অপহরণের ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ; ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ভূক্তভোগীদের

বিশেষ প্রতিবেদন :: খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলা ও বিভিন্ন উপজেলার মহাসড়কে চলছে চাঁদাবাজী, অপহরণ, মাদক দ্রব্য পাচারসহ অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়েই চলেছে। তা প্রতিরোধে র‌্যাব ও ডিবি পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থা অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ও সরকার প্রধান ঘোষিত জিরো টলারেন্সে আসা সম্ভব এবং এসকল মাদক পাচার, সেবন ও অপহরণকারীরা বিভিন্ন কায়দায় সড়কপথে পুলিশের সোর্স হিসেবে নাম ধারণ করে এক শ্রেণির দুষ্টচক্র কৌশলে টাকা-পয়সার লোভে অপহরণ করে মুক্তিপণ, মোটরসাইকেল আটক করে চাঁদাবাজী, ভূমি দখল, জালিয়াতি, প্রভাব বিস্তার করে হুমকি দিয়ে স্বার্থ হাসিল করছে একটি মহল।

সম্প্রতি খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলা হাফছড়ি ইউনিয়নের হাতিমুড়া এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (১৮) নামক এক মোটরসাইকেল ড্রাইভারকে ভাড়ার কথা বলে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ রাতে অপহরণ করার পর, মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছে। অপহরণের ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ; ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ভূক্তভোগীদের।

জানা যায়, একই এলাকার ইয়াবা পাচার ও ডাকাতি মামলার আসামী ইমরান হোসেন এ অপহরণ করে। মুক্তি পেয়ে ভূক্তভোগীরা অপহরণের ঘটনা বর্ণনা দেয়। অপহৃত আরিফ হোসেন হাতিমুড়া এলাকার মোস্তফা মিয়া’র ছোট ছেলে।

উল্লেখ্য যে, ঘটনার আগে অপহরণকারী ইমরান হোসেন, ভাড়ায় আরিফ হোসেনের মোটরসাইকেল নিয়ে ইয়াবা সংগ্রহের কাজে গুইমারা সদরে গিয়েছিলো। তারপর রাতে ইমরান হোসেন, আরিফ হোসেনের মোটরসাইকেল ভাড়া করে তাকে চট্টগ্রাম মহাসড়কের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম থেকে আসা অপরিচিত আরো তিনজন লোকসহ হাতিমুড়া এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়, লোকগুলো রাতেই একটি সিএনজি রিজার্ভ করে চলে যেতে দেখেছে এলাকাবাসী।

অপহরণ করার পর ইমরান হোসেন অপহৃত আরিফ হোসেনের মোবাইল থেকে তার বাসায় কল দিয়ে, ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে এবং টাকা না পেলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অপহৃতর পরিবারের সদস্যরা জানায়। সে বড়দিঘীর পাড় জিম্মি অবস্থায় আছে বলে মোবাইলে জানায় এবং বিকাশে টাকা পাঠাতে বলে। পরে অপহরণকারী’র বড় ভাই জাহিদুল, অপহরণকারী ইমরানের সাথে যোগাযোগ করে, আরিফ হোসেনকে উদ্ধার করার জন্য তার পিতা মোস্তফা মিয়া ও মামা আকবর আলী’কে নিয়ে চট্টগ্রাম বড়দিঘীর পাড়ে তাকে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ঐ চক্র থেকে তাকে উদ্ধার করে। কিন্তু ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ তার মোটরসাইকেল ছাড়ানোর জন্য আলাদাভাবে পুনরায় ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এদিকে ইমরান পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে মোটা অংকের টাকা আয় করছে।

যেমন, গত ৩১ মার্চ’২০২০ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামে পুলিশ পরিচয়ে দোকান ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আটক হওয়া ব্যক্তি ছদ্মনাম ও পরিচয় ব্যবহার করে এবং তার সাথে চাঁদা আদায়ের জন্য বিভিন্ন লোককে ব্যবহার করে। সোহেল রানা পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে, বিভিন্ন লোকজন ও ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান ব্যক্তিদের থেকে মোটা অংকের টাকা দাবী করে সোর্স মারফত আদায় করে। তবে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সোহেল রানা সিএমপির কনস্টেবল। তাঁর কনস্টেবল নম্বর- ৪৮৫৩ বলে জানা যায়। এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে, সোহেল রানা প্রথমে দোকানীদেরকে সিদ্ধান্ত অমান্য করে দোকান খোলা রাখার কারণ জানতে চান। এতে ভয় পেয়ে দোকানদাররা পালিয়ে যান। পরে তিনি দোকানগুলোর ক্যাশবাক্সে হাত দিয়ে টাকা-পয়সা নিতে শুরু করেন। এতে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে লোকজন জড়ো হয়ে সোহেলসহ তিনজনকেই ধরে ফেলেন। অপর দুজন হলেন গাড়িচালক আবদুল মোনাফ ও পুলিশের তথ্যদাতা ইমরান হোসেন। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে রাতেই পুলিশ এসে তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।

সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, সোহেল রানা পুলিশ সদস্য কি না নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাঁরা বিষয়টি যাচাই করে দেখছেন। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৮ হাজার ৬৫ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *