আলোচিত বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জাতীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশাসন ব্রেকিং নিউজ

খাগড়াছড়িতে সহকারী শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

আল-মামুন,খাগড়াছড়ি:: খাগড়াছড়িতে বেতন বৈষম্য নিরসন ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন-স্কেল নির্ধারণের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি খাগড়াছড়ি জেলা শাখা। শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সংগঠনটির জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দরা এতে অংশ নেয়।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সমিতি’র খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহবায়ক এ্যামিলি দেওয়ানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সদস্য-সচিব মাসুদ পারভেজ বলেন, ২০১৫ সালে প্রায় শতভাগ বেতন বৃদ্ধি করা হলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে চরম বৈষম্যের শিকার।

এতে সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব মাসুদ পারভেজ। উপস্থিত ছিলেন, মাটিরাঙ্গা শাখার সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম,দীঘিনালা শাখার সভাপতি সুবাস দত্ত চাকমা,মানিকছড়ির চিংলাপ্রু মারমা,সদর উপজেলার মনিরুল ইসলাম,রামগড়ের কাশেম আলী প্রমূখ।

এতে জানানো হয়, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। এতে প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল থেকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল তিন ধাপ নিচে নেমে যায়। ”বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের প্রস্তাবিত বেতন স্কেল বাস্তবায়ন হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল চার ধাপ নিচে নেমে যাবে। অথচ ২০০৬ সালে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ছিল প্রধান শিক্ষকদের একধাপ নিচে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারি শিক্ষকদের তিন ধাপ বেতন বৈষম্য ও পদমর্যাদা বৈষম্য সৃষ্টি হওয়ার পর সহকারি শিক্ষকরা এই বৈষম্য নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দফায় দফায় আলোচনা করা হয়েছে। বেতন বৈষম্য নিরসনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার চিত্র ভিন্ন। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে অধিকার আদায়ে সকল সরকারি প্রাথমিক সংগঠন গুলোর সমন্বয়ে মহাজোট গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দরা আরো অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারী শিক্ষকদের তিন ধাপ বেতন বৈষম্য ও পদমর্যাদা বৈষম্য সৃষ্টি হওয়ার পর সহকারী শিক্ষকরা এ বৈষম্য নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানববন্ধন,শিক্ষক সমাবেশ,কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতীকি অনশন,স্মারকালিপি পেশ করা হয়।

দফায় দফায় বৈঠক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর সাথে অর্ধশত বার দাবী পেশ করলেও তা কোন কাজে আসেনি। এ নিয়ে গত চার বছর পার হলেও কোন ধরনের সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষক নেতারা। আগামী ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবী পুরণ না হলে ২৩ ডিসেম্ভর থেকে সারাদেশের শিক্ষকদের সাথে খাগড়াছড়ির সকল শিক্ষকরাও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসুচী পালনের হুশিয়ারী জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *