আলোচিত বাংলাদেশ ক্রাইম নিউজ চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশাসন ব্রেকিং নিউজ

লটারীর নামে অর্ধ কোটি টাকার অবৈধ জুয়ার রমরমা বাণিজ্য

বিশেষ প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:: খাগড়াছড়ির গুইমারায় লটারীর নামে চলছে অর্ধ কোটি টাকার রমরমা জুয়ার বাণিজ্য। গুইমারা দেওয়ান পাড়া ক্লাবের উদ্যোগে প্রতি পাঁচ দিনে সপ্তাহ ধরে দুই হাজার সদস্যের কাছ থেকে ১শ টাকা হারে নিয়ে চালানো হচ্ছে অবৈধ এ লটারী নামের রমরমা জুয়া। ভাগ্য পরিক্ষার নামে এ জুয়া পরিচালনা ও উপদেষ্টা কমিটিতে রয়েছে গুইমারার সুনাম ধন্য কর্তা ব্যাক্তিরা। তবে লটারী পরিচালনাকারীরা উপদেষ্টা কমিটিতে তাদের নাম রাখলেও সে বিষয়ে কিছুই জানে না উপদেষ্টারা।

এ লটারীর নামে জুয়ার কোন ধরনের অনুমতি নেই জানিয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়–য়া বলেন, প্রশাসনের কোন ধরনের অনুমতি ছাড়া লটারীর নামে এ জুয়া চলবে না। এ লটারীর কোন অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। এ বিষয়ে গুইমারা থানার ওসিকে লটারী বন্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জেনেছি। শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ এ লটারী চলতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র জানায়, দুই হাজার সদস্যের জন্য দুই হাজার পুরস্কারের লোভনীয় প্রতারণা ও দুর্নীতির ফাঁদ পাতা হয়েছে এ অবৈধ লটারীতে। এছাড়াও প্রতি সপ্তাহের ড্রর পূর্বে টাকা পরিশোধের শর্ত জুড়ে দেওয়াসহ পরিচালনা কমিটির যে কোন সিধান্ত চুড়ান্ত বলে গন্য হবে বলে কার্ডে উল্লেখ করা হয়। এ লটারী পরিচালনা কমিটিতে ১২ সদস্য ও ৪ জনকে উপদেষ্টা কমিটিতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি শনিবার বিকেল ৩টায় দেওয়ানপাড়া ক্লাবে অনুষ্ঠিত হওয়া এ লটারীতে ৪টি মোটরসাইকেল,২টি ফ্রিজ,২টি গরু,২টি স্টীলের আলমারী ও ৪টি গ্যাস সিলিন্ডারসহ কিছু লোভনিয় পুরস্কারের নাম প্রদর্শন করে লটারীর নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। প্রতারণার অংশ হিসেবে লটারীতে সিডি,টার্চ মোবাইল ও রাখা হয়ছে। যাতে সপ্তাহে দুই লক্ষ টাকা উত্তোলন করেও (আনুমানিক) ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দামের ৪টি মোবাইল পুরস্কার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ রয়েছে।

এ সব উত্তোলিত অবৈধ লটারীর টাকায় কি করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার দাবী জানিয়ে সচেতন মহল। প্রতি সাপ্তাহে ১শ টাকা হারে ২হাজার সদস্যর কাছ থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে ২লক্ষ টাকা। আর মোট ২৬ সাপ্তাহে উত্তোলন করা হবে ৫২ লক্ষা টাকা। লটারীটি ২৬ সপ্তাহের মধ্যে ইতি মধ্যে ৫ সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেলেও প্রশাসনের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

লটারী নামে এ জুয়ার খেলায় উপদেষ্টা কমিটিতে রাখার বিষয়ে গুইমারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ কমিটিতে রাখার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কে বা কারা এ কমিটিতে আমাকে রেখেছে তা আমার জানা নাই।

গুইমারা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেমং মারমা বলেন, উপদেষ্ঠা কমিটিতে আমাকে রাখার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। লাটারী বিক্রির পর আমাকে নাম রাখার বিষয়টি জানানো হয়। এখন এলাকার বিষয় হওয়ায় নাও বলতে পারছি না। হ্যা ও বলতে পারছি না বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে দেওয়ান পাড়া ক্লাবের পরিচালনা কমিটির কংজরী মারমার সাথে লটারীর বিষয়ে প্রশাসনের অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে পরে প্রতিবেদনের কথার পেছে তা আবার অস্বীকার করে বলেন, অনুমতির প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে বলেন, আমরা রাজনীতি করি। সারাদেশে এ লটারী চলে বলে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেদককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *