ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » রাজনীতি মাঠে আ’লীগের সরব নেতা এসএম সফি আর ফিরবেনা

রাজনীতি মাঠে আ’লীগের সরব নেতা এসএম সফি আর ফিরবেনা

আল-মামুন,খাগড়াছড়ি:: রাজনীতির মাঠে আর ফিরবেনা খাগড়াছড়ির সরব রাজনৈতিক অভিভাবক এসএম সফি। দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকা এ বষীয়ান নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় পারি দিয়েছে না ফেরার দেশে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এস এম শফির ছোট ছেলে প্রকৌশলী এস এম নাজিম উদ্দিন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে ২ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।

শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সেবামুলক কর্মকাণ্ডের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তাঁর দুটি কিডনিই ৯৫% অকেজো হয়ে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীসহ ইতিমধ্যে তার চিকিৎসার দায়িত্ব ভার নিলেও হার্ডের সমস্যা,ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে শারিরীক শঙ্কটের কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে দুটি কিডনি ডায়ালিসিস করেই সময় যাচ্ছিল জীবনের শেষ সময়টুকু। দুটি কিডনির মধ্যে অন্তত একটি হলেও প্রতিস্থাপন করানোর কথা থাকলেও তা আর হয়ে উঠেনি।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এস এম সফি জীবনের শেষ প্রান্তে দাড়িয়েও তিনি দলের জন্য নি:স্বার্থ ভাবে কাজ করে গেছেন। অসুস্থ এ মানুষটির মৃত্যুর আগে শেষ সম্ভল বলতে ভিটাবাড়ী ছাড়া আর কোন কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। সংগঠনের জন্য এ নেতার নিজেকে উজাড় করে কাজ করে গেলেও তার কাছে ছিলনা কোন লোভ-লালসা। ফলে নি:স্বার্থ মানুষটি দল ও সকলের জন্য শুধু দিয়েই গেলেন।

তার অসুস্থতার সময়ে খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম,আওয়ামীলীগ নেতা দিদারুল আলম, ক্রীড়া সংগঠক জুয়েল চাকমা ও পরিবহন সেক্টরের পক্ষ থেকে চিকিৎসাত্বে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। সে অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় অল্প হলেও চিকিৎসায় সাহায্যে মাত্রাযুক্ত হয়েছিল।

আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ ও বঙ্গবন্ধুর আর্দশের এ নেতার বেশ নাম-ডাক-খ্যাতি থাকলেও শেষ সময়টা অর্থের অভাবে কেটেছে তার। এস এম শফি বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের আগে চট্টগ্রামের ফতেপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি, জাতির জনককে হত্যার পর মদনহাটে (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা) বিক্ষোভের জেরে আরো কয়কজনের সঙ্গে তাঁর ওপরও হুলিয়া জারি করা হয়। পরে একই বছরের ২৫ আগস্ট তিনি পালিয়ে খাগড়াছড়ি আসেন। ধারাবাহিক ভাবে তিনি টানা তিনবার পৌরসভার কাউন্সিলর,উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের সদস্যও ছিলেন।

এছাড়াও তিনি ১৯৯০ সালের দিকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ২০০০ সালের পর থেকে গত বিশ বছর ধরে নিষ্ঠার সাথে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ নেতা পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বশস্ত্র সংঘাতের পথ থেকে শান্তির পথে ফিরিয়ে আনতে পার্বত্য চুক্তির পক্ষে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন এ নেতা। মাঠে সরব এ নেতা সক্রিয়তায় প্রাণ ফিরে পেয়েছিল খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: