মানিকছড়ি আ.লীগের কাউন্সিলকে ঘিরে সরগরম

নুরুল আলম,:: খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি– বার্ষিক কাউন্সিলকে ঘিরে জমে উঠেছে প্রচার প্রচারণা। আসন্ন কাউন্সিলে দুর্দিনের সেই কান্ডারীদের আবারও শীর্ষপদ-পদবীতে বহাল রাখতে ইতোমধ্যে তৃণমূল থেকে জোর দাবী উঠছে। কাউন্সিলকে ঘিরে উপজেলা সদরে শীর্ষ দুই নেতা সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈন উদ্দীনকে স্বপদে বহাল রাখতে শতশত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিল বোর্ডে সয়লাব করা হয়েছে। এদিকে ২২ আগস্ট বিকালে দলের জরুরী বৈঠকে আসন্ন সম্মেলকে ঘিরে প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মানিকছড়ি রাজনীতির অঙ্গনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ৩ যুগে পর্দাপণ করেছে। ১৯৮৩ সালে তৎকালীণ আ.লীগ নেতা মরহুম খান মুকবুল আহম্মদ(সভাপতি) এবং এস.এম. গিয়াস উদ্দীন (সাধারণ সম্পাদক) এর হাত ধরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শানুসারীরা রাজনীতি শুরু করেন।
প্রথমে পাহাড়ের এ জনপদে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ না থাকায় দল গোছাতে তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি তাঁদের। কালের আর্বতে দেশের রাজনীতিতে যখন প্রতিপক্ষ দল সৃষ্টি, সামরিক সরকার গঠন এবং পরবর্তীতে ক্ষমতার পালাবদলে দলের দুঃসময়ে আ.লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের তরুণ নেতা-কর্মীরা রাজপথ দখলে এগিয়ে আসে। স্বৈরশাসক এবং বিএনপি’র আমলে প্রশাসনিক বাধাঁ-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে দলে যারা অবদান রেখেছেন দল তাঁদেরকে পদ-পদবীতে রেখে মূল্যায়ণও করে আসছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩-২০১৯ মানিকছড়ি আওয়ামীলীগ রাজনীতির ৩ যুগ। এ দীর্ঘ সময়ে কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে ৫বার। ১৯৮৩-১৯৯৬ পর্যন্ত দুই মেয়াদে সভাপতি হিসেবে দাড়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীণ আ.লীগ নেতা মরহুম খান মুকবুল আহম্মদ। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এস.এম. গিয়াস উদ্দীন ও মো.সফিউল আলম চৌধুরী। ১৯৯৬ সালে দলের ৩য় কাউন্সিলে সভাপতি পদে আসেন সাবেক উপজাতী নেতা ও শিক্ষক এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ¤্রাগ্য মারমা। সাধারণ সম্পাদক পদে আসেন তরুণ ছাত্রনেতা ও শিক্ষক এম.এ. জব্বার। ১৯৯৬-২০১২ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁরা দুই মেয়াদে দল পরিচালনা করেন। এর পর ২৯ এপ্রিল ২০১২ তারিখে অনুষ্টিত হয় দলের ৫ম কাউন্সিল।
এ কাউন্সিলে শীর্ষপদে (সভাপতি) আসেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ নেতা ও তরুণ শিক্ষিত যুবক মো. জয়নাল আবেদীন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে আসেন তৎকালীন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে(১৯৯০সালে) রাজপথ কাপানো এবং ২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে উপজেলায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে রাজপথে নেতৃত্বদানকারী তরুণ ছাত্রনেতা ও নির্বাচিত ছাত্রলীগ সভাপতি মো. মাঈন উদ্দীন। শীর্ষ এ দুই পদে, দুই কান্ডারী যুবলীগ ও ছাত্রলীগ থেকে সরাসরি মূলদলের অভিভাবক হয়ে(২০১২-২০১৯)দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর দল পরিচালনা করেন।
তৃণমূল আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং অঙ্গসংগঠনের সকল নেতা-কর্মীদের দাবী এ সময়ে (২০১২-২০১৯) তৃণমূলে দল সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়েছে। জনপদে সরকারের ব্যাপক উনয়নের পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীরা পেয়েছে মূল্যায়ণ। দলের কোথাও পাওয়া না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস নেই, অভিমান নেই, অবমূল্যায়ণের অভিযোগ নেই। সবাইকে তুষ্ট রেখে দল পরিচালনায় অবদান রাখায় আসন্ন কাউন্সিলে অন্তত সভাপতি ও সম্পাদক পদে এখনো পর্যন্ত কেউই প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছ প্রকাশ করেনি।
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রোজ শুক্রবার বাদ জুমা(সম্ভাব্য তারিখ) উপজেলা টাউন হল চত্বরে জমকালো অয়োজনে দলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিলের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। দলীয় অফিস চত্বর, দোকান-পাট, রাস্তা-ঘাট ও জনসমাগমস্থলের পরতে পরতে দৃশ্যমান হয়েছে এ দুই নেতার গুনগান সম্বিলিত ফেস্টুন, ব্যানার, বিল বোর্ড। অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এসব দৃশ্য দেখেই প্রতিয়মান হচ্ছে আসন্ন কাউন্সিলে অন্তত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কেউই প্রার্থী হচ্ছে না।
কাউন্সিলের আর মাত্র বাকি কয়েক দিন। কাউন্সিলের সংবাদ জানাজানির ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন প্রার্থীর নাম নেতা-কর্মীদের জল্পনা-কল্পনায় আসেনি। সর্বশেষ ২২ আগস্ট বিকালে কাউন্সিলকে ঘিরে দলের বিশেষ বৈঠক অনুষ্টিত হয়। বৈঠকে একবাক্যে, একসূরে সকলে বর্তমান কমিটি পূর্ণবহালের জোর দাবী জানান। ফলে আসন্ন কাউন্সিল সম্পন্ন করতে দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান ফারুককে আহ্বায়ক ও দলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈন উদ্দীনকে সদস্য সচিব ঘোষণা করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ১২৪ জন, উপজেলার ৬০ জন( মৃত.৭জন ব্যতিত) এবং কো-অপশন ১৫জনসহ মোট ১৯৯ জন ভোটার পূর্বের ৬৭ সদস্যে স্থলে নতুন গঠনতন্ত্রের আলোকে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ভোট প্রদান করবেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈন উদ্দীন এক বাক্যে বলেন, জীবনে শুরু থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে আদর্শিত হয়ে‘বঙ্গবন্ধু’র ক্ষুধা ও দরিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে দলের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে চেষ্টা করেছি মাত্র। আশা করি দলের তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারবো। আবারও দায়িত্ব পেলে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে নিজেকে দলের জন্য আরো উৎসর্গ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *