি মুসলমান নিধনের তামাশা দেখছেন? এক ঢিলে দু’পাখি মারার মতো আরেক মুসলিম দেশ বাংলাদেশে বোঝা বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিতে আঘাত হানতে চাইছেন তারা।

মায়ানমার কাউকেই মানছে না তাই দেখছি আমরা। তবে তা বিশ্বাস করতে পারছি না। দেশে দেশে যতই প্রতিবাদ হোক; যতই বলা হোক ‘মর্মঘাতী বিনাশ থামাও’ ততই রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মূল চলছেই। নৃশংসতার মাত্রা বাড়ছেই। গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগি্নসংযোগ দেশ থেকে বিতাড়ন- সবই চালানো হচ্ছে। এভাবে চললে ধর্মীয় স্বার্থে, ইসলামের স্বার্থে মুসলমানদের এখনই ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। বিশ্ব মুসলমানদের জাগতে হবে। আর ঘুমিয়ে থাকলে চলবে না। এমন মিনমিনে প্রতিবাদে মায়ানমার থামবে না। সারাবিশ্বে এক সঙ্গে আওয়াজ তুলতে হবে। সেই সঙ্গে বিশ্ব বিকেকেও জাগ্রত হতে হবে, মায়ানমারের ওপর এখনই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। মানুষ হত্যার নীতি, মানব নির্যাতন নীতি কোনো দেশেরই মেনে নেয়া ঠিক না। বিশ্ব মোড়লরা ধমক দিলে সারা দুনিয়ায় কি-না হয়? মোড়ল দেশের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, মায়ানমারে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মায়ানমার সরকারকে ধমক দিন। আমরা মনে করি এবং বিশ্বাস করি আপনাদের একটি ধমকেই এ নির্যাতন বন্ধ হতে বাধ্য। আপনাদের তাই করা উচিত। মনে রাখবেন ্তুসবার ওপর মানুষ সত্য তাহার ওপর নাই্থ। মানবজাতির ওপর চরম নির্যাতন হচ্ছে। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির ওপর আঘাত হানা হচ্ছে। এ আঘাত কারও সওয়া ঠিক না।

নিরীহ, অসহায়, নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলমানরা এই বর্বরতার শিকার হয়ে নিষ্পেষণের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। সাংবিধানিক, সামাজিক, মৌলিক অধিকার, ভোটাধিকার দূরে থাক, মানুষের অধিকারটুকুও নেই রোহিঙ্গা নামক জাতিসত্তার জন্মভূমি মায়ানমারে। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এমন বীভৎস হত্যাযজ্ঞ চালানোর ঘটনা বিশ্ববাসীকে হতবাক করে বৈকি! বিভিন্ন দেশে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কিছুতেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। প্রতিবাদ আরও তীব্র হতে হবে। সারা মুসলিম দুনিয়াকে নিষ্ঠুর মায়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে। মায়ানমারে মুসলমানদের ওপর যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন অত্যাচার চলছে তাতে করে সারা দুনিয়ার মুসলমানদের আর চুপ করে থাকা ঠিক না। নওমুসলিমরা মুসলমান নিধনের কৌশল নিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। তা না হলে মায়ানমারের মতো একটি দেশ এভাবে সাহস দেখায় কী করে! মুসলমানদের অগ্রযাত্রায় ভীত হয়ে অন্যধর্মাবলম্বীরা নানা সময় মুসলমানদের খাটো করার পথ বেছে নেয়। অনেকে আবার মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার স্বপ্নও দেখে। মায়ানমারে এভাবে বছরের পর বছর রোহিঙ্গা নিধন এর অংশ নয় তো?

রাখাইন রাজ্যে আনুমানিক ১৪ লাখ রোহিঙ্গার বাস। জাতিসংঘের ভাষায় এরা বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। বিশ্ব সবচয়ে নির্যাতিত গোষ্ঠী স্বীকার করছে কিন্তু এ নির্যাতন বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মায়ানমার সরকার বংশ পরম্পরায় হাজার বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পর্যন্ত প্রদান করে না। এটা বার্মানীতি! মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গা শব্দটি পর্যন্ত ব্যবহার করতে রাজি নয়। তারা এ সম্প্রদায়ের মানুষদের অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। তা তারা গায়ের জোরেই করতে চায়। বহু মানুষই মায়ানমারে তাদের পূর্বপুরুষদের শিকড় প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না মায়ানমার সরকারের। তারা যা বলছে তাই বহাল রাখছে। কোনো প্রমাণ, কোনো দলিল-দস্তাবেজ বিষয় নয়। এমন নীতি কি প্রমাণ করে না যে, দেশটির সরকার আর নওমুসলিম গোষ্ঠী মুসলমান নির্মূল চাইছে?

আমরা দীর্ঘদিন ধরেই দেখে আসছি, রোহিঙ্গা মুসলিমদের জাতিগতভাবে নির্মূলের চেষ্টা করছে মায়ানমার । দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী পুরুষদের হত্যা করছে, শিশুদের জবাই করছে, নারীদের ধর্ষণ করছে, বাড়িঘর লুটপাট ও অগি্নসংযোগ করছে এবং এদের নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করছে। এ দিকে মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংকট সমাধানে দেশটির নেত্রী অং সান সুচির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার। এ সংকটকে যেভাবে মোকাবিলা করছে সুচির সরকার তাতে দেশ-বিদেশে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে। পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, মিসরসহ বিভিন্ন দেশ। ১৯৭০ সাল থেকে বহু রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং ২০১২ সালের দাঙ্গার পর আবার নতুন করে অনুপ্রবেশ বাড়ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, অর্ধশতাব্দীর সামরিক স্বৈরশাসনের পর যখন মায়ানমারে গণতন্ত্রায়নের সুবাতাস বইছে, গণতন্ত্রের সংগ্রামে নির্বাচিত দেশটির জনপ্রিয় নেত্রী অং সান সুচির দল নির্বাচনে জয়ী হয়েছে, সে সময় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বদলে আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। এ নির্যাতনে নোবেল পাওয়া সুচির অংশ গ্রহণের বিষয়টি কি প্রমাণ করে না? সুচি চাইলেই মায়ানমারে সব হবে? রোহিঙ্গা নিধন প্রক্রিয়াও বন্ধ হবে। তবে কি সুচি মুসলমানদের অশান্তিই চাইছেন? তার চোখের সামনে, আমি বলবো তার সমর্থন নিয়েই রোহিঙ্গা নিধন চলছে। এ নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

মায়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট নতুন নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য যে, ১৭৮৪ সালে বর্মীদের আরাকান দখলের আগে সুদীর্ঘ ৩৫০ বছর পর্যন্ত আরাকান রোহিঙ্গা মুসলমান কর্তৃক শাসিত হয়েছে। অথচ তারা আজ নিজ দেশে পরবাসী। আরাকানসহ বার্মাকে মুসলিম শূন্য করার লক্ষ্যে ১৯৩৭ সাল থেকে যে নির্যাতন চলছে। তার একটা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এমন ১৯৩৮ সালে সেন্ট্রাল বার্মায় ২০ হাজার মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময় ব্রিটিশরা আরাকান ত্যাগ করলে এবং জাপান আরাকান দখলে নেয়ার আগে স্বল্প সময়ে আরাকানকে ল-ভ- করে দেয়া হয়। এ সময় কমপক্ষে এক লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয় এবং কয়েক লাখ দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়। ১৯৪৮ সালে ‘এথনিক ক্লিনজিং প্রোগ্রাম’-এর আওতায় প্রায় ৫০ হাজার জনকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বলপূর্বক প্রেরণ করা হয়। ১৯৭০ সালে অবৈধ অভিবাসীকে চিহ্নিত করার নামে আরাকানে অনেকবার তল্লাশির নামে আরাকানি যুবক যুবতীদের চরমভাবে নির্যাতন করা হয়। ১৯৭৮ সালের ড্রাগন অপারেশনের মাধ্যমে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যা ও প্রায় ৩ লাখকে বাংলাদেশে বিতাড়ন করা হয়। ১৯৯১-৯৭ সালের মধ্যে প্রায় ২ লাখ মুসলিমকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়। ২০০৪ সাল নাগাদ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় যে, বাংলাদেশে কমপক্ষে ১৫ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বসবাস করছে। বাংলাদেশ অনেক উদারতা দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু এর ফলে এ দেশে দীর্ঘমেয়াদি নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মায়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যেখানে কোনো লক্ষণই নেই, সেখানে বাংলাদেশ নতুন করে রোহিঙ্গা আশ্রয় দিয়ে নিজেই সমস্যা পড়বে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলে মায়ানমারে রাখাইন প্রদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার পরিকল্পনাই সফল হবে। মায়ানমারের এ পরিকল্পনা সফল হতে দিলে বাংলাদেশের সমূহ ক্ষতির কারণ হবে। রহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি মানবিক এবং দেয়াও উচিত, দিচ্ছেও। আর এ সুযোগটিই নিচ্ছে মায়ানমার সরকার। এইচআরডবিস্নউ বলছে, ‘বাংলাদেশের উচিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণ করা ও তাদের সুরক্ষা দেয়া’। এমন উচিতটা বুঝলেও এইচআরডবিস্নউ মায়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধে সুস্পষ্ট কোনো আহ্বান জানাননি বরং তারা তাদের ওয়েবসাইটে বলেছেন, মায়ানমারে সহিংসতার অর্থ হলো বাড়ি ফিরে যাওয়ার আর কোনো উপায় নেই। বিষয়টি মায়ানমার সরকারের কর্মকা-কেই সমর্থন করে বৈকি। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মায়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা উচিত ছিল। তা তারা করেনি। তাদের এমন মৌন সমর্থনের ফলে মায়ানমার সরকারের বোধোদয় হবে না কখনই।

প্রশ্ন হলো, রোহিঙ্গাদের নিয়ে বর্তমান সংকটের সমাধান কীভাবে হতে পারে? মায়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। অতীতে অনেক দেশেই এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে ্তুপরমাণু অস্ত্র নিয়ে জাতিসংঘ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সিরিয়া ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এখন মায়ানমারের ওপর যদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তাহলে সম্ভবত তাদের বোধদয় হবে। নইলে হবে না। এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ কি আদৌ হবে? যদি না হয় বিশ্ব মুসলিমদেরই জাগতে হবে। সারাবিশ্বে আওয়াজ তুলতে হবে যাতে মায়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আর এটাই বোধ করি সঠিক সমাধানের পথ।

মীর আব্দুল আলীম : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *