ব্রেকিং নিউজ
Home » পার্বত্য চট্টগ্রাম » দূর্গম জনপদে বদলে গেছে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন চিত্র

দূর্গম জনপদে বদলে গেছে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন চিত্র

“স্ট্রিট হাইড্রেন্ট”র আওতায় ৬৬টি হাট-বাজার: ৯৩ কোটি টাকার প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক:: খাগড়াছড়ির প্রত্যান্ত পাহাড়ী জনপদে বিশুদ্ধ পানি আর স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ছিল সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সচেতন সমাজেও। প্রতিনিয়তই পানি বাহিত রোগে অসুস্থতা ও সুপেয় বিশুদ্ধ পানির অভাব ছিল লক্ষনীয়। এবার সে সকল সমস্যা সমাধানে “ খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের” প্রকল্পের মাধ্যমে ঈষন্বিয় প্রচেষ্টায় বদলে যেতে শুরু করেছে প্রত্যান্ত পাহাড়ী জনপদের সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন চিত্র। স্থাপিত হয়েছে ১১ হাজার ৭৮৩টি নলকুপ। জেলার প্রায় ৬০ভাগ মানুষের সুপিয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ফলে হ্রাস পেয়েছে পানি বাহিত রোগ ডায়রিয়াসহ নানা রোগ।

এছাড়াও ২৩৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানির উৎস স্থাপন ১৫৬টি হ্যান্ড ওয়াশ ও ১০৬টি ওয়াশ ব্লক নির্মাণের ফলে হাজারো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিশুদ্ধ-সুপেয় পানির পাশাপাশি স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্রিন নিশ্চিত হয়েছে ইতিমধ্যেই। ৬ মাস আগেও খাগড়াছড়ির গোলাকানা গ্রামে আজ থেকে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ছিল না। এ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতো পাহাড়ী ছড়া, কুয়া, ঝর্ণা ও প্রাকৃতিক উৎসের পানি। এতে করে এলাকাবাসী ডায়রিয়াসহ পানি বাহিত রোগে নানা রোগক্রান্ত হতো।

সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকটি নুলকুপ স্থাপন করে পাল্টে দিয়েছে সে চিত্র। এখন সে গ্রামের হাজরো মানুষের বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির ব্যবহার করছে। অপরদিকে ১৬টি বাজারে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ মোট ৬৬টি বাজারে পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ সব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯৩ কোটি টাকা। আর প্রকল্প বাস্তবায়নে সুফল পাচ্ছে সুবিধা বঞ্চিত প্রত্যন্ত জনপদে হত-দরিদ্র লাখ মানুষ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

পেরাছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী সুর্পনা জানায় হ্যান্ড ওয়াশ ও ওয়াশ ব্লক নির্মিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা সুপেয় পানি ও মান সম্মত ল্যাট্টিন ব্যবহার করে উপকার পাচ্ছে। পেরাছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুরভী চাকমা বলেন, হ্যান্ড ওয়াশ ও ওয়াশ ব্লক নির্মিত হওয়ায় বিদ্যালয়ে দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের স্কুল ফাঁকি ও অসুখ-বিসূখ কমেছে। প্রত্যন্ত গোলাকানা গ্রামে বয়োবৃদ্ধ কমল কৃঞ্চ চাকমা বলেন, গত ছয় মাস আগেও এ গ্রামের মেয়েরা কয়েক কিলোমিটার দুর থেকে কষ্ট করে পানি আনতে হতো। এখন গ্রামে নলকূপ স্থাপিত হওয়ায় সে কষ্ট কমেছে। আগে পাহাড়ী ছড়া,কুয়া ও ঝর্ণা থেকে গ্রামবাসী পানি সংগ্রহ করে খেতো জানিয়ে একই গ্রামের সূচনা চাকমা বলেন, এতে করে ডায়রিয়াসহ নানা পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হতো তবে নলকূপ স্থাপিত হওয়ার তা কমেছে।

খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো: আশরাফুল ইসলাম জানান, খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খাগড়াছড়ি জেলায় শতভাগ মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির আওতায় আনতে জেলার ৫৮টি গ্রামে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও ৬৫ বাজারে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে। চলতি অর্থ বছরে আরো ৪০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক, ৩৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হ্যান্ড ওয়াশ নির্মাণ করা হবে বলে তিনি জানান।

About admin

Leave a Reply