ব্রেকিং নিউজ
Home » আলোচিত বাংলাদেশ » খাগড়াছড়িতে গৃহবধূ শিরিনা হত্যা মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ

খাগড়াছড়িতে গৃহবধূ শিরিনা হত্যা মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়িতে বখাটে মো: নিজাম উদ্দিনের পরকীয়ায় বলি গৃহবধূ শিরিনা আক্তার শিরিন হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি অভিযোগ উঠেছে। আলোচিত এ ঘটনার পর থেকে আসামী আটক হলেও শঙ্কিত শিরিনের পরিবার, হত্যাকারী প্রভাবশালী হওয়ায় আতংকে দিন কাটছে বাদীর পরিবারের।

মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিয়েও নানা আশঙ্কায় শিরিনের পরিবার। ঘটনার চার মাস অতিক্রান্ত হলেও এখনো ময়না তদন্তে রিপোর্ট জমা হয়নি এখনো। সে সাথে আদালতে দাখিল হয়নি অভিযোগপত্র। হত্যাকারী নানা কৌশলের জামিনের বের হওয়ার চেষ্টা চলছে।

গত বছরের ৩ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার খাগড়াছড়ি শহরের শাল বাগানে এ হত্যাকান্ড ঘটে। শিরিনের পিতা মো: তাজুল ইসলামের অভিযোগ, মাদকাসক্ত স্বামী পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় তার মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। স্ত্রীকে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ঘাতক স্বামী নিজাম উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে পরিবারের সদস্যরা।

৪ অক্টোবর শিরিনা আক্তার শিরিন পিতা মো: তাজুল ইসলাম খাগড়াছড়ি সদর থানায়(মামলা নং ০৩,তারিখ-০৪-১০-২০১৮ ইং ধারা ৩০২ দ:বি) দায়ের করে। শিরিনা আক্তার শিরিন হত্যার বিচার দাবীতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালিত হয়।

জানা গেছে, এ হত্যা মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন, এসআই লিটন চাকমা। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন,এসআই মো: ইকবাল হোসেন ভূইয়া। মালার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা লিটন চাকমা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার দাখিলকৃত প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলেন,আসামী হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে মর্মে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

ঘটনার পর খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, রাতে খবর পেয়ে পুলিশ নিজাম উদ্দিনকে আটক করা। প্রাথমিক আলামতে এটি হত্যাকান্ড বলে ধারনা করা হচ্ছে। শিরিনা আক্তারকে আবু ড্রাইভারের বখাটে ছেলে নিজাম উদ্দিন অপহরণ করে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করে।

এ নিয়ে থানায় সাধারন ডায়েরীও হয়। পরবর্তিতে পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি তাজুল ইসলাম মেনে নেয়। ঠিকাদার তাজুল ইসলাম জানান, মেয়ের সুখের কথা ভেবে শহরের শাল বাগান এলাকায় মেয়ের স্বামী নিজাম উদ্দিনকে ১০ শতক জমি কিনে সেখানে বাড়ী করে দেয়। পরবর্তিতে গাড়ীও কিনে দেওয়া হয়।

শিরিনা আক্তারের মা মোর্শেদা বেগম, মেয়ে হত্যার বিচার দাবী করে বলেন, মাদকাসক্ত তার মেয়ের সাথে প্রায় ঝগড়া-বিবাদ করতো। ঐ মধ্যরাতেও দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। স্ত্রীকে হত্যার পর ঐদিন রাত দেড় টার দিকে নিজাম উদ্দিন এক বছরের শিশু কন্যাকে নিয়ে এসে বলে, তার স্ত্রী অসুস্থ। সন্দেহজনক হওয়ায় নিজাম উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে বাসায় গিয়ে দেখে শিরিনা আক্তরের লাশ উদ্ধার করে।

মামলার বাদী মো: তাজুল ইসলামের অভিযোগ, হত্যাকান্ডের দীর্ঘ চার মাস সময় পার হলেও আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেনি পুলিশ। হত্যাকারী প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি-ধমকি দিচ্ছে এবং জামিনের চেষ্টা করছে বলে জানান।

বাদীপক্ষের আইনজীবি এডভোটেক জসিম উদ্দিন জানান, তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল না করায় বিচার কাজ বিলম্ব হচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: ইকবাল হোসেন ভূইয়া জানান,ময়না তদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়ায় অভিযোগপত্র দিতে দেরী হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়ন ময় ত্রিপুরা বলেন, শিরিনা আক্তার শিরিনের মৃত্যুর ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পক্রিয়াধীন রয়েছে। খুব শীঘ্রই জমা দেওয়া হবে। গৃহবধূ শিরিনা আক্তার শিরিন হত্যাকান্ডের দ্রæত বিচার দাবী জানিয়ে এলাকাবাসী।

Leave a Reply

%d bloggers like this: