ঈদযাত্রায় সড়কে আনন্দের ছোয়া


নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:: খাগড়াছড়িতে এবারের ঈদ যাত্রায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সাথে এই জেলার সাথে কেবল সড়ক পথে যোগাযোগ রয়েছে। প্রায় ৪শ কিমি বিস্তৃত সড়কের বেশীর ভাগ সড়ক সংস্কার হওয়ায় ঈদ যাত্রায় কোন ভোগান্তি পোহাতে হবে না। এক কথায় বলা চলে ঈদযাত্রায় এবার থাকছে আনন্দের ছোয়া।

এছাড়াও বেইলি ব্রীজের পরিবর্তে নতুন আরসিসি ব্রীজ ও কালভার্টের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় ভোগান্তি অনেকটা কমে এসেছে। গেল বছর আগাম বর্ষার কারণে খাগড়াছড়ি বিভিন্ন সড়কে ধসের কারণে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে এবার ঈদের আগেই জেলা শহর ছাড়াও আন্ত:জেলার বেশীর ভাগ সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

সম্প্রতি খাগড়াছড়ি -দীঘিনালা সড়কে সংস্কার কাজ শেষ করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ ( সওজ)। জেলার অন্যতম গুরুর্ত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় দুর্ভোগ কমেছে। বর্ষায় আগে সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় যানবাহন চলাচলে গতি ফিরে এসেছে।

খাগড়াছড়ি থেকে পর্যটন কেন্দ্র সাজেক যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম দীঘিনালা সড়ক । দীর্ঘদিন পর সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সওজ। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রায় ২২ কিমি সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সাজেকগামী পর্যটকরা এবার স্বস্তিতে এই পথে যাতায়াত করতে পারবে।

খাগড়াছড়ি -দীঘিনালা সড়কে পর্যটকবাহী গাড়ির চালক প্রদীপ ত্রিপুরা জানান,‘ আগে এই পথে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হত। পুরো রাস্তা খানাখন্দে ভরা ছিল। বর্তমানে খাগড়াছড়ি -দীঘিনালা রাস্তাটিতে কোন গর্ত নেই। তাই স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারি। তিনি আরো জানান, ‘ঈদ মৌসুমে প্রচুর পর্যটক আসবে। ফলে পর্যটকদের চলাচলেও কোন ভোগান্তি পোহাতে হবে না ।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে সড়ক ও জনপদ বিভাগ প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করে। এই সড়কে চলাচলকারী একাধিক যাত্রী জানান, দীঘিনালা সড়কে প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। দীঘিনালা ছাড়াও রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদুর বাসিন্দারা এই পথে চট্টগ্রাম বা ঢাকায় যাতায়াত করে। সড়কটি সংষ্কার কাজ শেষ হওয়ায় এই পথে আর কোন ভোগান্তি হবে না। ’
ঢাকা-খাগড়াছড়ি সড়কে যাতায়াতকারী বেসরকারি পরিবহন চালকরা জানান,‘ খাগড়াছড়ি অংশে বেশীর ভাগই পাহাড়ি সড়ক। সড়কটি আঁকা বাঁকা হলেও বর্তমানে কোন খানাখন্দ নেই। ফলে চলাচলে গতি এসেছে। এছাড়া বেইলি ব্রীজ উঠে যাওয়ায় ঝুঁকিও কমে গেছে।পাহাড়ি সড়ক এখন অনেকটায় নিরাপদ। ’

এছাড়া খাগড়াছড়ি- পানছড়ি সড়কের প্রায় ৯ টি আরসিসি গার্ডার ব্রীজের কাজ শেষ হওয়ায় এই সড়কে ভোগান্তি কমেছে। একসময় বেইলি ব্রীজ সড়কের আতংক হিসিবে পরিচিত ছিল। পাহাড়ি ছড়ার বা নদীর উপর নির্মিত বেইলী ব্রীজ ভেঙে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে। এতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ঘটনাও ঘটেছে। বর্ষা আসলে বেইলী ব্রীজের ভোগান্তি দ্বিগুণ হত। তবে এবার পাল্টে গেছে সেই দৃশ্যপট। খাগড়াছড়ি-তাইন্দং এবং খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের অধিকাংশ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ফলে এই পথে চলাচলকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। নতুন সেতু নির্মিত হওয়ায় সুফল পাচ্ছে এলাকাবাসী।

ঈদযাত্রায় খাগড়াছড়িতে সড়ক যোগাযোগ সুরক্ষা করতে কাজ করছে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। আসন্ন বর্ষাকে কেন্দ্র সড়ক যাতায়াত সুরক্ষিত করতে কাজ করছে সওজ’র মনিটরিং টিম।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান,‘ খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়কের বেশীর ভাগ অংশই সুরক্ষিত। এছাড়া আরসিপি গার্ডার ব্রীজ নির্মিত হওয়ায় সড়কের ঝুঁকিও কমেছে।

তবে বর্ষায় অতি বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে সড়কে চলাচল কোন বাধা তৈরি করতে না পারে সেই বিষয়ে সর্তক রয়েছি। খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম,খাগড়াছড়ি-ঢাকাসহ আন্ত:জেলা সড়ক যোগাযোগ সুরক্ষা রাখতে সড়ক বিভাগের মনিটরিং টিম কাজ করবে। ফলে সড়কে খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ঈদযাত্রা নিবিঘœ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *