মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে রমরমা বাণিজ্য

প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মাটিরাঙ্গায় বিকল্প গ্যাস পাম্প যজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:: নাম তার খায়রুজ্জামান বিটু। করেন অবৈধ ব্যবসা। তার পরও বিন্দু মাত্রও ভয় থাক দুরের কথা আইনের প্রতি শ্রদ্ধার স্থলে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মাটিরাঙ্গার বাইল্যাছড়ি-রসুলপুর “চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি” সড়কের পাশে টিনের ঘেরা দিয়ে গড়ে তুলেছেন অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প গ্যাস ব্যবসা।

করো অনুমতি না নিলেও আইনের প্রতি তোয়াক্কায় করেন না খায়রুজ্জামান বিটু। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বিগত ২ বছরের বেশি সময় ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন এ অবৈধ ব্যবসা। ব্যবসার স্থান পাল্টালেও পাল্টায়নি তার প্রভাবশালী দাম্ভিকতা আর প্রশাসনকে জড়িয়ে বিরুপ মন্তব্য করা।

 

গ্যাস লোড দেওয়ার প্রস্তুতি

অবৈধ এই বিকল্প এই এলপি গ্যাস পাম্প নামের বিকল্প কর্মযজ্ঞ দীর্ঘ দুই বছরের ও অধিক সময় ধরে চললেও এই বিটুর বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি আইনি ব্যবস্থা। ফলে প্রভাবশালী খায়রুজ্জামান বিটু ক্ষমতার দাপটে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে এলপি গ্যাস ব্যবসা করে যাচ্ছে বলে জোর গলায় মন্তব্য করে যাচ্ছে। এটি কোন পাম্প না হলেও বিকল্প গ্যাস পাম্প এর নামে সিলিÐার থেকে বিভিন্ন গাড়ী সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছে এ বিপদজনক গ্যাস।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, খায়রুজ্জামান বিটু অবৈধ এই ব্যবসা করে গাড়ী-বাড়ী ও জায়গা-সম্পদসহ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। গত দুই বছর ধরে এলপি গ্যাসের অবৈধ ব্যবসা প্রথমে মাটিরাঙ্গা সদরে জল পাহাড়ের পিছনে শুরু করলেও তৎকালীন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি জানতে পেরে, অবৈধ এলপি গ্যাসের ব্যবসা বন্ধ করে দেন।

পরবর্তীতে আবার সে প্রশাসনের চোখে ধুলা দিয়ে মাটিরাঙ্গা সদর থেকে দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে,প্রশাসনের চোখের আড়ালে এ ব্যবসা শুরু করে। প্রতিদিন অবাধে চলছে সিএনজি, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার’এ অবৈধভাবে এলপি গ্যাস লোডের কর্মযজ্ঞ।

খাগড়াছড়ি জেলার কয়েকটি এলাকায় ঝুঁকি নিয়েই অবৈধভাবে চলছে দেখার কেউ নেই এসব কর্মকান্ড। ব্যবহৃত এলপিজি’তে থাকে মূলত প্রোপেন বা বুটেন। এই গ্যাস সহজে বাতাসে মিশতে চায় না। তার উপর এই গ্যাস সামান্য বাতাসের সংস্পর্শে জ্বলতে সক্ষম। কিন্তু খাগড়াছড়ি জেলায় অধিকাংশ সিএনজি, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার চলছে এলপিজি গ্যাস দিয়ে। এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তায় চলছে গাড়ি।

অবৈধ বিকল্প গ্যাস পাম্পের মালিক খায়রুজ্জামান বিটু’র সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সকল প্রশাসনসহ সকলকে ম্যানেজ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শামসুদ্দীন জানান, অবৈধ ভাবে যদি কোন ব্যক্তি এলপি গ্যাসের ব্যবসা করে, তাহলে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৃলা দেব জানান, বাইল্যাছড়িতে অবৈধভাবে এলপি গ্যাস সরবরাহ করে থাকলে, খোঁজ-খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *