পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্রেকিং নিউজ

গুইমারা এলাকা থেকে প্রতিদিন কাঠ পাচার

নুরুল আলম:: গুইমারা পাহাড়ি এলাকাতে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ কাঠ পাচার হচ্ছে, লক্ষ্মিছড়ি, রামগড়, মানিকছড়ি, উপজেলায় বিকল্প রাস্তা দিয়ে রাতে ও প্রকাশ্য দিনে বন বিভাগের কর্মকতা, কর্মচারিদের যোগ সাজেসে, কোঁচিকাঁচা জ্বালানি কাঠ ট্রাক ও চাঁদের গাড়ি দিয়ে ফটিকছড়ির বিভিন্ন  ইটের ভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। রামগড় উপজেলা প্রশাসনে ছত্রছায়ায় ও বনবিভাগের যোগসাজেসে ৬টি ইটের ভাটায় জালানী কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও  চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এলাকার ইটভাটায় ব্যবহার ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সংরক্ষিত ও সামাজিক বনায়নের কাঠ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে অন্তত ২০-২৫ টি ট্রাক ও ৩০-৩৫ টি  চাদেঁর গাড়ি করে।

বন বিভাগ সূত্র জানা যায়, বিভিন্ন  উপজেলা বন বিভাগের ৪২০ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল রয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন সামাজিক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগানও রয়েছে। এসব বনাঞ্চল থেকে অবাধে গাছ কেটে নিচ্ছেন এক শ্রেণির অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী। এমনকি বাদ যাচ্ছে না সংরক্ষিত বনের গাছও। জ্বালানি কাঠ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, ফটিকছড়ি উপজেলার ৪৯টি ইটভাটা ও অর্ধশতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ কাঠ সরবরাহ করেন তাঁরা। রামগড় উপজেলা প্রশাসনে ছত্রছায়ায় ও বনবিভাগের যোগসাজেসে ৬টি ইটের ভাটায় জালানী কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।

গুইমারা জালিয়াপাড়া ফরেস্ট অফিস ও মানিকছড়ি উপজেলার গাড়িটানা বনবিভাগ চেকপোস্ট  এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে এবং রামগড় উপজেলার সোনাইপুল বন বিভাগের রেঞ্চ ও পরিক্ষণ পারির কর্মকর্তাদের মোটা অংকের উৎকোজ নিয়ে এসব  জ্বালানি কাঠের গাড়ি পাচারে সহযোগিতা করে।

গুইমারা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কোঁচিকাঁচা মুল্যবান জ্বালানি কাঠ কেটে চোরাই পথে এবং প্রকাশ্যে জালিয়াপাড়া সড়ক দিয়ে,জ্বালানি,গোল রদ্ধা কাঠ পাচার করা হচ্ছে,সরকারি নিয়ম নিতি তোয়াক্কা না করে,পুলিশ ও বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগ সাজেসে,এসকল পাচার কারীরা মোটা অংকের টাকা দিয়ে স্থানিয় প্রশাসনকে মেনেজ করে এসব কাজ অব্যাহত রেখেছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি বাগানবাজার, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, নারায়ন হাট, মীর্জারহাট, কাঞ্চননগর, শোভনছড়ি, হাজারীখীল ও সর্তা থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি কাঠ পাচার হয়।

দীর্ঘদিন ধরে  ফটিকছড়ি উপজেলার কাজিরহাট-নাজিরহাট এবং খাগড়াছড়ি সংযোগ সড়কে বিবিরহাট-নাজিরহাট সড়কটি কাঠ পাচারের নিরাপদ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই এলাকার কাঠ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তাঁরা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাঠ কিনে তা সুবিধাজনক স্থানে রাস্তার  ধারে এনে জমা করেন। সেখান থেকে ট্রাক ও জীপে বোঝায়  করে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয।

সরেজমিনে ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়নহাট গিয়ে দেখা যায় যে, রাস্তার পাশেই স্তুপ করে রাখা হয়েছে কয়েক হাজার মণ জ্বালানি কাঠ। একাধিক ট্রাক ও জীপ গাড়িতে শ্রমিক দিয়ে কাঠ বোঝায় করা হচ্ছিল। শ্রমিকদের একজন মো. মুসা জানান, সামাজিক বনায়ন এবং এলাকার বিভিন্ন লোকের বাগান থেকে সংগ্রহ করা এসব কাঠ ইটভাটা ও বেকারিতে সরবরাহ করা হবে। হাটহাজারী উপজেলায় চৌধুরী হাট, কন্যার হাট,মৌহুরী হাট সহ বিভিন্ন এলাকার ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হয়।

স্থানীয় এক কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, আমি ও আমার লোকজন বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে গাছ সংগ্রহ করে ইটভাটায় পাঠাই। ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরাঞ্চল, ভূজপুর ও সদরে এ রকম আরও ৮-১০ জন ব্যবসায়ী আছেন, যাঁরা ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে কাঠ সরবরাহ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *