গুইমারায় ধর্ষিতাকে ধর্ষকের পরিবারের হাতে তুলে দিল ওসি

নরুল আলম:: খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় এক ধর্ষিতা নারীকে ধর্ষকের পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ বিদ্যুৎ কুমার বড়–য়া। বিষয়টি এককান-দুকান হয়ে পাড়া মহল্লা ছাড়িয়ে চায়ের দোকানেও আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত ২০ নভেম্বর বুধবার রাতে গুইমারা বাজরপাড়ায় সাইদুল হকের ভাড়া বাসায় থাকা এক মহিলা ডাক্তার, শহিদুল্লা নামক এক ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালকের দ্বারা ধর্ষিত হয়। অভিযুক্ত শহিদুল্লা গুইমারা উপজেলার রেনুডেবা এলাকার আব্দুল বারেকের ছোট ছেলে।
ঘটনার ৬ দিন অতিবাহিত হলেও অধ্যবদি থানায় কোনো মামলা করার সুযোগ পায়নি ধর্ষিতা। ধর্ষিতার ভাষ্যমতে, বারবার ন্যায় বিচারের আশায় থানায় ধর্ণা দিলেও বিভিন্ন অযুহাতে মামলানেয়নি ওসি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্ষকের পরিবারের সাথে আতাত করে ধর্ষিতাকে কৌশলে ধর্ষকের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ধর্ষিতা, ধর্ষক শহিদুল্লার মামা ইঞ্জিনিয়ার বেলালের বাসায় দীর্ঘ ৫ দিন যাবৎ জিম্মী থাকলেও কোনো প্রকারের ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা প্রশাসন।
সরেজমিনে তদন্তে ধর্ষিতার থানায় যাওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়। এর পর শুক্রবার বিকাল থেকে ধর্ষিতার কোনো প্রকার খোজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিশেষে রাত্রে ধর্ষিতা চলে যাওয়ার সময় ধর্ষক শহিদুল্লা তাকে রামগড় থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে বলে ধর্ষকের মামার বক্তব্যে জানা যায়। কিন্তু ধর্ষিতার ফোন আলাপে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সে কোথাও পালিয়ে যায়নি, তাকে ধর্ষকের মামা ইঞ্জিনিয়ার বেলালের বাসায় আটক করে রাখা হয়েছে।
এইদিকে, গুইমারা থানায় দফায় দফায় গিয়েও কেন ঔষধ দোকানদার (ধর্ষিত মহিলা) অভিযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে তা নিয়ে এলাকায় নানান গুনঞ্জন ছড়িয়ে পরেছে। বিষয়টি এককান-দুকান হয়ে পাড়া মহল্লা ছাড়িয়ে চায়ের দোকানেও আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ধর্ষিতাকে আটক করে রাখা হয়েছে কিনা ধর্ষকের চাচা ইঞ্জিনিয়ার বেলালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাউকে আটক করে রাখিনি। থানার ওসির মধ্যস্থতায় ওসি নিজেই মেয়েকে আমার হাতে তুলে দিয়েছেন। মেয়ে বর্তমানে আমার বাড়িতে হেফাজতে আছে। মেয়ে পক্ষের লোক জন আসলে সামাজিক ভাবে বসে উল্ল্যেখিত ঘটনার সমাধান করবো।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালা উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমার দৃষ্টি গোচর হওয়ার সাথে সাথে আমি গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নিদের্শ দিয়েছে ।
বিষয়েটি সম্পর্কে জানতে চাইলে গুইমারা থানার অফিসার ইনর্চাজ বিদ্যুৎ কুমার বড়–য়া তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। ধর্ষিতা মেয়েটি আমার কাছে ১ ঘণ্টার সময় চেয়ে নিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে আবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে এসে কিছুক্ষণ বসে থেকে চলে যায়। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। ধর্ষিতা বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারবেলালের বাসায় জিম্মি রয়েছে জানালে  তিনি বলেন, সেটা আমার বিষয় নয়, সব বিষয় আমারদেখার সময় নাই। আমার কাছে আসলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *