আলোচিত বাংলাদেশ ক্রাইম নিউজ চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্রেকিং নিউজ রাজনীতি

প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রাসেল হত্যাকান্ড

নুরুল আলম:: খাগড়াছড়ির আলোচিত ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল হত্যাকান্ড প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা জের ধরে ঘটানো হয়েছে। রাসেল হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী মোমিনের স্বীকারোক্তিতে এ তথ্য বেরিয়ে আসে।

এ ঘটনায় হত্যা মামলা এজাহারভুক্ত আসামী মো: রমজান হোসেন মোমিনকে খাগড়াছড়ি পৌরসভা ভবন থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের হস্তক্ষেপে তার রুম থেকে তাকে আটক ও খাগড়াছড়ি সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

থানায় হস্তান্তরের আগে পৌরসভা মেয়র রফিকুল আলমের কক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি করা হয় আসামী মোমিনকে। এ সময় মোমিন হত্যাকান্ডের পুরো ঘটনা তুলে ধরেন মো: রমজান হোসেন মোমিন। মুলত পূর্ব শত্রুতা ও প্রতিশোধের জেরে ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল হত্যার কথা স্বীকার করেছে সে।

মোমিন জানান, কয়েক মাস আগে মোমিনের বন্ধু অটোরিক্সা চালক সুমনকে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেয় রাসেল ও তার বন্ধুরা। ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় রাসেলসহ কয়েকজনকে মিলনপুর ব্রীজে বসে থাকতে দেখে সুমন ৭-৮ জন বন্ধুকে সাথে নিয়ে রাসেলকে মারধর করার কথা জানায় সে।

মারধরের এক পর্যায়ে সুমনই রাসেলকে ছুরিকাঘাত করে। এক পর্যায়ে সে রাসেল ঢোলে পড়লে সবাই তাকে ফেরে রেখে সবায় পালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে রাসেলের মৃত্যুর খবর পায় বলে জানায় মোমিন।

খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম বলেন, সংসদ সদস্য সমর্থকদের সাথে আমাদের রাজনৈতিক বিরোধ আছে কিন্তু এ হত্যাকান্ড রাজনৈতিক নয়। আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে মামলায় আসামী করা হয়েছে।

রাসেল হত্যার পর থেকে মোমিন বিভিন্ন নেতার কাছে আশ্রয় চেয়েছে। কিন্তু কোথাও আশ্রয় না পেয়ে আমরা তাকে আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি খাগড়াছড়ি আসতে বলে পুলিশে সোর্পদ করেছি। এখন পুলিশে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটো গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত: গত ২৪ মার্চ রাতে খাগড়াছড়ির মিলনপুর এলাকায় দুবৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রাসেল হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনার পর রাসেলের মা বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ৩৪ ১০/১৫ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *