শতভাগ নিরাপত্তা ও সুষ্ঠ বিচার দাবী চন্দ্রিকার

স্ত্রীর হাজারো অভিযোগ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু চাকমার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:: কুড়িগ্রামের আলোচিত নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মারধর, যৌতুক দাবীসহ হত্যার চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্ত্রী চন্দ্রিকা চাকমা। মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় তার এক মাত্র কণ্যা সন্তান তোপজ্যোতি চাকমা তার সাথে ছিলেন।

বিভিন্ন সময় স্বামী রিন্টু বিকাশ চাকমা কর্তৃক নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী চন্দ্রিকা চাকমা জানান, গত ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার আমতলীপাড়া গ্রামের অক্ষয়মণি চাকমার ছেলে রিন্টু বিকাশ চাকমার সঙ্গে চন্দ্রিকা চাকমার প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে নানা অজুহাতে যৌতুক দাবি করে রিন্টু চাকমা। এক পর্যায়ে সুখের খোঁজে চাকরীর জন্য মোটা অঙ্কের অর্থও তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। সে পরে আবারো যৌতুক দাবী করলে না দেওয়ায় চন্দ্রিকা চাকমাকে প্রায় নির্যাতনসহ শরীরে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়াও সকল স্থানে রিন্টু বিকাশ চাকমা তার ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারের করে চলেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিন্টু বিকাশ চাকমা বিসিএস ভাইভা’র আগে চাকরির জন্য ঘুষ দেওয়ার কথা বলে আরো পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে চন্দ্রিকার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালান বলেও জানান তিনি। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে চন্দ্রিকা চাকমা সুষ্ঠ বিচার ও নিজের ও সন্তানের শতভাগ নিরাপত্তা ও স্ত্রীর পূর্ণ মর্যাদার সাথে রিন্টু বিকাশের সংসার করতে চান বলে জানান।

চন্দ্রিকা চাকমা গত ১৫ অক্টোবর ২০২০ তারিখে খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্টাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২০ ইং (সংশোধিত ২০০৩ ইং) এর ১১ (গ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। মঙ্গলবার (১লা ডিসেম্বর ২০২০ মামলার রায়ের লক্ষে শুনানির কথা থাকলেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা রিন্টু বিকাশ চাকমা নির্ধারীত তারিখের আগের দিন গতকাল আদালত থেকে জামিন নেন।

প্রসঙ্গত: রিন্টু বিকাশ চাকমা ২০১৭ সালে ৩৫ তম বিসিএস (প্রশাসন) এ উত্তীর্ণ হন এবং বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত। বর্তমানে রিন্টু বিকাশ চাকমার ৬ বছরের একটি কণ্যা সন্তান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *