পাহাড়ের অশান্ত হয়ে উঠেছে আবার হত্যা খুন জ্বালাও পোরাও সহ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে তা কি বন্ধ হবেনা

ডেস্ক রিপোর্ট: মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (অব.), বীর প্রতীক ইউনিয়ন যুবলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার চারটি গ্রামে অন্তত ২০০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এইরূপ অগ্নিসংযোগ ও নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচারের ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি, নয়ন হত্যারও। এই অপহরণ ও হত্যাকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাহাড়ের অশান্ত হয়ে উঠেছে আবার হত্যা খুন জ্বালাও পোরাও সহ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে তা কি বন্ধ হবেনা। বিভিন্ন সময়ে অপহরণ, গুম, হত্যা বাঙালিদের নিয়ে যাওয়া এবং মেরে ফেলা হয়। আবার অপর পক্ষের পাহাড়িদের বাড়িতেও আগুন লেগে যায়। এই ঘটনাগুলো বন্ধ করার নিরীক্ষে যে পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন সেই বিষয়ে সরকার আন্তরিক নয়। প্রায় ২০ বছর ধরে পাহাড়ের আঞ্চলিক পরিষদ নির্বাচনবিহীন অবস্থায় রয়েছে।পাহাড়ের জেলা পরিষদগুলো চলছে মননোয়নের ভিত্তিতে অর্থাৎ জনগণকতৃক কোনো প্রতিনিধি স্থানীয় সরকারে নেই। ফলে এই সমস্যা আন্তরিকভাবে সমাধানের কোনো পরিবেশ নেই। সেখানে বাঙালি ও সাধারণ পাহাড়ি জনগণ কষ্টে আছে। কারণ সাবেক শান্তিবাহিনী এবং সাবেক ও বর্তমান ইউপিডিএফ-এর সন্ত্রাসীগণ অস্ত্রের মুখে সমস্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি করে বেড়ায় এবং তাদের এই চাঁদাবাজিতে কেউ সহায়তা না করলে তার উপর তারা নির্মম অত্যাচার করে। সরকারকে এ বিষয়ে আরও কঠোর এবং আন্তরিক হতে হবে। জোর জবর দস্তি না করে সার্বিকভাবে সেখানকার পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতে হবে। সেনাবাহিনীকে সেখানে কাজে লাগাতে হবে, যাতে করে পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটে। পৃথিবীর নিকট আমাদের লজ্জা এসব কার্যকলাপের জন্য। আমরা বাঙালিদের নিরাপত্তা চাই, একই সঙ্গে পাহাড়িদের নিরাপত্তাও চাই। এই ঘটনা সাম্প্রদায়িকতার পর্যায়ে পড়ে না। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার যে পরিবেশ-পরিস্থিতি তার সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ পরিস্থিতির কোনো মিল নেই, এটা সম্পূর্ণ আলাদা।পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়টির সঙ্গে নিরাপত্তা এবং তার অন্তর্নিহিত কারণগুলো জড়িত। ওই অঞ্চলে একদা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন প্রবল ছিল। তাদের পাঁচ দফা দাবি ছিল। যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ফেডারেশন গঠন করতে চেয়েছিল। এসব দাবি-দাওয়া থেকে তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পিছু হটেনি। এখানে সশস্ত্র সংগঠন বিদ্যমান। পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ব দিকে, উত্তর দিকে এবং দক্ষিণ পূর্ব দিকে সর্বত্রই বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিদ্যমান। সেখানে আমাদের নিরাপত্তা বিশেষ একটি দৃষ্টিভঙ্গি রাখে। তার সঙ্গে যুক্ত হয় গৌণভাবে সাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলাদেশের অনেকেই জানেন না, এখন থেকে পঁচিশ বছর আগে সেখানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ছিল ওই ওলাকার মূল জনসংখ্যার ১% বা ২%। বর্তমানে সেই জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭% থেকে ১৮%। মানুষ মনে করে এখানে মুসলমানের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে, আসলে তা সঠিক নয়। এখানে উপজাতীয়, বৌদ্ধ এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কনভার্ট করে খ্রিস্টান বানানো হচ্ছে। এ বিষয়গুলোর উপর সবার দৃষ্টি আশা করছি। সরকারকে কঠোর এবং একই সঙ্গে আন্তরিকতার সঙ্গে সমস্যার সমাধান করতে হবে। সমস্যা সমাধানে আমাদেরও সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। পরিচিতি: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। মতামত গ্রহণ সাগর গনিসূত্র: আমাদের সময় কম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *