গুইমারায় বিভিন্ন দূর্নীতি বেড়েই চলেছে!

নিজস্ব প্রতিবেদক:: খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলা প্রশাসনের ব্যর্থতায় অবৈধভাবে পাহাড় কাঁটা, বালুর উত্তলন, জুয়া, অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ, গাছ কাটাসহ বিভিন্ন দূর্নীতিকে মদত দিচ্ছে স্থানীয় একটি মহল।
গুইমারার উপজেলার বাইল্যাছড়ি ছাগলনাইয়াপাড়ায় বাইল্যাছড়ি, তৈকর্মা পাচঁ নং পোষ্ট সংলগ্ন খাল এবং সিন্দুকছড়ি বালু উত্তেলনকারী এদিকে-স্থানীয় বেশ কয়েকজন কৃষক অবৈধ ভাবে এ বালু উত্তোলনের ফলে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবী করেন।
খাগড়াছড়ি ফসলি জমিতে একের পর এক গড়ে উঠছে ইটভাটা। এ যেন ফসলি জমি কৃষির বদলে ইটভাটার রাজত্ব। এতে একের পর এক কৃষি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে ।
এলাকার স্থানীয়রা বলেন, জমির ইটভাটা হওয়ার কারণে জমিতে তেমন ফসল হয় না । তাছাড়া এই ইটভাটা গুলোতে অল্প বয়সী ছেলেরা দিয়ে ইটভাটার মালিকরা কাজ করাচ্ছে দিনের পর দিন। যা শিশুশ্রমের আইনের চোখে দন্ডনীয় অপরাধ । কৃষি জমি ও জনবসতিপূর্ণ জমিতে ইটভাটার জন্য সাধারণত ছাড়পত্র দেয়ার নিয়ম নেই। এমন কোন অভিযোগ পেলে এলাকায় গিয়ে তদন্তের সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়রা উচ্চ পর্যায়ে ইটেরভাটা বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রসাশনের সহযোগিতা নিব।
সংবাদ প্রকাশের পরও গুইমারা মেম্বার পাড়া, সিন্দুকছড়ি, চিংলি পাড়া, বড়পিলাক, কালাপানিসহ বিভিন্ন উপজেলায় কিছু পাহাড় খেকোরা সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে মাটি কেঁটে ঝুঁকি র্পূণ করছে। কিন্তু সেই সব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না।
গুইমারা উপজেলায় সরকারী টাউন হলের জায়গা (নিজের দাবী করে) দখল করতে গিয়ে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন প্রজাতির বড় গাছ কাটছিল স্থানীয় আব্দুর রহিম (লোক্ক) নামের এক ব্যক্তি। গুইমারা উপজেলার গ্রাম পুলিশ সদস্য আব্দুর রহিম সরকারি টাউন হলের জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির বড় গাছ কাটছিল। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস এর মাধ্যমে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা (ইউএনও) বিভীষন কান্তি দাশ, গুইমারা থানার ওসি বিদ্যুৎ কুমার বড়ুয়া, গুইমারা ইউপি চেয়ারম্যান মেমং মারমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় প্রশাসন তাৎক্ষনিক ভাবে কাজ বন্ধ করে দিয়ে সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা রোধ করেন এবং কর্তন করা গাছগুলো জব্দ করেন। এ সময় টাউন হলের জায়গায় আশ্রয়ে থেকে এক বৃদ্ধামহিলা গাছগুলো লাগানোর কথা জানান প্রশাসনকে। আশপাশের লোকমুখে বিষয়টির খোজ খবর নিয়ে দখলের চেষ্টাকারী আব্দুর রহিমকে শতর্ক করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বিরত না থাকলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারী জানানো হয়। সে এর আগেও একাদিক বার উক্ত জায়গা দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গুইমারা থানার ওসি বিদ্যুৎ কুমার বড়ুয়া।

গুইমারায় ‘রামসুবাজার জৈবসার জুড়ে দেওয়াসহ পরিচালনা কমিটির যে কোন সিধান্ত চুড়ান্ত বলে গন্য হবে বলে কার্ডে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামসু বাজার জৈব সার উৎপাদনকারী ক্লাবে অনুষ্ঠিত হওয়া এ লটারীতে কিছু লোভনীয় পুরস্কারের নাম প্রদর্শন করে লটারীর নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। এ সব উত্তোলিত অবৈধ লটারীর টাকায় কি করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার দাবী জানিয়ে সচেতন মহল। ইতি পূর্বেও দেওয়ান পাড়া ক্লাবে এধরনের একটি লটারীর নামে জুয়া চালিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সূত্রে জানাযায়, এ টাকার একটি অংশ সন্ত্রাসীদের কাজে ব্যবহার হয়েছে।
জুয়া পরিচালনা কমিটি সদস্যরা বলেন, ইতি পূর্বে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর রামসুবাজার সমবায় সমীতির নামে দেওয়া লটারীতে কোনো টাকা উত্তলন হচ্ছে না। যেসব টাকা উত্তলন করা হয়েছে সেগুলো ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু দেখা যায় যে কোনো গ্রাহকেরই টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। সচেতন মহলের দাবী, রামসু বাজার জৈব সার উৎপাদন সমবায় সমিতির রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করা জরুরী, তাছাড়া এ সমিতির অজুয়াতে লটারী নামের জুয়ায় এলাকাবাসী বিভিন্ন আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
গুইমারা উপজেলায় উন্নয়ন কাজে লক্ষ লক্ষ টাকা দূর্নীতির মাধ্যমে কাজ সম্পূর্ণ করে সরকারী অর্থ লুটপাট করছে এক শ্রেনীর দূর্নীতিবাজ টিকাদারেরা। এমনি একটি উন্নয়ন কাজে দূর্নীতির ঘটনা ঘটেছে গুইমারা উপজেলায়। প্রায় অর্ধ কোটি টাকারও অধিক ব্যয়ে গুইমারার-মুসলিমপাড়া হয়ে মনিপাড়া সড়কের ইট ছলিং ও ড্রেনের কাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মুসলিমপাড়া হয়ে মনিপাড়া থেকে পুশুরামঘাট যাওয়ার রাস্তাটি ইট ছলিং ও ড্রেন নির্মাণের কাজে ব্যপক অনিয়মের মাধ্যমে কাজ চলছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, নয়-ছয় করে ব্যবহার অনুপযোগী ইট-বালু দিয়ে কাজ করায় কোন উপকারেই আসবে না সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা। জানা যায়, জায়গায় রাস্তার দুই পাশে ইটের সোলিং করার জন্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকারো অধিক ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ইট ভাটা থেকে অত্যন্ত নিম্নমানের (৩ নম্বর কোয়ালিটির) ইট ক্রয় করে তা ব্যবহার করা হচ্ছে রাস্তা উন্নয়নের কাজে। পাকা সড়কের দুই পাশে ১ নম্বার ইট বিছানোর কথা থাকলেও নি¤œ মানের ইট বসানো হচ্ছে। দুই স্তরের ইট বসানোর পরে সেখানে খাটি বালু দেয়ার নিয়ম থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে ধুলা মিশ্রিত ভীট বালু। চতুর ঠিকাদার প্রতিটি ইটের মাঝে অন্তত ২ ইঞ্চি ফাঁকা রেখে তা সাথে সাথে মাটি দিয়ে ঢেকে ফেলছে। এমনিভাবে নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে দ্রুত শেষ করা হচ্ছে এই সড়ক উন্নয়নের কাজ। পাবর্ত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অর্থায়নের এই সড়কের কাজ চলছে
গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তুষার আহম্মেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ বালু উত্তলন করা হচ্ছে। তা পরিহার করে সরকার যাতে রাজস্ব পায় জনগন যাতে বালু দিয়ে উন্নয়ন মুলক কাজ করতে পারে সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব। এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাব চন্দ্র বিশ্বস বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ খবর নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। গুইমারা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজ ও অবৈধ বালু উত্তলন ও উপরোক্ত বিষয়গুলো উপজেলা নিবার্হী অফিসার কে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *