খাগড়াছড়িতে “ইউপিডিএফ- হামলায় আহত বাঙালি, আতঙ্কে স্থানীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: পাবর্ত্য খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দারবানসহ তিনটি জেলায় আঞ্চলিক সংগঠন প্রসীত বিকাশ খীসার ইউপিডিএফ ও সন্তু লারমার জেএসএস অত্যন্ত মারমুখী হয়ে উঠেছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে যৌথ কম্বিং অপারেশনের ঘোষণা দিয়েছে ইউপিডিএফ ও জেএসএস স্থানীয় বাঙালিদের উপর হামলা নির্যাতন চাদাঁবাজী অপহরণ গোলা বষর্নের ঘটনায় আতঙ্কে ভোকছে স্থানীয়রা।

গতকাল রবিবার খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় খাদ্য বাহী ট্রাকে  সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ট্রাকের চালক সহ চার ব্যক্তি আহত হয়। তারমধ্যে, হান্নান নামে একব্যক্তিকে খাগাড়ছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছে। অন্যরা হলেন, মোঃ হানিফ, মোঃ সাইফুল ও মো ইব্রাহিম। চাল বোঝাই করে একটি ট্রাক লংগদু খাদ্য গুদামে যাওয়ার পথে চৌধুরীপাড়া এলাকায়  পৌছলে একদল সশস্ত্র সন্ত্রসী ট্রাকের প্রতিরোধ করে চাদাঁ দাবি করে। ট্রাকের চালক চাদাঁ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মারধর করা হয়। এসময় সন্ত্রাসীরা ফাকাঁ গুলি ছুড়ে এলাকার আতংক সৃষ্টী করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউপিডিএফ জেএসএস মারমূখী হয়ে উঠেছে উপজাতীয় সংগঠন দুটি ।  পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন হতাহত হয়েছে। এতে করে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাউখালী, নানিয়ারচর, মহালছড়ি, পানছড়ি, দিঘীনালা ও বাঘাইছড়িতে যেকোনো মূহুর্তে বড় ধরণের নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা সর্বত্র বিরাজ করছে। এতে জনপ্রতিনিধি, সরকারী স্থাপনা বা পর্যটকগণ টার্গেটেড হতে পারেন।

উল্লিখিত এলাকায় কম্বিং অপারেশন জোরদার করতে গত ১০ জানুয়ারী বিকাল ৩টায় রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার দূর্গম শুকনাছড়ি পাড়ায় বৈঠক করে প্রসীত বিকাশ খীসার ইউনাইটেড পিপলস ডেমক্রটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও সন্তুলারমার জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। বৈঠকে জেএসএস’র রাঙামাটি জেলার সামরিক কমান্ডার আশাপূর্ণ চাকমা, কেন্দ্রীয় সদস্য উথোয়াইচিং মারমা, কাউখালী উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুদিপ্ত চাকমা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ইউপিডিএফ’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব সজীব চাকমা, কেন্দ্রীয় অর্থসম্পাদক রবি চন্দ্র চাকমা, কাউখালী ইউনিটের পরিচালক কার্তিক চাকমাসহ আরো অনেকে বলে সূত্রে জানাগেছে।

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা সদরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজির হোসেন গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর পরই বিক্ষুব্ধ লোকজন পানছড়ি সদরের বেশ কয়েকটি বাড়ি ঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে জেএসএস (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে  যৌথ কম্বিং অপারেশনের ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য অঞ্চলে চলছে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা। নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় জেএসএস (সন্তু) কর্তৃ হত্যা করা হয় বাঘাইছড়ির জেএসএস সংস্কারপন্থী নেতা বসু চাকমাকে।

ইউপিডিএফ কর্তৃক ব্রাশফায়ারের স্বীকার হয়েও প্রাণে বেঁচে যান খাগড়াছড়ির দীঘিনালা নাজির উদ্দিন। সবশেষ ১৩ জানুয়ারী দিঘীনালার মেরুং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় মারাত্মক আহত হন অন্তত তিন বাঙ্গালী। এছাড়াও কাউখালী উপজেলার দূর্গম হারাঙ্গী এলাকায় ফেরীতে মাল বিক্রি করতে যাওয়া এক বাঙ্গালীর কাছে ১০ হাজার চাঁদা দাবী করে সন্ত্রাসীরা। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে মারধর করে পাহাড়ে প্রবেশ করতে নিষেধ করে দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবসা বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। আতংকিত লোকজন লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য ভিতরে(দূর্গম এলাকায়) প্রবেশ করতে পারছে না। একইভাবে ভেতর থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লোক ব্যবসায়িক কাজে বের হতে পারছে না। শত নির্যাতনের পরও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। প্রাণের ভয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তাও নিতে পারছে না। এসব বিষয়ে ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র বেশ কয়েকজন নেতার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সংযোগ পাওয়া যায়নি।

সূত্র মতে, আন্তঃদলীয় সংঘাত নিরসনে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অঘোষিত অস্ত্র বিরতি শুরু করে ইউপিডিএফ ও জেএসএস। যার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাহাড়ের আসনগুলোতে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দেয় দল দুটি। কিন্তু ভয়ভীতি ও শত বাঁধা বিপত্তির মুখেও নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আদায় করতে ব্যর্থ হয় আঞ্চলিক দুটি সংগঠন। ফলে নির্বাচনের পর থেকে যৌথ কম্বিং অপারেশনের ঘোষণা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে পাহাড় জুড়ে সাধারণ পাহাড়ী- বাঙ্গালীর মাঝে ব্যাপক আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। সৃষ্ঠ পরিস্থিতি কঠোর হাতে দমন করা না গেলে পাহাড়ের আইনশৃংখলার মারাত্মক অবনতির আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *