ব্রেকিং নিউজ
Home » পার্বত্য চট্টগ্রাম » জালিয়াপাড়া যোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করতে জোট বেঁধেছে ব্যবসায়ীরা

জালিয়াপাড়া যোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করতে জোট বেঁধেছে ব্যবসায়ীরা

মাইন উদ্দিন বাবলু, গুইমারা:::গুইমারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জালিয়াপাড়া বাজার। একদিকে ফেনীর রামগড়, পার্বত্য অঞ্চলের- চট্টগ্রামের থেকে খাগড়াছড়ি মহালছড়ি লক্ষ্মীছড়ি বাজারের সংযোগ স্থল হওয়ায় জালিয়াপাড়া বাজার প্রচীন আমল থেকে ব্যবসা বানিজ্যে সব সময় জমজমাট। জালিয়াপাড়া বাজার কমিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হয়েছে। আগামী ১৮ অক্টোবর ১৭২ ভোটার প্রত্যক্ষ ভোটে আগামী ২বছরের জন্য তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। একটি বাজারের নির্বাচনকে ঘিরে এত উৎসাহ উদ্দীপনা আগে কখনো দেখা যায়নি।নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর বাজারের ব্যবসায়ীরা দুই বছর পর বাজারের উন্নয়নের জন্য ভোট দিয়ে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবে এ আনন্দে নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন উজ্জীবিত হয়েছেন । আশপাশের সাধারণ মানুষের মাঝেও দেখা দিয়েছে ভোটের আমেজ। চা-দোকানসহ বাজারের সর্বত্র লোকজনের আলোচনার খোরাক হয়েছে নির্বাচন। কে কোন দলের, কার সাথে প্রশাসনের ভালো সম্পর্ক, কাকে ভোট দিলে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে থাকবে,যিনি বিজয়ী হয়ে ব্যবসায়ীদের বিপদে পাশে থাকবেন। কাকে নির্বাচিত করলে দূর্নীতিমুক্ত থেকে বাজারের উন্নয়ন করবে এসব আলোচনাই ভোটরদের মুখে মুখে। দলীয় পরিচয়, আত্মীয়তা, বন্ধুবান্ধব না দেখে ব্যবসায়ীরা এবার যোগ্যতার মূল্যায়ন করে বাজারো নতুন নেতৃত্ব করবে এরকম ইঙ্গিত দিয়েছেন বেশীরভাগ ব্যবসায়ী। ২টি পদে ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনে মোট ১৭২ জন ব্যবসায়ী তাদের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সভাপতি ১, সম্পাদক ১, ২টি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং নতুন কমিটি করার লক্ষ্যে ইউপি সদস্য আরমান হোসাইনকে আহ্বায়ক ও আলাউদ্দীন আরিফকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সাময়িক কমিটি নির্বাচনী তফসিল ও বিভিন্ন প্রকৃয়ার মাধ্যমে আগামী ১৮ অক্টোবর বাজার পরিচালনা কমিটি নির্বাচনের তারিখ ধার্য্য করেন।

বাজার কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থীতা করছেন তিন জন, মোঃ ইউনুছ হাওলাদার মার্কা ছাতা,মোঃ মাসুদ রানা মার্কা চেয়ার,ও মোঃ আনোয়ার হোসেন মার্কা আনারস।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী দুই জন, মোঃ জামাল উদ্দীন মার্কা মাছ, মোঃ শহীদুল ইসলাম মার্কা মোরগ।

এছাঢ়াও সহ-সভপতি, সাংগঠনিক সম্পাদক, কোষাদক্ষ, সহ-সম্পাদ ও কার্যনির্বাহী সদস্য পদে অনেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতা ফরম সংগ্রহ করেছেন।

প্রার্থীরা বলেন, আমি এ বাজারের একজন ব্যবসায়ী হিসাবে মনে করি, দীর্ঘদিন ধরে বাজারটি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। অবহেলায় অভিভাবক হীন প্রচীন এ বাজারটি তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা অরক্ষিত। বাজারের ব্যবসায়ীরা অপশক্তির কাছে জিন্মি। সেই অপশক্তির হাত থেকে ব্যবসায়ীদের উদ্ধার, বাজারে ব্যবসাবান্ধব শান্তিপূর্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা ও মাষ্টার প্লান করে পরিকল্পিত উন্নয়নের শপথ নিয়ে আমি সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছি। আমি প্রার্থী হওয়ায় বাজারের ব্যবসায়ী ভোটাররা উজ্জিবীত হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে, বাজারের পরিষ্কার পরিচ্চন্নতা, জলাবদ্ধতা নিরসন, পর্যাপ্ত সৌচাগার নির্মান, বাজারে ময়লা-অবর্জনার নির্দিষ্ট ডাস্টবিন স্থাপন , নতুন ড্রেন নির্মান, বাজারের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা প্রদানে নৈশ প্রহরী নিয়োগ, সবজি তরকারী ও মাছ- মাংশের আলাদা সেড নির্মান, প্রশাসনের সহযোগিতায় সুশাসন ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাজার কমিটির স্থায়ী অফিস স্থাপন, ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে বাজারের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহন করাসহ বাজারের সার্বিক উন্নয়নে মাষ্টার প্লান গ্রহন করবো। কয়েকজন প্রবীন ব্যবসায়ী জানান,আমরােএ বাজারের প্রবীন ব্যবসায়ী অনেক উত্থান- পতন দেখেছি। নির্বাচন এলে প্রার্থীরা অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলে ভোটের পরে কথা রাখেনা। তাই এবার বুজেশুনে ব্যবসায়ীরা জোট বেঁধে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যোগ্যতাসম্পন্ন নেতাকেই বিজয়ী করবো। বাজারের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা বলে পরিবর্তনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্যান্য প্রার্থীরাও ব্যবসায়ীদের কাছে ভোট ও দোয়া কামনা করছেন । সকাল থেকে রাত অবধি প্রার্থী ও সমর্থকরা ছুটছেন এক দোকান থেকে আরেক দোকানে।

জালিয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়াতে উন্নয়ন বঞ্চিত ছিলো ঐতিহ্যবাহী বাজারটি। অবশেষে ব্যবসায়ীদের সহায়তায় নতুন করে বাজারে নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাজারে নতুন নেতৃত্ব আসবে যারা আগামী দিনে বাজারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

About admin

Leave a Reply