ব্রেকিং নিউজ
Home » অন্যান্য » গুইমারায় মাদ্রসা সুপারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

গুইমারায় মাদ্রসা সুপারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:: অনিয়ম, দূর্নীতির আরেক নাম খাগড়াছড়ি’র গুইমারা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার। সরকারের উন্নয়নের ছোয়াঁয় উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে নান্দনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বাহির থেকে অনেক সুন্দর হলেও ভিতরে দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে। মূলত অভিযোগগুলো মাদ্রাসার সুপার জায়নুল আবেদিনের বিরুদ্ধে ।
গুইমারা উপজেলার একমাত্র দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুপার জায়নুল আবদীনের প্রতিহিংসা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ২০১৯ সালের শিক্ষার্থী দাখিল পরিক্ষার ফরম পুরণ করতে না পেরে শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় পলাশ চৌধুরী জানান, সরকারী নিয়মকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে মাদ্রাসার সুপার। সুপার সরকারী নিয়মে নয়, নিজের নিয়মে কাজ করায় দুঃখ প্রকাশ করেন। অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবকের অভিযোগ শুনে অনিয়ম পরিহারের অনুরোধ করেছেন, কিন্তু সুপার কোন কর্নপাত করেনি। পরিক্ষায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের তিনি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বাড়তি মার্ক দেওয়ার অভিযোগ করেন পলাশ চেীধুরী।
এছাড়াও বিগত জেডিসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মৌখিক অভিযোগ শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলে প্রথম বারের মত ক্ষমা করা হয়। এর পর অনিয়মের মাত্রা বেড়েই চলছে। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য দাখিল পরীক্ষার ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি’র ৩ গুণ অর্থ আদায় করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, ফরম ফিলআপের সাথে বিভিন্ন উন্নয়ন খাত দেখিয়ে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে সুপার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগে ১৭৩৫/- টাকা এবং মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ ১৫৫৫/- টাকা। একাধিক অভিভাবক সুত্রে জানায়, বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী প্রতি ৪২৪০/- টাকা নিলেও দিচ্ছেন না তার রশিদ, এসব কারনে অভিবাবকরা হতাশাবোধ করছেন।
এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সরকারী নির্ধারিত ফি ৫০/- টাকার পরিবর্তে ৭৫ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫০/- টাকা হারে আদায় করেছেন। যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি সঠিক কোন উত্তর।
এ বিষয়ে গুইমারা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং সুপার সত্যতা স্বীকার করেছেন তবে নানান খাতও দেখিয়েছেন । কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন আইনগত ব্যবস্থা তিনি নেননি।
এই প্রতিষ্ঠান প্রধানের মত গুইমারার অন্যন্ন স্কুল গুলোর প্রধানারাও বিভিন্ন অজুহাতে ও বিভিন্ন কৌশলে অতিরিক্ত পরিক্ষার ফিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
গুইমারা দাখিল মাদ্রাসার সুপার লোকালয়ে বলে বেড়ায়, আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিকেরা লিখলে কি হবে, আমার প্রতিষ্ঠানের পিওন রয়েছে তাদের মতো একজন সাংবাদিক, তারা কি লিখবে আমার জানা আছে।
এ কথার ভিত্তিতে গুইমারা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুরুল আলম তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এবং মাসিক আইন শৃঙ্খলা মিটিং-এ তার এই কথ্য উক্তির কথাটি উত্থাপন করে বলেন, তিনি এ ধরনের অকথ্য কথা কোন ধরণের সভ্যতা বলে মনে করেন। তাছাড়া সুপারের দুর্বলতার কারনে, তার অফিসের পিওন মোঃ আব্দুল আলী তার কর্তব্যকে ফাকি দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করে। এ বিষয়টি বার বার সুপারকে জনালেও কোন ব্যবস্থায় নেয়নি। এতে প্রতিষ্ঠানের বদনাম ও অভিভাব, শিক্ষক-শিক্ষীকা ও ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

About admin

Leave a Reply