মৃত্যু ফাঁদ থেকে যাত্রীদের রক্ষায় সওজ’র উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:: পাহাড় বেষ্টিত আঁকা-বাঁকা সবুজ সড়কের নৈসর্গিক মনোরম দৃশ্য দেখলে মন হারাবে যে কেউ। তবে সে সড়কেই লুকিয়ে আছে নতুন এক মৃত্যু ফাঁদ। আর সে ফাঁদ হচ্ছে সবুজ সড়কের দু’পাশের এলোমেলা ভাবে বেড়ে উঠা ঘন জঙ্গল ভরা ঝোপ-ঝাড়।

বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে সড়ক ও জনপদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টায় সড়ক যোগাযোগে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও এখনো থামেনী দূর্ঘটনা। সাপের মত ঝুঁকিপূর্ণ আঁকা-বাঁকা সড়কে দুপাশের ঘন (অরন্য বা জঙ্গল) ঝোপ-ঝাড়ের ফলে সড়কে যানবাহন চলাচলে দূর্ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। এক টার্নিং থেকে অন্য টার্নিং দেখা না যাওয়ার ফলে দূর্ঘটনা ও প্রাণহানী যেন একে অপরের সঙ্গি হয়ে দাড়িছে এসব সড়কে।

এ অবস্থায় খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগ দূর্ঘটনা রোধে নিয়েছে নতুন উদ্যোগ। পর্যটন শহর খাগড়াছড়িতে নির্বিগ্নে যাতায়াতে লক্ষে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা যানবাহন চলাচলে ঝুঁকিমুক্ত করতে পরিস্কার করা হচ্ছে সড়কের দুই পাশের ঘন (জঙ্গল) ঝোপ-ঝাড়। খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রাম সড়কে ৬৩ কিলোমিটার ও খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে ২০ কিলোমিটার, মহালছড়ি সড়কে ২৩ কিলোমিটার ঝোপ-ঝাড় পরিস্কার করা হচ্ছে। এতে করে সড়কে দূর্ঘটনা যাবে বনবাসে। যানবাহন হবে ঝুঁকিমুক্ত। প্রাণ হানির হাত থেকে রক্ষা পাবে সাধারণ যাত্রীরা।

পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন সড়ক ধরে যাওয়া দীঘিনালা যাত্রী পথচারী ইসমাইল ও চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক মোহন শিকদার জানান, পূর্বের এ সড়ক ছিল আতঙ্কের। বাসযোগে যাতায়াতে ভালো ভাবে রাস্তার দুপাশে দেখা না যাওয়ায় দূর্ঘটনার ভয়ে সড়ক পাড়ি দিতে হোত। বর্তমানে সে আতঙ্ক আর নেই। এ সময় পথচারীরা এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তায় সড়কে নেওয়া এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, সড়ক যোগাযোগে আরো পরিবর্তনের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছনো আরো সহজ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তারই অংশ হিসেবে সড়ক ও জনপদ বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, সড়ক ও জনপদ সাধারণ মানুষের কষ্ট লাগবে সব সময় আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে দূর্ঘটনা প্রতিরোধে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপদের এ ধরনের প্রচেষ্টা আগামীতে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *