Home » আলোচিত বাংলাদেশ » শিক্ষকের নির্যাতনে ছাত্র মৃত্যুর অভিযোগে জনমনে নানা প্রশ্ন!

শিক্ষকের নির্যাতনে ছাত্র মৃত্যুর অভিযোগে জনমনে নানা প্রশ্ন!

নিজস্ব প্রতিবেদক:: মহালছড়ি গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণির ছাত্র ছিল হোসেন আলী বাবু (১৩)। ২০১৮ সনের সমাপনী পরীক্ষায় পাশ করে মহালছড়ি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ২/৩ মাস ক্লাস করে। গত ১৯ মার্চ ২০১৯ইং তার পরিবারের পক্ষ থেকে শিক্ষকের বিরুদ্ধে সমাপনী পরীক্ষার পূর্বে হোসেন আলীকে ৩শ বার কান ধরে উঠবস ও ৩০ মিনিট হাটুর নিচে মাথা দিয়ে কান ধরিয়ে রাখে বলে অভিযোগ করেন।

এ ধরনের কোন বিষয় ঘটেনি বলে জানিয়ে স্কুলের শিক্ষকরা বলেন, ছেলেটি জন্মগতভাবে ঘাড় বাকা। সমাপনী পরীক্ষার পূর্বে বঙ্গবন্ধু ফুটবল কাপসহ বিভিন্ন খেলাধুলায়ও অংশ নেয় সে। এছাড়াও সুস্থভাবে পরীক্ষা অংশ গ্রহণ করে হোসেন আলী বাবু নামের এ ছাত্র।

হোসেন আলী বাবুর মা জানায়, জন্মগত ভাবে তার ঘাড় কুজো। এটি ডাক্তার বলেছে তার জন্মগত সমস্যা। ছেলের বাবা শফি আলম বলেন, তাদের ছেলেকে শিক্ষক শাস্তি দেওয়ায় বেশি হয়েছে। তবে ঘটনার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন আইনি সহায়তা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর পর কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান ছেলের পরিবার।

ছেলের পরিবার জানায়, সমাপনী পরীক্ষার পর হোসেন আলী অসুস্থ হলে তাকে স্থানীয় ডাক্তার দেখানো এছাড়ার জার’ফুর তেল পড়া দেয়। এ পর্যায়ে নানা কারণে ২মাস অতিবাহীত হওয়ার পর প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকা শেরে বাংলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে গত ১২ মে ২০১৯ তারিখে ভারতের চেন্নাই মিডওয়ে হাসপাতালে ছেলের অপারেশন হয় সফলভাবে। এক পর্যায়ে সুস্থ হোসেন আলীর অর্থাভাবে তাকে সরকারি রাজীব গান্ধী হাসপাতালে নেয়া হলে ১১ জুন ২০১৯ রাত ১০টায় সে প্রেসার লো হয়ে হার্ট ব্লকে মারা যায়।

এ পর্যায়ে ছেলেটির পরিবার ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ আনলেও বাংলাদেশে এনে কোন প্রকার ময়না তদন্ত ছাড়াই তার দাফন সম্পন্ন করেন। ছেলেটির ডাক্তারী রিপোর্ট দেখতে চাইলে প্রথমে ছেলেটির পরিবার রাজি হননি। পরে তা দেখালে তাতে দেখা যায় ছেলেটির “spinal cord compression due to severe cranio-cervical stenosis” রোগে ভুগছিল। চিকিৎসার কাজে ভারতে তাদের সাথে যাওয়া রাখাল শীল জানান, ডাক্তার ভাষ্য এটি ছেলেটির জন্মগত রোগ। এটি কোন দুর্ঘটনা জনিত কারনে হয়নি।

প্রধান শিক্ষক মো: মহিন উদ্দিন খন্দকার জানান তিনি হোসেন আলী কে কখনো ৩০০ বার কান ধরে উঠবস ও ৩০ মিনিট নিল ডাউন করাইনি। মেডিকেল রিপোর্ট দ্বারা তিনি এর সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান। কোন রকম ডাক্তারী পরিক্ষার তদন্ত ছাড়া একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছেলের পরিবার এতদিন পর অভিযোগের বিষয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। সুষ্ঠ তদন্তের দাবী জানিয়েছে সচেতন সমাজ।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মহালছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার দীপিকা খীসা বলেন, ঘটনার আসল কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। তাই তদন্তাধীন বিষয়ে কোন মন্তব্য না করে তিনি বলেন তদন্ত শেষ হলেই বিষয়টি পরিস্কার হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নুর আলম জানান, এ ব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ করেনি কেউ।

About admin

Leave a Reply