আজ ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ৩রা অক্টোবর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

দুঃসময়ের বঙ্গবন্ধুর এক ত্যাগী সৈনিক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু


নিজস্ব প্রতিবেদক:: আনোয়ার হোসেন বাচ্চু। যিনি ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বড় হয়েছেন। মনেপ্রাণে ভালবাসেন বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে। শিক্ষাজীবন থেকে অদ্যবধি নিঃস্বার্থ ভাবে আওয়ামী লীগের জন্যই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানেও তার ব্যাতিক্রম নেই। শত কাজের ব্যস্ততার মাঝেও রাজনীতিতে সময় দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা তার। কথা হয় এই আওয়ামী লীগ প্রেমী ত্যাগী সাবেক ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন বাচ্চুর সাথে। তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে স্মৃতিচারণ করেন দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের সাথে তার জড়িত থাকার কিছু স্মৃতিকথা।

তিনি জানান, এরশাদ পতনের আগ মুহুর্তে দেশ সফরের অংশ হিসেবে চন্দ্রঘোনায় জননেত্রী শেখ হাসিনা এসেছিলেন একটি সভা করার জন্য। কিন্তু তৎকালীন কর্তৃপক্ষ কেপিএম এলাকায় সভাটি করতে দেয়নি। পরবর্তীতে ওইসময়ে কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক আওয়ামী লীগ পাগল আনোয়ার হোসেন বাচ্চু ও তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এম ইসমাইল ফরিদ, সভাপতি মরহুম শহীদুল আলম,যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল আওয়াল মাসুদ সহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক জনগণের উপস্থিতিতে বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জনসভার আয়োজন করা হয়। যেখানে জননেত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন। সে সময় এই সাবেক ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলিষ্ঠ ভ‚মিকা পালন করেছেন।

এরপর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে কেপিএম সোনালী ব্যাংক মাঠে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ওই জনসভায় সঞ্চালনা করেছিলেন আরেকজন আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারী কাপ্তাই থানা আওয়ামী লীগের সেসময়ের সাধারন সম্পাদক এম ইসমাইল ফরিদ। সভাপতিত্ব করেন মরহুম শহীদুল আলম।

সভায় গুরুত্বপ‚র্ণ দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন থানা আওয়ামী লীগ যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল আওয়াল মাসুদ। এবং সম্প‚র্ণ জনসভাটির আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন থানা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু। সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করা হলেও মঞ্চসজ্জা সহ আনুসাঙ্গিক খরচসমুহ দলীয় ভাবে পরিশোধ করা সম্বব হয়নি বিদায় তৎকালীন মিল কর্তৃপক্ষ জনসভার মঞ্চ সজ্জার যাবতীয় খরচসমৃহ আনোয়ার হোসেন বাচ্চুর মাসিক বেতন থেকে কর্তনের নির্দেশ দেয়। যার স‚ত্রনং:- কেপিএম/ এলডি /৩০/পি/ ৯১(১১৮৪)। এতেও তার কোন দুঃখ কিংবা আক্ষেপ ছিলনা। পরবর্তীতে একইভাবে ১৯৯৬ সালে অপর এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয় বড়ইছড়ি স্টেডিয়ামে। সেখানেও তৎকালীন এসকল নেতার ভ‚মিকা ছিলো অগ্রগন্য।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এই প্রতিবেদককে আনোয়ার হোসেন বাচ্চু তার দুঃসময়ের নানা যন্ত্রনার কিছু কথা তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগ করতে গিয়ে তাকে নানা জুলুম নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে। কিন্তু দল থেকে কখনো কিছু না পেয়েও দলের সাথে নিবেদিত হয়ে কাজ করেছেন এবং এখনো করছেন। ১৯৯১ সালে যখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসে তখন এই সাবেক ছাত্রনেতা বাচ্চুকে কেপিএম থেকে খুলনা নিউজ প্রিন্টে বদলী করে দেওয়া হয়। তার অপরাধ ছিলো কেবল তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ ৮ মাস পর কেপিএমে এলেও তাকে চাকরিতে যোগদান থেকে প্রায় একবছর বিরত রাখে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে তৎকালীন কেপিএমের এমডি ক্যাপ্টেন ইসহাক সাহেব কেপিএম হতে তাকে চট্টগ্রামস্থ সদরঘাট অফিসে বদলী করে। শেষে ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে তখন পুনরায় কেপিএমে বদলী হওয়ার সুযোগ পান তিনি। দীর্ঘ বছর ধরে নানা বঞ্চনা শয্য করেও রাজনীতি থেকে পিছু হটেননি এই ত্যাগী সাবেক ছাত্রনেতা।

বর্তমানে আনোয়ার হোসেন বাচ্চু চাকরি করার পাশাপাশি রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও কেপিএম সিবিএ’র সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। কেপিএমের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, একসময় সোনালী দিন ছিলো এশিয়ার বিখ্যাত কেপিএমের। যখন শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ছিল প্রায় ৫ হাজার। তখন লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে কেপিএম ছিল দেশের শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বর্তমানে স্থায়ী শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও ঠিকাদার শ্রমিক সহ সর্বসাকুল্যে কর্মজীবীর সংখ্যা মাত্র
৫শ’। এখন আগের সেই জৌলুশ আর নেই কেপিএমে। বর্তমানে ৩-৪ মাস পর একবার বেতন হয় মিলের কর্মজীবীদের। এমতাবস্থায় সংসার খরচ সহ সন্তানদের পড়ালেখা চালাতে মারাত্বক ভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পদ-পদবীর কারণে কোথাও হাতপাতাও সম্ভব হয়না। অথচ অভাব লেগেই আছে। তিনি কর্ণফুলী পেপার মিলের প‚র্বের জৌলুশ ফিরিয়ে আনতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, কেপিএম এখনো অনেক সম্ভাবনাময়। অর্থ সহযোগীতা ও সঠিক পরিকল্পনা পেলে এই কেপিএম আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে তার বিশ্বাস।

এদিকে, আনোয়ার হোসেন বাচ্চুর রাজনৈতিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ১৯৮১ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত তিনি কাপ্তাই থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন, এরপর রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক, কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সহ দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ বর্তমানে তিনি রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদে বলবৎ আছেন। আগামী ২৪ মে’-২২ রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের জেলা সম্মেলন। এবারও এই ত্যাগী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক আনোয়ার হোসেন বাচ্চুকে একটি গুরুত্বপ‚র্ণ পদে দেখতে চায় দলের তৃণম‚লের কর্মীরা।

এ বিভাগের আরোও..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরোও..
error: Content is protected !!