গুইমারাসহ বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক নামে ক্ষমতা দেখিয়ে উন্নয়নমূলক কাজে বাঁধা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: গুইমারাসহ বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক নামে ক্ষমতা দেখিয়ে উন্নয়নমূলক কাজে বাঁধা। এরা বিভিন্ন প্রতারণার ফাঁদ পেতে এবং তথাকথিত সংগঠনের সদস্য-সমর্থকরা নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নিরীহ লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাংবাদিক পরিচয়ে এরা চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সড়কের উন্নয়নমূলক কাজে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে। চাঁদা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে বিভিন্ন কৌশলে উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়ার জন্য ভুয়া তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। এরা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ‘প্রেস’ কিংবা ‘সংবাদপত্র’ লিখে পুলিশের সামনে দিয়ে নির্বিঘ্নে দাবড়ে বেড়ায়। এদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনও থাকে চোরাই এবং সম্পূর্ণ কাগজপত্রবিহীন।

কিছু অসাধু পাচারকারী চক্র যানবাহনে পাচারকালীন সময়ে পুলিশের কাছে আটক হলে, তাদেরকে বিভিন্ন কৌশলে বাঁচিয়ে নিতে সহযোগীতা করে।

স্থানীয়দের মতে, ধর্ষণ মামলার আসামীকে বাঁচাতে সহযোগীতা করাসহ নানা অপকর্ম করছে। এই কারণে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি এখন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে করে পেশাদার সাংবাদিকরা আজ নিজেদের সাংবাদিক বলে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেন।

ফলে অলিতে গলিতে গজিয়ে উঠেছে নাম সর্বস্ব ভুয়া সংগঠন ও অপ-সাংবাদিক। যার মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এমনকি দুয়েকজন সাংবাদিক বিভিন্ন স্থানে বলে বেড়ায়, ছয়টি বাড়ি, নয়টি গাড়ি ও বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কর্তা-ব্যক্তিরা তাদের আত্মীয় স্বজন, যে কোন প্রকার সমস্যা হলে সমাধান করে দিবে বলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সমাধান করতে ব্যর্থ হলে, তার প্রতিবাদ করলে এই চক্রটি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে থাকে।

এই চক্রটি তাদের বিভিন্ন অপকর্মের কাজে সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে থাকে এবং কর্তা-ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে, বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকে।

খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উন্নয়নমূলক কাজে ড্রেন, কালভার্ট ও পিচ ঢালাইয়ের কাজে অনিয়ম হচ্ছে বলে দাবী করে তারা প্রতিদিন দুইজন টিভি চ্যানেল-এর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে, চাঁদা দাবী করারও অভিযোগ উঠেছে। উন্নয়ন কাজে কর্মরত ঠিকাদারের তদারককারীদের মতে, তারা ঠিকভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া কাজে দুই নাম্বারী বা অনিয়ম হলে সড়ক ও জনপথের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা। কিন্তু এভাবে হয়রানি করলে উন্নয়নমূলক কাজে নানা ব্যাঘাত ঘটে।

এই বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, বিষয়টি কর্মরত ঠিকাদারদের দুয়েকজনের কাছে শুনেছি। হয়রানি করার বিষয়টি সঠিক প্রমাণিত হলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ।

সাংবাদিকদের নামে প্রতারণার জাল
কোনো এক ছড়াকার টিটকারির সুরেই ছন্দ মিলিয়ে লিখেছেন, ‘হঠাৎ করে এই শহরে এলো যে এক সাংবাদিক, কথায় কথায় তোলে ছবি ভাবখানা তার সাংঘাতিক। তিলকে সে বানায় তাল-তালকে আবার তিল, চড়ুইকে সে পেঁচা বানায় কাককে বানায় চিল। পুলিশ দেখে মুখ লুকিয়ে পালায় দিগি¦দিক, সবাই বলে লোকটা নাকি ভুয়া সাংবাদিক।’ পেশাদার সম্মানিত সাংবাদিকদের জন্য বিষয়টি লজ্জাকর হলেও ছড়া ছন্দের মতই এই সাংবাদিকরা বেহাল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ফেলেছে।

তাদের দরকারে নিজেদের প্রভাব দেখিয়ে, আতংক ছড়িয়ে টুপাইস কামিয়ে নেয়া। টাকা পকেটে না আসা পর্যন্ত চিল্লাপাল্লা, হুমকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শনের সব কান্ডই ঘটিয়ে থাকেন তারা। এদের দৌরাত্ম্য নতুন নয়, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়ে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *