পাহাড় কেঁটে মাটি বিক্রির উৎসব চলছে

নুরুল আলম:: খাগড়াছড়ির গুইমারায় অবৈধভাবে সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দৃষ্টি নন্দন পাহাড়টি কেঁটে মাটি বিক্রির উৎসব চলছে। কোন ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্টরা। অর্ধশতর্বষীয় বটগাছটি কেটে লাকঁড়ি হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রতি গাড়ি মাটি বিক্রি হচ্ছে হাজার থেকে বারশত টাকায়।
কিন্তু যে পাহাড়টি কাঁটছে তার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে গুইমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় । ওই পাহাড়টি কাটার কারনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার পাশ নিচু হচ্ছে। মাঝকানে একটি পাহাড়ের উপর তিন তলা একটি ভবন সহ মোট ৪টি ভবন দাড়িয়ে রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন , উপজেলা প্রশাসনের পাহাড় কাটার বিষয়ে আইন ও বিধি নিষেধ শুধু সাধারন মানুষের জন্য। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪২৭ জন কোমলমতি ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করে। মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাহাড়টি যেভাবে কেঁটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে যে কোন সময় ধসে পরতে পারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু অংশ।
দেশের প্রচলিত আইন কখন সকলের জন্য সমান করবে সে অপেক্ষায় তারা। প্রভাবশালীদের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, ওরা বিভিন্ন সময়ে পরিবেশ বাদী হিসেবে পাহাড় কাটতে নিষেধ করেন । স্কুলের ছেলে মেয়েদের নিয়ে পাহাড় কাটারোধ, পাহাড় ধস পরিবেশবাদী সভা সেমিনার ও র‌্যালী করেন। অপরদিকে পাহাড় ধস রোধে পাহাড় কাটা বন্ধ না করে টানা বৃষ্টি হলেই তড়ি ঘড়ি শুরু হয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের। পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারন মানুষরা ঠকেই যাচ্ছে এসব প্রভাবশালী পাহাড়ের মাটি বিক্রেতাদের কাছে। তাদের প্রভাবের কাছে অনেক সময় নতজানু হয়ে যায় প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরাও।
স্বরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গুইমারা উপজেলার কাছেই মহাসড়ক সংলগ্ন অবস্থিত মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন তৈরি সহ বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশীল রঞ্জন পাল ও তার মদদ দাতাদের নিয়ে দৃষ্টি নান্দনিক এ পাহাড়টি কেটে মাটি বিক্রি করছেন । স্থানীরা অনুরোধ করার পরও কেটেছেন অর্ধশতবর্ষীয় বটগাছটি
এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশীল রঞ্জন পাল পাবত্য খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দোহাই দিয়ে বলেন, তিঁনি পাহাড়টি কাটার র্নির্দেশ দিয়েছেন। তবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেশের বাহিরে থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দুই বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়ে তিঁনি বলেন , গুইমারা কলেজিয়েট স্কুলটি নতুন হওয়ায় সেখানে শিক্ষকের সংকট তাই তিঁনি অস্থায়ী দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অন্য কোন শিক্ষক কলেজিয়েটে শিক্ষকতা করেননা।
তবে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভীষন কান্তি দাশ জানান, যদিও তিনি স্কুলের দায়িত্বে রয়েছেন তবু পাহাড় কাঁটা এবং মাটি বিক্রির বিষয়ে তিঁনি অবগত নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *