আলোচিত বাংলাদেশ চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্রেকিং নিউজ রাজনীতি

সোমবার ইউপিডিএফের ধারাবাহিক কর্মসূচী ঘোষনা


আল-মামুন,খাগড়াছড়ি:: সোমবার খাগড়াছড়িতে নেই হরতাল-অবরোধ। ইউপিডিএফের দুই দিনের অবরোধ সফল হয়েছে উল্লেখ করে সংগঠনটির প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ বিভাগের নিরন চাকমার প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন মিঠুন চাকমা হত্যার প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা দেবে ইউপিডিএফ।

সোমবার (৮ জানুয়ারি ২০১৮) সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ির স্বনির্ভরস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। রবিবার বিকেলে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ তথ্য জানান।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জেলার সকল প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় নব্য মুখোশ বাহিনী সন্ত্রাসীদের দিয়েইউপিডিএফ-এর অন্যতম সংগঠক মিঠুন চাকমাকে হত্যা, তাঁর মরদেহ দলীয় অফিসে এনে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধাদানের প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে শনিবার (৬ জানুয়ারি) ও রবিবার (৭ জানুয়ারি) দুই দিন ব্যাপী খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্বতঃস্ফুর্ত ও সফলভাবে পালিত হয়েছে বলে জানান সংগঠনটি।

এতে জানানো হয়, দুই দিনের অবরোধে জেলা সদর ও উপজেলাগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। দূর পাল্লার কোন যানবাহনও চলাচল করেনি। অবরোধের শুরু থেকে শহরজুড়ে পুলিশ-বিজিবি’র নজিরবিহীন টহল ছিল। প্রথম দিন পুলিশ খাগড়াছড়ি সদরের চেঙ্গী ব্রীজ এলাকায় পিকেটারদের উপর হামলা ও বাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে ৩-৪ জন পিকেটার আহত হয়। একই দিন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গাছবান এলাকায় প্রশাসন ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পিকেটারদের ধাওয়া করে।

এরপর অবরোধ আরো একদিন বাড়িয়ে রবিবার (৭ জানুয়ারি) দিনব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। দ্বিতীয় দিনের অবরোধে এক নিরীহ পথচারীকে আটক ও সেনা-পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ছাড়া বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

দুই দিনের অবরোধ শেষে রবিবার সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফ-এর খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের প্রধান সংগঠক সচিব চাকমা অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা করায় জেলার সকল যানবাহন মালিক সমিতি, চালক, শ্রমিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মিঠুন চাকমার দাহক্রিয়া ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা হাজার হাজার জনতাকে বাধা দেয়ার মাধ্যমেই তাঁকে হত্যার সাথে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন জড়িত তা স্পষ্ট হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়িত-নির্যাতিত জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে সেনা সৃষ্ট নব্য মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে ইউপিডিএফ-এর নেতা-কর্মীদেরপরিকল্পিতভাবে বেছেবেছে হত্যা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, এদেশের শাসকগোষ্ঠী নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হত্যা, নির্যাতনের মাধমে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে মেধাশূণ্য করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে মিঠুন চাকমার হত্যাকারীদের গ্রেফতারপুর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *